বার্ড ফ্লু ঠেকাতে টিকা আসতে চলেছে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বার্ড ফ্লু ভাইরাস কি মানুষের শরীরেও হানা দিতে পারে? এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সেটাই। বছর খানেক ধরে বার্ড ফ্লু যে ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে উদ্বেগ অনেকখানিই বেড়েছে। বিশ্বের নানা দেশে, এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও বার্ড ফ্লু ভাইরাসে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। হাঁস, মুরগির খামারে বার্ড ফ্লু ভাইরাস ছড়ায়, এটাই জানা ছিল এত দিন। মাঝেমধ্যে পরিযায়ী পাখিদের মৃত্যুর খবরও যে প্রকাশ্যে আসে না, তা নয়। তবে এখন বার্ড ফ্লু এত ভয়ঙ্কর ভাবে ছড়াচ্ছে যে পশুপাখিরা তো বটেই, মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করা সহজ নয়। অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা এইচ৫এন১ ভাইরাস খুব দ্রুত তাদের চরিত্র বদলে ফেলছে বলে জানা গিয়েছে। এক প্রকার প্রতিষেধকে তাদের দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই মেসেঞ্জার আরএনএ বা ‘এমআরএনএ’ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে বার্ড ফ্লু প্রতিরোধী টিকা তৈরি করেছে আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্না।
‘বার্ড ফ্লু’ ভাইরাস যে প্রচণ্ড ছোঁয়াচে, তাতে কোনও সন্দেহই নেই। খামারে একটি হাঁস বা মুরগির শরীরে ভাইরাস ঢুকলে, কিছু দিনেই খামারের পর খামারে মড়ক লেগে যায়। আবার পরিযায়ী পাখিরাও সেই দূর দেশ থেকে ভাইরাস বয়ে নিয়ে আসে। তাদের সংস্পর্শে এসেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসে আক্রান্ত পাখির সংস্পর্শে এলে অন্য প্রাণীও এর দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। তবে মানুষের দেহে এই ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা কম বলেই জানা ছিল এত দিন। কিন্তু ভাইরাস সে ক্ষমতাও অর্জন করে ফেলেছে। আক্রান্তের হাঁচি, কাশি, থুতু-লালা, মলমূত্রের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরেও চট করে ঢুকে যেতে পারে ভাইরাস। হাঁস, মুরগির খামারে যাঁরা কাজ করেন অথবা পাখির কাঁচা মাংস বিক্রি করেন, তাঁদের ভয় বেশি। বাড়ির পোষা পাখিরও সংক্রমণ হতে পারে ও সেখান থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। সে কারণে ইনফ্লুয়েঞ্জার এই প্রতিরূপকে প্রতিরোধ করার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই বেড়েছে।
মডার্না জানিয়েছে, তাদের তৈরি এমআরএনএ-১০১৮ টিকাটির অন্তিম পর্বের ট্রায়াল চলছে। প্রায় হাজার চারেক ব্যক্তির উপরে টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর পরে আরও বেশি জনের শরীরে টিকাটির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। সব ঠিক থাকলে খুব দ্রুত টিকাটি বাজারে নিয়ে আসার জন্য অনুমোদন চাওয়া হবে।
ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধী টিকা বাজারে আগে থেকেই আছে। তবে মডার্না জানিয়েছে, এই টিকাটি কেবল বার্ড ফ্লু ভাইরাস নয়, ইনফ্লুয়েঞ্জার আরও অনেক সংক্রামক উপরূপকে কাবু করতে পারবে। ভারতে এখনও পর্যন্ত দুই ধরনের বার্ড ফ্লু তথা অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছে— এইচ৫এন১ এবং এইচ৭এন৯। দুই উপরূপই ছোঁয়াচে। তবে টিকাটি দেওয়া থাকলে, ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে বলেই দাবি করা হয়েছে।