আবিরের গন্ধেও কি মাথায় যন্ত্রণা হয়? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বসন্তের আবহে চারিদিকে রঙের মেলা। নানা রঙের আবির, পিচকারি, মুখোশের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেছেন দোকানিরা। রঙের উৎসব একরাশ আনন্দই বয়ে আনে। তবে তা কারও কারও কাছে বিষাদেরও হয়ে উঠতে পারে। রাসায়নিক মেশানো রঙের চড়া গন্ধ, উচ্চৈঃস্বরে বাজতে থাকা গান এবং অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া— সব মিলিয়ে দোল উৎসব মাইগ্রেনের রোগীদের জন্য কষ্টদায়কও হয়ে উঠতে পারে। সামান্য অসতর্কতায় সারা দিনের আনন্দ বদলে যেতে পারে নিদারুণ মাথা যন্ত্রণায়। মাইগ্রেনের ব্যথা এক বার শুরু হলে, তা কমার নয়। তাই সতর্ক থাকতে হবে সব সময়ে।
দোলের সঙ্গে মাইগ্রেনের কী সম্পর্ক?
রং ছাড়া তো আর রঙের উৎসব হয় না। আর যত গন্ডগোল এই রঙেই। দোকান থেকে কেনা সিন্থেটিক আবির আর নানা রকম রঙে এমন সব বিষাক্ত রাসায়নিক এবং ভারী ধাতু থাকে, যা সরাসরি ত্বক, চোখ ও শ্বাসযন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে। চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানান, মাইগ্রেনের রোগীদের ক্ষেত্রে এই রাসায়নিকগুলির তীব্র গন্ধ নাসারন্ধ্রের মাধ্যমে ভিতরে গিয়ে মস্তিষ্কের রক্তনালি ও স্নায়ুকে উত্তেজিত করে তোলে। ফলে প্রদাহ অনেকখানি বেড়ে যায়, যা তীব্র মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে।
কোন রঙের কী রাসায়নিক ক্ষতিকর:
সবুজ রঙে থাকে কপার সালফেট যা চোখে গেলে চোখ জ্বালা হয়। এর তীব্র গন্ধে মাথা ব্যথা হতে পারে। মাইগ্রেনের সমস্যা না থাকলেও এই রাসায়নিকটির ঝাঁঝাঁলো গন্ধে শরীরে অস্বস্তি হতে পারে।
বেগনি রঙে থাকে ক্রোমিয়াম আয়োডাইড যা খুবই বিষাক্ত। এই রাসায়নিক চোখ-মুখ দিয়ে শরীরে ঢুকলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এটি সাইনাসের সমস্যা, মাইগ্রেনের ব্যথাও বাড়িয়ে দিতে পারে।
রুপোলি রঙের মধ্যে থাকে অ্যালুমিনিয়াম ব্রোমাইড নামে এক ধরনের রাসায়নিক যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এই রাসায়নিকটি সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে যা থেকে মাথা ব্যথা তো বটেই, আরও নানা শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ত্বকের জন্যও ক্ষতিকর এই রাসায়নিক।
কালো বা কালচে খয়েরি রঙে থাকে লেড অক্সাইড বা সিসা। এটি মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় ঘটাতে পারে। স্নায়ুর উপরেও প্রভাব ফেলে এই রাসায়নিক।
লাল রঙে থাকে মার্কারি সালফাইড, যাতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে। এই রাসায়নিক স্নায়বিক উত্তেজনাও তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় এই রং চোখে-মুখে লেগে থাকলে, তা থেকে মাথা যন্ত্রণা, বমি ভাব আসতে পারে।
জলশূন্যতাও মাইগ্রেনের কারণ
দোলের আনন্দে মেতে দীর্ঘ সময়ে জল না খেয়ে থাকলে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়ে যেতে পারে। রোদে দীর্ঘ ক্ষণ রং খেললে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে। এতেও সমস্যা হতে পারে।
শব্দের তীব্রতা
মাইগ্রেন রোগীদের শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা থাকে। তাই একটানা লাউডস্পিকার বা মাইকের আাওয়াজ সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। উচ্চগ্রামে একটানা গান বা আওয়াজ কানে ঢুকলে, মাথায় যন্ত্রণা শুরু হতে পারে।
সাবধানে থাকার উপায়
দোলের সময় গরম বাড়তে শুরু করে। রোদে দীর্ঘ ক্ষণ না থাকাই ভাল। দোল খেলার মাঝেও কিছু ক্ষণ পর পর জল, ডাবের জল বা ওআরএস খেলে উপকার পাবেন।
দোকান থেকে কেনা রঙের বদলে ভেষজ আবির বা প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। তীব্র গন্ধযুক্ত রং এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে পারেন।
মাথায় টুপি বা রোদচশমা ব্যবহার করুন। সরাসরি কড়া রোদ থেকে চোখ ও মাথা বাঁচালে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
উৎসবের হুজুগে দুপুরের খাওয়া বা সকালের জলখাবারে দেরি করবেন না। খালি পেটে দীর্ঘ সময় থাকলে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়তে পারে।
দোল খেলুন, তবে মাইগ্রেন থাকলে ভাঙ বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলি ব্যথা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বেশি চিনি দেওয়া মিষ্টি শরবতও খাবেন না।
শব্দের তীব্রতা যেখানে বেশি, সেখানে বেশি ক্ষণ না থাকাই ভাল। বরং নিরিবিলি জায়গা বেছে নিন।