লেজ়ার হেডব্যান্ড পরলেই ব্রেন স্ট্রোকের ভয় কমবে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রক্তচাপ মাপা বা সুগার মাপা এখন জলভাত হয়ে গিয়েছে। এমন যন্ত্র বেরিয়েছে, যা দিয়ে বাড়িতেই মেপে নেওয়া যায় সুগার বা প্রেশার। ব্রেন স্ট্রোকের জন্যও কিন্তু তেমন যন্ত্র এসে গিয়েছে। স্ট্রোক খুবই ভয়াবহ অসুখ। তা আগে থেকে ধরতে পারা সহজ নয়। যদিও কিছু উপসর্গ ফুটে ওঠে শরীরে, তবে তা বুঝে সতর্ক হওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কিন্তু লেজ়ার হেডব্যান্ড তা পারবে। এ জন্য কোনও রক্তপরীক্ষার প্রয়োজন নেই, শরীরে সুচ ফোটানোর দরকারও নেই। শুধু একটি হেডব্যান্ড মাথায় পরে নিতে হবে। তাতেই ধরা পড়বে, মস্তিষ্কের ভিতরে কী গোলমাল বাধছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং কেক স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষকেরা এমন এক হেডব্যান্ড তৈরি করেছেন, যা মাথায় পরে নিলেই নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। সেটি ‘নন-ইনভেসিভ’ অর্থাৎ, শরীরে কোনও ছিদ্র বা কাটাছেঁড়া না করেই পরা যাবে। যে ভাবে হেডফোন পরে গান শোনা হয়, সে ভাবেই পরে নিতে হবে যন্ত্রটি। তাতে এমন সেন্সর বসানো আছে যা মস্তিষ্কের ভিতরের কোষ ও স্নায়ুর ভিতরে নিরন্তর ঘটে চলা বদলগুলি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। মস্তিষ্কের ভিতরে কোথাও রক্তজমাট বাঁধছে কি না, তা-ও ধরা পড়বে এই যন্ত্রে।
পরিধানযোগ্য ডিভাইসটি মূলত ইনফ্রারেড লেজ়ার রশ্মির উপর ভিত্তি করে কাজ করবে। সুবিধা হল এটি তারহীন, মাথায় পরে যে কোনও জায়গায় যাওয়া যাবে। রোগীকে কোনও বড় মেশিনের সামনে বসে থাকতে হবে না।
কী ভাবে কাজ করবে যন্ত্রটি?
লেজ়ার হেডব্যান্ড মাথায় পরে নিতে হবে। এতে লাগানো সেন্সরের মধ্যে দিয়ে লেজ়ার রশ্মি মস্তিষ্কের ভিতরে ঢুকবে। ডিভাইসটিতে থাকবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা, যা লেজ়ার রশ্মির গতি দেখবে ও তথ্য সংগ্রহ করবে। মস্তিষ্কের রক্তনালির ভিতরে কী ভাবে রক্ত চলাচল করছে, কোথাও রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি আছে কি না, তা ধরা পড়বে লেজ়ার রশ্মির চলাচলের ধরন দেখেই। সেই তথ্য রেকর্ড করে নেবে যন্ত্রটি। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, হেডব্যান্ডটি মাথায় পরে কিছু ক্ষণ শ্বাস বন্ধ রাখতে হবে যাতে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব তৈরি হয়। ওই সময়ে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের গতি বাড়বে। আর সেই গতি দেখেই যন্ত্রটি তার কাজ শুরু করবে। সুস্থ মানুষের মস্তিষ্কের রক্তনালি নমনীয় হয়, রক্ত চলাচল দ্রুত হতে পারে। কিন্তু ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকলে রক্তনালি শক্ত হয়ে যাবে এবং রক্তপ্রবাহের গতিতেও বদল আসবে। সেই বদলই লক্ষ করবে লেজ়ার হেডব্যান্ড।
প্রাথমিক ভাবে ৫০০ জনকে লেজ়ার ব্যান্ড পরিয়ে সেটি কেমন ভাবে কাজ করছে তা দেখেছেন গবেষকেরা। নির্ভুল তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি। আগামী দিনে এটির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জুড়ে দিয়ে সেটি বাজারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এর পর থেকে সাধারণ রক্তপরীক্ষার মতো লেজ়ার হেডব্যান্ড পরিয়ে ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটা, সে পরীক্ষাও করা হবে। সে ক্ষেত্রে খরচসাপেক্ষ এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের বিকল্প হিসেবেও এটিকে ব্যবহার করা যেতে পারে।