US Iran Conflict

‘ইউ-টার্ন’ নেবে আমেরিকা? মাটিতে মিশবে তেহরান? না কি হবে আরব মুলুকের ‘বেতাজ বাদশা’! কী কী হতে পারে ইরান যুদ্ধের শেষে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান। যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক দেশে জ্বালানি এখন অগ্নিমূল্য। বাদ পড়েনি আমেরিকাও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪৮
Share:
০১ ১৮

দু’-তিন সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে তাদের অভিযান শেষ করবে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার তেমনটাই ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, ওই দু’-তিন সপ্তাহের মধ্যেই পতন হবে সাবেক পারস্য দেশটির।

০২ ১৮

গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন মার্কিন সূত্রে দাবি, এই সংঘর্ষকে আর বেশি দিন টানতে চাইছেন না ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতায় আসতে চাইছেন তিনি। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বয়ান এবং হুমকিতেও সেই ইঙ্গিতই মিলেছে। অনুমান করা হচ্ছে, সম্ভবত সেই কারণেই হরমুজ় খোলার চেয়ে যুদ্ধ গুটিয়ে আনাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

Advertisement
০৩ ১৮

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান। যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক দেশে জ্বালানি এখন অগ্নিমূল্য। বাদ পড়েনি আমেরিকাও। সেই সঙ্কট নিয়ে হোয়াইট হাউসে সরাসরি না হলেও পরোক্ষ ভাবে অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধের কারণে আমেরিকার ‘ক্ষতি’ সম্পর্কে অবগত করিয়েছেন।

০৪ ১৮

একটি অনুষ্ঠানে সেই নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমাদের ইরান ছাড়তে হবে, তা আমরা খুব শীঘ্রই করব। ওরা (ইরান) শেষ হয়ে যাবে।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘আমরা কাজ শেষ করছি। আমার মনে হয়, দুই সপ্তাহ বা তার চেয়ে দু’-এক দিন বেশি সময় লাগতে পারে।’’

০৫ ১৮

ট্রাম্প এ-ও জানিয়েছেন, মার্কিন অভিযান কখন বন্ধ হবে বা তার ভবিষ্যৎ কখনওই ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তির উপর নির্ভরশীল নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘‘যখন আমাদের মনে হবে যে, আমরা তাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রস্তর যুগে ঠেলে দিয়েছি, ওরা আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, তখনই আমরা ইরান ছেড়ে দেব।’’ ট্রাম্প বুঝিয়ে দেন, ইরান কোনও চুক্তি করুক বা না করুক, আমেরিকা তার লক্ষ্যে স্থির রয়েছে।

০৬ ১৮

ট্রাম্পের পাশাপাশি সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব তথা পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথও একই সুরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়িই যুদ্ধ শেষ হবে। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সত্যিই কি ইরান ছেড়ে পাততাড়ি গোটাবে আমেরিকা? না কি দু’-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দেবে আমেরিকা?

০৭ ১৮

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, যুদ্ধ কী ভাবে শেষ হচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করছে ইরানের অদূর ভবিষ্যৎ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে ভাগ্য নি‌র্ধারণ হবে আমেরিকারও। উঠে আসছে অনেক সম্ভাবনার কথা। কী সেই সব সম্ভাবনা?

০৮ ১৮

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আমেরিকা যদি সত্যিই ইরানকে পরাস্ত না করে দু’-তিন সপ্তাহের মধ্যে দেশটিকে আক্রমণ করা বন্ধ করে চলে যায়, তা হলে তিনটি জিনিস হতে পারে। প্রথমত, প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে সাবেক পারস্য দেশটি।

০৯ ১৮

পাশাপাশি, ব্যাপক ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে পারেন সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু মোজতবা খামেনেই। কারণ, তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা তথা তাঁর বাবা আলি খামেনেইয়ের কাছেই যাবতীয় শিক্ষা পেয়েছেন। ফলে বাবার মতোই নতুন শাসনব্যবস্থাকে আরও কড়া হাতে সামলাতে পারেন মোজতবাও।

১০ ১৮

দ্বিতীয়ত, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার আধিপত্য খতম হতে পারে বলেও মনে করছেন ওই বিশেষজ্ঞেরা। কারণ, আমেরিকার থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার শর্তেই পশ্চিম এশিয়ার কিছু দেশ তাদের মাটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গড়ার অনুমতি দিয়েছিল।

১১ ১৮

কিন্তু আমেরিকার ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও সংঘাত চলাকালীন সৌদি আরব এবং কুয়েতের মতো দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানীয় ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তছনছ হয়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। কোটি কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে দেশগুলির।

১২ ১৮

ফলে এখন আমেরিকা যদি ইরানকে একেবারে পরাস্ত না করে যুদ্ধে ইতি টানে তা হলে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে। সন্দেহ তৈরি হতে পারে তাদের ‘এক নম্বর’ শক্তিধর হওয়া নিয়ে। একাধিক দেশ থেকে সামরিক ঘাঁটিও সরাতে হতে পারে তাদের। আমেরিকার পরিবর্তে সেই জায়গায় আসতে পারে চিনের মতো শক্তিধর দেশ।

১৩ ১৮

তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা— যুদ্ধ থেকে আমেরিকা মুখ ফেরালে ইসলামীয় দুনিয়ার বেতাজ বাদশায় পরিণত হতে পারে ইরান। এ-ও প্রতিষ্ঠিত হবে, ইরানই একমাত্র ইসলামীয় দেশ যে আমেরিকার চোখে চোখ রেখে তাদের যুদ্ধ থেকে ‘ইউ-টার্ন’ নিতে বাধ্য করেছে।

১৪ ১৮

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সমস্ত মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইরানের প্রভাব মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পাবে। ইসলামীয় দেশগুলির আসল নেতা কে, তা নিয়েও দীর্ঘ দিনের বিতর্ক শেষ হতে পারে। ইরানকেই তাদের শীর্ষনেতা হিসাবে স্বীকৃতি দিতে পারে ইসলামীয় দেশগুলি।

১৫ ১৮

কিন্তু ফল যদি হয় উল্টো? অর্থাৎ, ইরানকে যদি দু’-তিন সপ্তাহের মধ্যে পরাস্ত করে সে দেশের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয় আমেরিকা, তা হলে? বিশেষজ্ঞদের মতে, তেমনটা হলে নিকট ভবিষ্যতে পৃথিবীর বুকে সহজে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না ইরান।

১৬ ১৮

আমেরিকা যদি ইরানের বর্তমান শাসকের গদি উল্টে দিতে পারে, তা হলে প্রথমেই তেহরানে নিজেদের পছন্দের শাসক বসাবে ওয়াশিংটন। এক কথায় আমেরিকার হাতের পুতুলে পরিণত হতে পারে ইরান।

১৭ ১৮

এমনকি, নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদের থেকেও অধিকার খোয়াতে পারে সাবেক পারস্য দেশটি। সে ক্ষেত্রে যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি ইরানের তেলভান্ডারের দখল চাইতে পারে। মুনাফার জন্য তা ওই দেশগুলিকে দিয়ে দিতে তেহরানকে বাধ্যও করাতে পারে আমেরিকা।

১৮ ১৮

তবে এই সব তত্ত্ব এবং সম্ভাবনা এখনও জল্পনার স্তরেই রয়েছে। ইরান এবং আমেরিকার সংঘাত দু’-তিন সপ্তাহের মধ্যে অবসান হবে কি না তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। ফলে ইরানকে পরাস্ত না করেই আমেরিকা পাততাড়ি গোটাবে না তেহরানের শেষ দেখে ছাড়বেন ট্রাম্প, তা জানা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

সব ছবি: সংগৃহীত এবং ফাইল থেকে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement