Parmeet Sethi Healthy Habit

অ্যালার্ম নয়, বিশেষ পন্থায় ঘুম ভাঙে অর্চনার স্বামীর, অভিনেতার অভ্যাস কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে জানেন?

সম্প্রতি শাহরুখ খানের সহ-অভিনেতা পারমিত শেট্টী জানালেন, ১০ বছর আগে তাঁরা মুম্বই শহর ছেড়ে মাঢ আইল্যান্ডে গিয়ে থাকেন। আর সেখানে যাওয়ার পর থেকেই অ্যালার্ম ছাড়া ঘুম ভাঙে তাঁর। এতে শরীরে কী প্রভাব পড়ছে, জানেন?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৪:৫২
Share:

কী ভাবে অ্যালার্ম ছা়ড়া ঘুম ভাঙে পারমিতের? ছবি: সংগৃহীত।

যাপনের ক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো’ নীতির দিকে ঝুঁকছে নতুন প্রজন্ম। ব্যস্ত জীবনের দৌড়ঝাঁপ, অস্বাস্থ্যকর ছোটাছুটি থেকে বিরতি চাইছেন অনেকে। তবে এই প্রবণতা আর কেবল তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আটকে নেই। এমন যাপনের স্বাদ পেতে চাইছেন মধ্যবয়স্ক থেকে প্রৌঢ়েরাও। আর সেই তালিকায় নতুন সংযোজন অভিনেতা পারমিত শেট্টী। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’র খলনায়ক ইতিমধ্যেই এমন যাপনের প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন স্বাস্থ্যে। তাঁর জৈবঘড়ির ছন্দে উন্নতি ঘটেছে। কেমন সেটি?

Advertisement

সম্প্রতি একটি ভ্লগে পারমিত জানালেন, ১০ বছর আগে তাঁরা মুম্বই শহর ছেড়ে মাঢ আইল্যান্ডে গিয়ে থাকেন। আর সেখানে যাওয়ার পর থেকেই অ্যালার্ম ছাড়া ঘুম ভাঙে তাঁর। খুব ছোট্ট পরিবর্তন, কিন্তু এই ঘটনাটি অবশ্যই সুস্বাস্থ্যের সঙ্কেতবার্তা। পারমিতের কথায় জানা গিয়েছে, ফোনের আওয়াজে নয়, পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে তাঁর। এই যাপনে অভ্যস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সকলেই টের পাচ্ছেন, প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা যেন বেড়ে গিয়েছে।

স্ত্রী অর্চনার সঙ্গে পারমিত শেট্টী। ছবি: সংগৃহীত

সকালে অ্যালার্ম বাজার আগেই ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। কারণ, ঘরে ঘরে দেখা যায়, দিন শুরু হচ্ছে মোবাইলের কর্কশ অ্যালার্মের শব্দে। কিন্তু অভিনেতার কথায়, শরীরের নিজস্ব ঘড়িই তাঁকে ঠিক সময়ে ঘুম থেকে তুলে দেয়।

Advertisement

চিকিৎসকদের মতে, কেউ যদি নিয়মিত একই সময়ে ঘুমোতে যান এবং পর্যাপ্ত ঘুম হয়, তা হলে অনেক সময়ে শরীর নিজেই নির্দিষ্ট সময়ে জেগে উঠতে শেখে। এর পিছনে কাজ করে শরীরের ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা জৈবঘড়ি। শরীরের ভিতরে একটি স্বাভাবিক সময়চক্র কাজ করে, যা ঘুম, জাগরণ, হরমোন নিঃসরণ, শরীরের তাপমাত্রা— সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এটিই ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ নামে পরিচিত। সেই ছন্দে পতন ঘটলে তবেই বাইরে থেকে প্রভাবিত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে। ব্যস্ত জীবনে যখন-তখন ঘুমোতে যাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, যখন ইচ্ছে ঘুম থেকে ওঠা ইত্যাদির কারণে জৈবঘড়িতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই অ্যালার্মের এত চাহিদা ঘরে ঘরে।

অ্য়ালার্ম কী ভাবে ক্ষতি করে? ছবি: সংগৃহীত

যখন কেউ প্রতি দিন প্রায় একই সময়ে ঘুমোতে যান ও ওঠেন, তখন শরীর সেই ছন্দের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। ফলে অ্যালার্ম ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম ভাঙতে পারে। আর সেই অভ্যাসই ধীরে ধীরে রপ্ত করেছেন পারমিত। শহুরে যাপনে যা কখনও হয়নি, শহরতলির পরিবেশে, ধীর লয়ে জীবনযাপন করে তা সম্ভব করতে পেরেছেন তিনি।

মাঝেমধ্যে অ্যালার্ম ব্যবহার করা স্বাভাবিক। তবে খুব কম ঘুমিয়ে বা গভীর ঘুমের মাঝে হঠাৎ অ্যালার্ম বেজে উঠলে শরীরের উপর চাপ পড়তে পারে। সারা দিন ঝিমুনি, ক্লান্তি, তা ছাড়া হরমোনের ভারসাম্য হারানো বা হার্টের উপর চাপও বাড়তে পারে অ্যালার্মের কারণে।

অ্যালার্ম ছাড়া জেগে ওঠা যেন শরীরের সঙ্গে এক ধরনের বোঝাপড়া তৈরি হওয়ার লক্ষণ। তবে চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আসল বিষয় হল পর্যাপ্ত ও ভাল মানের ঘুম— অ্যালার্ম থাক বা না থাক। তাই কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা দরকার জীবনে, যাতে শরীরের জৈবঘড়ি নিজের ছন্দ মতো চলার স্বাধীনতা পায়—

· প্রতি দিন একই সময়ে ঘুমোতে যাওয়া।

· রাতে মোবাইলের ব্যবহার কমানো।

· ঘুমের আগে ভারী খাবার না খাওয়া।

· দিনের বেলায় কিছুটা রোদে থাকা।

· সন্ধ্যার পরে অতিরিক্ত ক্যাফিন সেবন কমানো।

· শোয়ার ঘর ঠান্ডা ও অন্ধকার রাখা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement