শিশুকন্যাকে কী খাওয়ান উপাসনা-রাম চরণ? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাগি, জোয়ার, বাজরা ইত্যাদির জনপ্রিয়তা বেড়েছে সারা দেশে। দেশজ ‘সুপারফুড’ হিসেবে সুখ্যাতিও তৈরি হয়েছে এগুলির। এমনকি, দক্ষিণী সুপারস্টার রাম চরণ এবং তাঁর স্ত্রী উপাসনা কামিনেনি কোনিডেলাও এই খাবারের উপরই ভরসা করে রয়েছেন। সম্প্রতি উপাসনা জানিয়েছেন, চার মাসের কন্যাসন্তান ক্লিন কারাকে রাগির কাঞ্জি খাওয়ান তিনি। রোজই কোনও না কোনও রূপে রাগি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন।
শিশুর জন্যও রাগি, জোয়ার, বাজরা ইত্যাদি স্বাস্থ্যকর বলেই দাবি পুষ্টিবিদদের। দিল্লি নিবাসী গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট শুভম বাৎস্য জানাচ্ছেন, যে কোনও রূপে রাগি খাওয়া উচিত। পুষ্টিতে ভরা এই খাবার আয়রন, ক্যালশিয়াম, ফাইবার, অ্যামাইনো অ্যাসিডের দুর্দান্ত উৎস।
রাগির উপকারিতা কী? ছবি: সংগৃহীত
কী উপকারিতা রাগির?
১. রাগি হাড়ের স্বাস্থ্য যেমন ভাল রাখে, তেমনই পেশির স্বাস্থ্য, হজমক্ষমতা, রক্তে শর্করার মাত্রার দিকেও নজর দেয়।
২. রাগিতে ফাইবার ভর্তি বলে অনেক ক্ষণ পেটও ভরিয়ে রাখে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয়।
৩. রাগির দানাগুলি সহজে ভেঙে যায় বলে শিশুদের পক্ষে হজম করাও সহজ। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে শিশুদের মুক্তি দেয়।
৪. ক্যালশিয়ামে ভরপুর বলে একরত্তিদের বেড়ে ওঠার সময়ে এই ধরনের খাবার হাড়কে আরও মজবুত করতে সাহায্য করে। কেবল ১০০ গ্রাম রাগিতে প্রায় ৩০০ মিলিগ্রামের মতো ক্যালশিয়াম পাওয়া যায়।
রাগি কাঞ্জির কী উপকারিতা?
গ্রীষ্মে কাঞ্জি খাওয়ার উপকারিতা বিস্তর। মজানো পানীয় এই সময়ে অন্ত্রের জন্য খুব উপকারী, কারণ এটি প্রোবায়োটিকের কাজ করে। অন্ত্রের সমস্ত উপকারী ব্যাক্টেরিয়াকে পুষ্টির জোগান দেয়। পাশাপাশি, এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে এই ধরনের পানীয়। শরীরকে ঠান্ডা করতেও সাহায্য করে। কেবল শিশুরা কেন, বড়দের জন্যও এমন পানীয় এই সময়ে উপযুক্ত। একে মজানো পানীয়ের গুণাবলি ভর্তি, তায় আবার রাগির মতো দানাশস্যের উপস্থিতি। সব মিলিয়ে গরমে আট থেকে আশির জন্য এই পানীয় সহায় হয়ে উঠতে পারে একাধিক রোগের মোকাবিলায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, অতিরিক্ত মিষ্টি দেওয়া রাগি কাঞ্জি আবার পেটফাঁপার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তা হলে কী ভাবে বানাবেন এই পানীয়?
বড়দের জন্য এই উপায়ে বানিয়ে দেখতে পারেন—
১ চামচ রাগিতে জল মিশিয়ে মসৃণ করে মিশিয়ে নিন। অন্য দিকে, মাটির পাত্রে আধকাপ টক দই এবং দেড় কাপ জল মিশিয়ে দিন। ভাল করে মিশিয়ে নুন ও অল্প গোলমরিচ মেশাতে পারেন। এ বার এতে পুদিনাপাতা, ধনেপাতা, কাঁচালঙ্কা, আদা ও পেঁয়াজকুচি মিশিয়ে দিন। সব ভাল করে মেখে নিয়ে দু’টি মিশ্রণ মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনে জল ঢেলে নিতে পারেন আরও একটু।