কোলেস্টেরল কমানোর কী উপায়? ছবি: সংগৃহীত।
‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে কুখ্যাতি রয়েছে। রক্তপরীক্ষার পর সেই এলডিএল (লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) কোলেস্টেরলের মাত্রাই বেশি এসেছে? ওষুধের পাশাপাশি সতর্ক হওয়া দরকার খাদ্যাভ্যাস নিয়েও। ক্ষতিকর কোলেস্টেরল মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে রক্তনালিতে চর্বি জমে যেতে পারে। তাতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে সহায় হতে পারে ফলমূল। দ্রবণীয় ফাইবার (পেক্টিন), ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর ফল খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি কমতে পারে। এই উপাদানগুলি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল অন্ত্রে শোষিত হতে বাধা দেয় এবং শরীর থেকে বার করে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু সমস্যা হল, পুষ্টিবিদেরা নানা ধরনের বেরি ফল খেয়ে কোলেস্টেরল কমানোর কথা বলেন। এ দিকে, ভারতের অধিকাংশ জায়গায় এই ফল সহজলভ্য নয়। সে ক্ষেত্রে কোন ধরনের ফল খেলে কোলেস্টেরল কমতে পারে?
ফল খেলে কমবে কোলেস্টেরল। ছবি: সংগৃহীত
কোন কোন ফল খেয়ে কোলেস্টেরল কমাবেন?
· আপেল
· পেয়ারা
· কমাললেবু
· আঙুর
· পাতিলেবু
· নাশপাতি
কী ভাবে ফল খাওয়া উচিত?
রস নয়, গোটা ফল খেতে হবে। যাতে ফাইবারগুলি বাদ না যায়। তা ছাড়া যথাসম্ভব খোসা সমেত ফল খাওয়া উচিত। তবে তার আগে খুব ভাল করে ফল ধুয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া আর কোন কোন খাবার খেলে উপকৃত হবেন?
ইংল্যান্ড নিবাসী চিকিৎসক কর্ণ রাজন খাবারের তালিকা দিয়ে বলেছেন—
বীজ: বীজে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। সেগুলি অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত বীজ খেলে তা শরীরে বাড়তি চর্বি ও কোলেস্টেরল জমতে দেয় না, যার ফলে লিভার সুস্থ ও চর্বিমুক্ত থাকে। চিয়া বীজ, কুমড়োর বীজ, তিসির বীজ ইত্যাদি রাখা যেতে পারে ডায়েটে।
বিন্স ও ডালজাতীয় শস্য: এই ধরনের খাবারে এমন এক ধরনের ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রে গিয়ে উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে। যা লিভারে নতুন কোলেস্টেরল তৈরিতে বাধা দেয়। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে ভরা এই খাবারগুলি এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল শরীর থেকে বার করে দিতে সাহায্য করে।
ওট্স: বিটা-গ্লুকানে ভরপুর ওট্স প্রিবায়োটিক ফাইবার হিসেবে কাজ করে। এটি রক্ত থেকে কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে। এই দ্রবণীয় ফাইবার এক প্রকার জেলজাতীয় পদার্থ তৈরি করে পেটে গিয়ে। হজমে সাহায্যকারী পিত্তরসকে নিজের সঙ্গে আটকে শরীর থেকে বার করে দেয়। এর ফলে লিভার যখন নতুন করে পিত্তরস তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে, তখন রক্ত থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল টেনে নেয়। ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়।