Screaming Therapy

বুকের ভিতরে চাপা কষ্ট? হতাশা, রাগ মুছে ফেলার সহায় হিসাবে তৈরি হচ্ছে একাধিক ক্লাব! কী হয় তাতে

আজকের দ্রুতগতির জীবনে মানসিক চাপ প্রায় সকলেরই সঙ্গী। অনেকেই নিজের অনুভূতি ঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। তখনই সাহায্য করবে এই ধরনের ক্লাব।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৩
Share:

কোন ধরনের ক্লাবে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে? ছবি: এআই।

জমছে রাগ, দুঃখ, হতাশা। রোজ তাতে যোগ হচ্ছে আরও আরও। কিন্তু প্রকাশ করার বদলে বুকের ভিতরের সিন্দুকে তালাবন্দি করে রেখে দিচ্ছেন। তবে সেই বাক্সেরও তো ধারণক্ষমতা রয়েছে। কত দিন কষ্ট চাপতে পারবেন? একদিন তো সেটিও ফেটে বা ভেঙে বেরিয়ে পড়বে সব কিছু। তাতে মন হালকা হবে। আরাম পাবে শরীরও। কিন্তু সিন্দুক ভেঙে ফেলার উপযুক্ত সময় আর জায়গার খোঁজেই বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে। কেবল জমছে আর জমছে, কিন্তু কাঁদতে বা খুলে বলতে পারছেন না।

Advertisement

এমনই সময়ে নতুন এক ধরনের ক্লাব তৈরি হচ্ছে এরই সহায় হয়ে। নাম, 'স্ক্রিম ক্লাব'। অর্থাৎ চিৎকার করার ক্লাব। শুনে অদ্ভুত লাগছে? সে তো যখন নতুন নতুন হাসির ক্লাব শুরু হল, তখনও মানুষ চমকে গিয়েছিল। তার পর এখন পাড়ায় পাড়ায় ভোরবেলা হাসির উদ্দাম আওয়াজ আর বিকট লাগে না। তেমনই ভাবে সমাজে জায়গা করে নিচ্ছে স্ক্রিম ক্লাব।

স্ক্রিম ক্লাব আসলে কী?

Advertisement

স্ক্রিম ক্লাব হল এমন এক ধরনের গ্রুপ বা দলের বৈঠক, যেখানে মানুষ একসঙ্গে জড়ো হয়ে নিজেদের জমে থাকা আবেগ চিৎকার করে বার করে দেয়। সাধারণত পার্ক বা খোলা জায়গায় এই ধরনের জমায়েত হয়।

প্রথমে কিছু ক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করা হয়, তার পর সবাই একসঙ্গে জোরে চিৎকার করে। এই চিৎকার হতে পারে রাগ, হতাশা, দুঃখ, এমনকি আনন্দ থেকেও। অচেনা মানুষ একসঙ্গে চিৎকার করে, তার পর হাসে, কখনও কেঁদেও ফেলে।

Advertisement

আজকের দ্রুতগতির জীবনে মানসিক চাপ প্রায় সবারই সঙ্গী। অনেকেই নিজের অনুভূতি ঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। স্ক্রিম ক্লাব সেই জায়গাটাই তৈরি করছে, যেখানে বিচার নেই, লজ্জা নেই, শুধু আবেগ প্রকাশের সুযোগ আছে।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ট্রেন্ড বেশি জনপ্রিয়। কারণ তারা একা একা মানসিক চাপ সামলানোর বদলে এখন কমিউনিটি বা দলগত অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকছে।

অনেকে জানিয়েছেন, চিৎকার করার পর সঙ্গে সঙ্গে এক ধরনের হালকা লাগা বা মুক্তির অনুভূতি আসে। জমে থাকা আবেগ বেরিয়ে যাওয়ায় মানসিক চাপ কিছুটা কমে।

এর পাশাপাশি, অন্যদের সঙ্গে একসঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার ফলে এক ধরনের সংযোগও তৈরি হয়, যা একাকিত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এটি থেরাপি বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। চিৎকার সাময়িক স্বস্তি এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সমস্যার সমাধান করে না। মানসিক যত্নের একটি ছোট অংশ হিসাবে দেখা যেতে পারে মাত্র।

ভারতে এখনও 'স্ক্রিম ক্লাব' খুব প্রচলিত নয়, তবে এর সম্ভাবনা রয়েছে। শহুরে জীবনে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে এমন উদ্যোগ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement