(বাঁ দিকে) ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান এবং ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে যাচ্ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে শানুর ‘হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস’ করেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক স্তরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যেই ফলতায় বিডিও-র আসনে বসানো হয়েছিল শানুকে। যদিও ফলতার প্রাক্তন বিডিও-র দাবি, কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে ওই ‘চ্যাট’ তৈরি করা হতে পারে।
শানুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন অভিজিৎ। হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাটের কিছু অংশও পোস্ট করেছেন বিজেপি নেতা (যদিও ওই হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাটের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। দাবি করা হচ্ছে, ওই চ্যাট জাহাঙ্গির এবং প্রাক্তন বিডিও-র। ‘ফাঁস’ হওয়া ওই চ্যাটের একটি অংশে কিছু বিজ্ঞপ্তির পিডিএফ পাঠানো হয়েছে। তার পরে লেখা আছে, ‘শানু করে দিলাম। যেটা বলেছি সেটা করলাম।’ আর এক জায়গায় লেখা রয়েছে, ‘নাম না পাঠিয়ে রাখলে প্রবলেম। নাম পাঠিয়ে রাখো বস আর ডিএম কে দিয়ে না হলে হবে না।’ তার পরে একটি বাক্যের অসমাপ্ত অংশও দেখা যাচ্ছে স্ক্রিনশটে। অন্য একটি স্ক্রিনশটে লেখা আছে, ‘তুমি যা করলে আমার জন্য সত্যি এটা জীবনে ভুলব না।’ আবার একটি অংশে লেখা, ‘আজ থেকে শানু বক্সী তা হলে ফলতার বিডিও হল’।
এমন বেশ কিছু চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে এনে বিজেপি নেতার দাবি, “এই চ্যাটগুলি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আলাপচারিতা নয়। এগুলি পোস্টিংয়ে কারচুপি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর নেটওয়ার্ক, গোপন নথি প্রকাশ্যে আনা এবং প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে ‘কোঅর্ডিনেশন নেক্সাস’-এর এক ভয়ঙ্কর চিত্র সামনে এনে দেয়।” এই অভিযোগগুলির বিশদ তদন্তের দাবি তুলেছেন অভিজিৎ।
যদিও ফলতার প্রাক্তন বিডিও-র দাবি, কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে ওই চ্যাট তৈরি করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে শানু বলেন, “জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে ওটা আমার চ্যাট কি না, তা প্রমাণ করতে হবে। এআই-এর যুগে অনেক কিছু হচ্ছে। যদি প্রমাণিত হয় আমার সঙ্গে ওটা জাহাঙ্গির খানেরই মেসেজ, তা হলে আমার বিরুদ্ধে যা অ্যাকশন নেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে নেব।”