এআই দিয়ে কী ভাবে ক্যানসার ধরা পড়বে তাড়াতাড়ি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ক্যানসার কোষের বিভাজন সবে শুরু হচ্ছে। গজিয়ে উঠছে টিউমার। এমন অবস্থাতেই যদি তা চিহ্নিত করা যায়, তা হলে মারণ রোগকে আগে থেকেই জব্দ করা সম্ভব। কিন্তু সে প্রক্রিয়া জটিল এবং তাতে সাফল্য আসে না অনেক সময়েই। তবে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে যে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়, তা দেখিয়ে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিক্যাল অনকোলজির গবেষকেরা জানিয়েছেন, স্তন ক্যানসার চিহ্নিত করার যে ম্যামোগ্রাম পরীক্ষাটি রয়েছে, তার সঙ্গে এআই সংযুক্ত করে এমন এক উন্নত সংস্করণ তৈরি হয়েছে, যা আগে থেকেই ক্যানসার কোষ চিনতে পারবে। ৪০ বছরের বেশি বয়স্ক লক্ষাধিক মহিলার উপরে প্রয়োগ করে সাফল্যও এসেছে বলে দাবি।
গবেষণাটির নাম 'মাসাই ট্রায়াল'। ২০২১ সাল থেকে এর পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়। এ বছরে অনেক বেশি সংখ্যক মহিলার উপর এআই ম্যামোগ্রামের স্ক্রিনিং টেস্ট হয়। তাতেই গবেষকেরা বোঝেন যে, বাস্তবে পরীক্ষাটি কার্যকরী হবে।
ম্যামোগ্রাম হল এক ধরনের এক্স-রে পরীক্ষা। স্তনের কোন অংশের কোষের অনিয়মিত বিভাজন হচ্ছে, কোথায় মাথাচাড়া দিয়েছে টিউমার, তা ধরার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। একে ম্যামোগ্রাফি এক্স-রে টেস্টও বলে। এই এক্স-রে যন্ত্রের সঙ্গেই এআই-এর সংযুক্তি ঘটানো হয়েছে।
কী ভাবে করা হয় পরীক্ষাটি?
ম্যামোগ্রাফি স্ক্রিনিং
প্রথমে এক্স-রে স্ক্রিনিং করা হয়। তার পর কয়েক হাজার স্ক্রিনিং রিপোর্ট নিয়ে তা এআই অ্যালগরিদ্মে ফেলা হয়। এআই সফ্টঅয়্যার সেই রিপোর্টগুলি চটজলদি বিশ্লেষণ করে সুস্থ কোষ ও ক্যানসার কোষের মধ্যে পার্থক্য করে ফেলে। কোনও কোষের অনিয়মিত বিভাজন হতে পারে কি না অথবা ক্যানসার সৃষ্টিকারী টিউমার তৈরি হতে পারে কি না, তার আগাম সম্ভাবনার কথাও বলতে পারে।
রিস্ক স্কোরিং
প্রতিটি এক্স-রে রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এআই তার নানা রকম স্কোর দেয়। যদি স্কোর বেশি হয়, তা হলে বুঝতে হবে, ভয়ের কারণ আছে।
সূক্ষ্ম টিউমার কোষের শনাক্তকরণ
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র, ১.৪ মিলিমিটারেরও কম আয়তনের টিউমার শনাক্ত করতে পারবে এআই স্ক্যানার। পাশাপাশি এ-ও জানা যাবে যে, সেই টিউমারটি পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের পরিণত হবে কি না।
প্রথামত ম্যামোগ্রামের চেয়ে এআই সংযুক্ত ম্যামোগ্রাম টেস্টে ক্যানসার শনাক্তকরণে অনেকটাই সাফল্য এসেছে বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা। কারও যদি পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, তা হলে ভয় কতটা, সেটিও জানা যাবে এই পরীক্ষায়। এই পরীক্ষাটি করে এমনও দেখা গিয়েছে, প্রায় ৮১ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্যানসার একেবারে গোড়াতেই ধরা পড়েছে। আর স্তন ক্যানসার যদি গোড়াতেই ধরা পড়ে, তা হলে তার নিরাময় সম্ভব বলেও জানিয়েছেন গবেষকেরা।