ডায়াবিটিসের রোগীরা কি সুজি খাবেন? ছবি: সংগৃহীত।
উপমা, হালুয়া কিংবা নানা ধরনের জলখাবারে সুজির ব্যবহার বহু দিনের। সহজপাচ্য এবং দ্রুত রান্না করা যায় বলে অনেকের হেঁশেলেই এর কদর রয়েছে।। কিন্তু ডায়াবিটিস থাকলে সুজি খাওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। সুজি পুরোপুরি নিষিদ্ধ কোনও খাবার নয়। তবে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাচ্ছেন মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র।
সুজির পুষ্টিগুণ কী?
সুজি মূলত গম থেকে তৈরি। এতে কার্বোহাই়ড্রেটের পাশাপাশি কিছু পরিমাণ প্রোটিন, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং বিভিন্ন বি-ভিটামিন থাকে। এ ছাড়া এটি তুলনামূলক ভাবে পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু তা বলে ডায়াবিটিসদের জন্য কি স্বাস্থ্যকর?
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, সুজির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৬০-এর কাছাকাছি। ১০০ গ্রাম সুজিতে ৭০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। ফলে সুজি খেলে দ্রুত সুগার বেড়ে যেতে পারে। আার এ দিকে ফাইবারও খুব কম থাকে। তাঁর কথায়, ‘‘ডায়াবিটিসের রোগীদের আমি সুজি এড়িয়ে যাওয়ারই পরামর্শ দেব। কারণ এত কার্বোহাইড্রেট থাকলে, তা স্বাস্থ্যকর নয় তাঁদের জন্য।’’
সুজি কি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?
চিকিৎসকের মতে, সম্পূর্ণ রূপে সুজি থেকে বঞ্চিত থাকার দরকার নেই। কী ভাবে সুজি খাচ্ছেন, তার উপরেও নির্ভর করছে বিষয়টি। কয়েকটি নিয়মের কথা বললেন তিনি—
১. ধরা যাক সুজির উপমা বা হালুয়া বানিয়েছেন, ডায়াবিটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমাণটা খুবই কম হবে। তবে অল্প খানিক চেখে দেখতে পারেন।
২. সুজির উপমা বানানোর সময়ে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যোগ করতে হবে। বিন্স, কারিপাতা, গাজর ইত্যাদি দিয়ে বানান।
৩. পাশাপাশি পনির, ডাল ইত্যাদি প্রোটিন যোগ করলে আরও ভাল। এতে সুজি খেলে সুগার বেড়ে যাওয়া খুব বেশি ঝুঁকি থাকবে না।
৪. এই ধরনের পদ সাধারণত প্রাতরাশে খান অনেকে। কিন্তু সেই সময়ে রক্তে শর্করার মাত্রা এমনিতেই বেশি থাকে, তার উপরে সুজি খেলে সমস্যা হবে। তাই সপ্তাহে ১-২ বার খাওয়া ভাল। প্রতি দিন প্রোটিন-নির্ভর জলখাবারের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
৫. হালুয়া বা পায়েস বানাতে হলে চিনির বদলে স্টেভিয়া দিয়ে বানাতে হবে। কিশমিশ যোগ না করে নানা ধরনের বাদাম মেশাতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রেও খুবই অল্প পরিমাণে খেতে হবে। আধ কাপের বেশি খাওয়া যাবে না।