Nutrition Enriched Local Food

বাহারি নামের, দামি, বিলিতি ফলমূল কি বেশি ভাল? না কি কম দামি দিশি খাবারই উপকারী?

বলিউড তারকাদের দেখে প্রায়শই খাবার অভ্যাসে বদল আনেন অনেকে। যে খাবার কোনও দিন খাননি, তা নতুন করে খেতে শুরু করেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয় কি?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৬
Share:

ছবি : সংগৃহীত।

মলাইকা আরোরা অ্যাভোকাডো টোস্ট খান। করিনা কপূর হয়তো খান ব্লুবেরির ফ্রুট স্যালাড। আলিয়া ভট্টকে কোনও দিন দেখা গেল অ্যাসপারাগাস, জ়ুকিনি ইত্যাদি খেতে। তা বলে আপনিও তা-ই খাবেন?

Advertisement

বলিউড তারকাদের দেখে প্রায়শই খাবার অভ্যাসে বদল আনেন অনেকে। বাড়ির পাশের বাজার ছেড়ে সেই সব ফলমূল কিনতে যান সুপার মার্কেটে। যেখানে বিদেশ থেকে আমদানি করা ঝকঝকে সুন্দর দেখতে সব ফলমূল সাজিয়ে রাখা থাকে। যে খাবার কোনও দিন খাননি, তা নতুন করে খেতে শুরু করেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয় কি? বলিউড তারকাদের পুষ্টিবিদ ঋজুতা দ্বিবেকরই জানাচ্ছেন, এতে খুব বেশি লাভ হয় না। বরং যিনি যে অঞ্চলের মানুষ, তিনি যদি সেই অঞ্চলে ফলন হওয়া খাবার বেশি করে থালায় রাখেন তাতে কাজ হয় বেশি। আর তার যথেষ্ট কারণও রয়েছে।

১. বিদেশি বনাম দেশি

Advertisement

ডায়েটে যে বিদেশি খাবারগুলি রাখতে চাইছেন তার বিকল্প রয়েছে ঘরের পাশেই। শুধু তা-ই নয়, সে খাবার শরীরের জন্য হয়তো বেশি উপযুক্তও। যেমন, ঋজুতা বলছেন, ‘‘ব্লুবেরি বা র‌্যাস্পবেরির জায়গা অনায়াসে নিতে পারে আমলকি বা কালো জাম। অ্যাভোকাডোর বদলে আতা বা নারকেলও খেতে পারেন। কিউয়ির বিকল্প হতে পারে পেয়ারা বা কুল। অ্যাসপারাগাসকে তো ১০ গোল দিতে পারে সজনে ডাঁটা বা কচু শাক।’’ পুষ্টিবিদের প্রশ্ন, তা হলে কেন সেই সব সহজলভ্য খাবার ছেড়ে অকারণে বেশি দাম দিয়ে বিদেশি ফলমূল খাবেন?

২. বায়োলজিক্যাল মেমরি

যিনি যে অঞ্চলের বাসিন্দা তাঁর জিনও অভিযোজনের মাধ্যমে সেই অঞ্চলের সাধারণ আবহাওয়া, খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। সেই অভিযোজিত জিন উত্তরাধিকার সূত্রে পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে আসে পরবর্তী প্রজন্মের শরীরে। যা প্রভাবিত করে পাকস্থলী ও অন্ত্রের কাজ করার ক্ষমতাতেও। এই যে জিনগত ভাবে আগে থেকেই সম্ভাব্য পরিবেশের জন্য তৈরি হয়ে যাওয়া, এটি হয় ‘বায়োলজিক্যাল মেমরি’ বা জিনগত স্মৃতির কারণ। এর ফলে শরীরের এনজাইম যত সহজে স্থানীয় খাবার হজম করতে পারে, বিদেশি খাবার ততটা নয়। এই বিষয়টি মাথায় রেখে খাওয়াদাওয়া করলে তাকে বলা হয় ‘এথনিক ডায়েট’, যেখানে খাবারের থালায় স্থানীয় খাবার বেশি গুরুত্ব পায় কারণ, তা শরীর সহজাত ভাবে বেশি চেনে।

৩. অক্সিডেশন ও পুষ্টির ক্ষয়

বিদেশ থেকে ফল আসতে আসতে দীর্ঘ সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ে বাতাসের সংস্পর্শে থেকে অক্সিডেশন হয়। তাতে ফলের পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে থাকে। ঘরের কাছের ফল-মূল সব্জিতে গাছ থেকে সংগ্রহ করা এবং সাধারণের হাতে পৌঁছোনোর মধ্যে তুলনামূলক কম সময় লাগে। তাই তাতে এনজাইম অটুট থাকে।

৪. পরিবেশের সঙ্গে মানানসই

প্রকৃতি আমাদের শরীরের প্রয়োজন বুঝেই ঋতু অনুযায়ী ফল দেয়। যেমন— গরমকালে শরীরের জলের অভাব মেটাতে তরমুজ, বেল, আম, শসা, কাঁঠাল জাতীয় রসালো ফল বেশি পাওয়া যায়। বর্ষায় পেয়ারা, শীতে কমলালেবু, কুল ইত্যাদি রোগপ্রতিরোধে সাহায্য করে। অ্যাভোকাডো বা কিউয়ি সারা বছর পাওয়া গেলেও সেগুলো স্থানীয় আবহাওয়ার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে না।

৫. রাসায়নিকের ঝুঁকি

বিদেশ থেকে আমদানি করা ফল সুন্দর ও উজ্জ্বল দেখতেও হয়। কারণ, তাতে এথিলিন গ্যাস, কৃত্রিম মোম এবং ফাঙ্গিসাইড ব্যবহার করা হয় যাতে সেগুলো নষ্ট না হয়ে যায়। খাওয়ার সময় এগুলি শরীরে গেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। স্থানীয় ফল দেখতে চকচকে এবং উজ্জ্বল না হলেও তাতে এই ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা অনেক কম থাকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement