পেটের রোগ সারাতে উপকারে আসতে পারে ৫ পথ্য। ছবি: ফ্রিপিক।
ঠান্ডার পরে গরম পড়তে শুরু করলেই নানা অসুখবিসুখ মাথাচাড়া দেয়। প্রতি বছরই তা হয়। কিন্তু এ বছরে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। গরম পড়ার মুখেই ঘরে ঘরে জ্বর, বমি, পেটের সমস্যা এত মারাত্মক আকার নিয়েছে যে তা চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। ঘরে ঘরে পেটের রোগে ভুগছেন অনেকে। খিদে কমছে, পেটে যন্ত্রণা হচ্ছে মাঝেমধ্যেই। এর মধ্যে বমি, ডায়েরিয়া তো রয়েছেই। ওষুধ খেয়েও লাভ হচ্ছে না তেমন। চিকিৎসকেরা বলছেন, পেটের রোগ সারাতে মুঠো মুঠো ওষুধ খেয়ে গেলে হবে না। ওষুধের পাশাপাশি পথ্যও জরুরি।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি যখন অনুকূল থাকে না, তখন একগুচ্ছ ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়া বা পরজীবীর দাপট বাড়ে। তা থেকেই নানা অসুখবিসুখ হয়। চিকিৎসকদের মত, সর্দি-কাশির সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাস তো রয়েছেই, তা ছাড়াও নোরোভাইরাস, রোটাভাইরাসের প্রকোপ এখন বেশি। এই ভাইরাসগুলির কারণে জ্বর ও পেটের অসুখ বাড়ছে। এর থেকে বাঁচতে হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। সে জন্য জরুরি কিছু পথ্য। রোজ সকালে খালি পেটে বিশেষ কিছু পানীয় পান করলে তা হজমশক্তি বৃদ্ধি করবে, লিভার ভাল রাখবে ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বৃদ্ধি করবে।
কাঁচা হলুদ ও গোলমরিচের ডিটক্স
হলুদের অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ আছে। হলুদ প্রদাহনাশকও। সেই সঙ্গে গোলমরিচ মিশলে তার পুষ্টিগুণ আরও বাড়বে। পানীয়টি বানাতে আধ চামচ কাঁচাহলুদ বাটার সঙ্গে সামান্য গোলমরিচগুঁড়ো মেশাতে হবে। এ বার ঈষদুষ্ণ জলে এই মিশ্রণটি মিশিয়ে দিয়ে পান করতে হবে। হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন যৌগ যে কোনও ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারবে।
আদা-পুদিনা-শসার পানীয়
পেটের জন্য খুবই ভাল এই পানীয়। এটি বানাতে ১ ইঞ্চির আদাকুচি, ৭-৮টি পুদিনাপাতা, একটি মাঝারি মাপের শসা নিতে হবে। এক গ্লাস জলে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিন। তার পর ছেঁকে নিয়ে সামান্য বিট নুন মিশিয়ে খান। রোজ সকালে খালি পেটে খেলে পেটের যাবতীয় সমস্যা দূর হবে।
আমলকির রস
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর আমলকির রস। হজমশক্তি উন্নত করা থেকে বিপাকহার বাড়িয়ে তোলা— সবই সম্ভব আমলকির গুণে। ব্লেন্ডারে আমলকি মিহি করে বেটে নিন। তার সঙ্গে অল্প জল, গোলমরিচের গুঁড়ো এবং বিটনুন মিশিয়ে নিন। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করতে সাহায্য করে এই পানীয়।
পুদিনা-ধনেপাতার রস
গ্যাস, অম্বল, পেটফাঁপা কিংবা হজম সংক্রান্ত সমস্যা হলে এই পানীয় দারুণ কাজের। ব্লেন্ডারে একমুঠো ধনে এবং পুদিনা পাতা একসঙ্গে দিয়ে ভাল করে বেটে নিন। এ বার ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিয়ে খেয়ে নিন। এই পানীয় সকাল সকাল খেলেই সবচেয়ে ভাল হয়। প্রয়োজনে সামান্য মধু এবং লেবুর রসও মিশিয়ে নিতে পারেন।
জোয়ান-ধনে-জিরের পানীয়
পেটের রোগ, ডায়েরিয়া কমাতে এই পানীয়টি বিশেষ ভাবে উপযোগী। এটি নিয়মিত সকালে খালি পেটে খেলে অম্বলের সমস্যাও কমবে। রাতে এক গ্লাস জলে আধ চামচ জোয়ান, আধ চামচ গোটা ধনে, আধ চামচ জিরে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে জলটি ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে ঈষদুষ্ণ অবস্থায় পান করতে হবে। এই পানীয়টি লিভার ভাল রাখবে। ওজন কমাতেও সহায়ক হবে।