৫ পানীয় রোজ সকালে খেলে চুল পড়া বন্ধ হবে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
চুলের সুস্বাস্থ্য আসলে শুরু হয় ভিতর থেকে। চুলে দামি প্যাক বা তেল মাখার চেয়েও বেশি কার্যকর হল শরীরকে সঠিক পুষ্টি দেওয়া। গোছা গোছা চুল ওঠার জন্য কেবল অযত্ন দায়ী নয়। অনেক রকম শারীরিক সমস্যাতেও চুল ওঠে। যেমন, হাইপোথাইরয়েডিজ়ম থাকলে চুল ওঠে। আবার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমতে থাকলেও চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) থাকলে অথবা সন্তান জন্মের পরে হরমোনের তারতম্যের কারণেও চুল পড়ে। তাই চুল পড়ার সমস্যা পাকাপাকি ভাবে দূর করতে চাইলে, ভিতর থেকে সে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। যদি রোজের পাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন, বায়োটিন, ভিটামিন বি১২ এবং জ়িঙ্ক না থাকে, তবে নতুন চুল গজানো বন্ধ হয়ে যায়। চুলে অকালে পাকও ধরে। তাই এমন কিছু খেতে হবে যা শরীরে পুষ্টির জোগান দিতে পারে।
আমলকি-আদার শট
আমলকির ভিটামিন সি ও আদার জিঞ্জেরল চুলের গোড়ার পুষ্টি সরবরাহ করে, চুলের গোড়া মজবুতও করে। এই শটটি রোজ সকালে খালি পেটে খেলে চুল পড়ার সমস্যা ও অকালপক্বতা দূর হতে পারে।এটি বানাতে ১ চামচ আদাকুচি, ৬-৮টি কারি পাতা, একটি গোটা আমলকির রস নিতে হবে। এক কাপ জলে সব উপকরণ মিশিয়ে ভাল করে ফোটাতে হবে। তার পর ছেঁকে পান করতে হবে। এই পানীয় শরীর থেকে টক্সিন দূর করতেও সাহায্য করবে।
কারি পাতা ও লেবুর শরবত
১০-১৫টি কচি কারি পাতা, ১ চামচ লেবুর রস, ১ কাপ জলনিতে হবে। কারি পাতাগুলি জলে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন। জল হালকা ঠান্ডা হলে লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। কারি পাতায় থাকে বিটা-ক্যারোটিন এবং প্রোটিন যা চুলের জন্য ভাল।
পালং শাক ও শসার স্মুদি
এক মুঠো পালং শাক, অর্ধেক শসা, ১টি আপেল একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। ঘন স্মুদি তৈরি হবে। উপরে সামান্য দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেয়ে নিন। এই পানীয় প্রতরাশের সঙ্গেও খেতে পারেন। পালং শাকে প্রচুর আয়রন ও ফোলেট থাকে যা চুলের গোড়ায় অক্সিজেন পৌঁছে দিতে পারে।
অ্যালো ভেরা ও ডাবের জল
এক গ্লাস ডাবের জলে ২ চামচ টাটকা অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে নিন। অ্যালো ভেরা মাথার ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে পারে। এটি খেলে মাথার ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে।
তিসি ও কাঠবাদামের শট
এক চামচ তিসি গুঁড়ো ও এক চামচ কাঠবাদাম ভাল করে পিষে নিন। এতে ২টি খেজুর মিশিয়ে আবারও বেটে নিন। এই পানীয় ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ যা চুল পড়া রোধ করবে, চুলের জেল্লাও বৃদ্ধি করবে।