Fungal Infections

হাতের আঙুলের খাঁজে, পায়ে র‌্যাশ হলে সাবধান, বাড়ছে ছত্রাকের সংক্রমণ! কী ধরনের চর্মরোগ হচ্ছে?

গরমের সময়ে নানা ধরনের ছত্রাক ও পরজীবীর সংক্রমণ বাড়ে। হাতের তালুতে, আঙুলের খাঁজে, পায়ের পাতায় ফুস্কুড়ি, লালচে র‌্যাশ হতে পারে। জ্বালা ও চুলকানি যদি বেশি হয়, তা হলে এড়িয়ে গেলে বিপদ। কী ধরনের চর্মরোগ থেকে সাবধানে থাকতে হবে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১২:৪৮
Share:

ক্যানডিডা না স্ক্যাবিস, কীসের সংক্রমণ হচ্ছে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হাত-পায়ে ঘা, ছত্রাকের সংক্রমণ বা মুখের আলসারের বাড়বাড়ন্ত দেশের নানা জায়গায়। বেশি ভুগছে শিশু ও কমবয়সিরাই। দাদ, অ্যাথলেট’স ফুট, স্ক্যাবিসের মতো চর্মরোগ ছড়াচ্ছে। কখনও গরম আবার কখনও বৃষ্টি, এমন খামখেয়ালি আবহাওয়ায় রোগ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা।

Advertisement

‘হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজ়িজ়’ (এইচএফএমডি) মারাত্মক ভাবে ছড়িয়েছে। সেই সঙ্গেই বেড়েছে ছত্রাক ও নানাপ্রকার পরজীবীর সংক্রমণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে শুরুতে ভাইরাল জ্বর হচ্ছে। তার পর হাত ও পায়ে ঘা, ফোস্কার মতো দেখা দিচ্ছে। হাতের আঙুল, পায়ের আঙুলের ফাঁকের চামড়ায় ক্ষত তৈরি হচ্ছে, চামড়া আঁশের মতো শুকিয়ে যাচ্ছে। কী কী ধরনের চর্মরোগ থেকে সাবধানে থাকতে হবে?

দাদ বা রিংওয়ার্ম

Advertisement

টিনিয়া কর্পোরিস নামক ছত্রাকের সংক্রমণে দাদ হয় ত্বকে। ত্বকের যে অঞ্চল অধিকাংশ সময়ে ঘেমে থাকে, সেই অংশে সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি। কাজেই বাহুমূল, ঘাড়, হাত ও পায়ের পাতা, আঙুলের ফাঁকে সংক্রমণ বেশি ঘটে। শরীরের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা ঘাম এবং ধুলোবালিও এর কারণ হতে পারে।এ ধরনের সমস্যা হলে র‌্যাশের জায়গায় টি ট্রি অয়েল নারকেল তেলে মিশিয়ে মাখতে পারেন। অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারেও সমস্যার সমাধান হতে পারে।

ক্যানডিডা

ক্যানডিডা অরিয়াসকে 'বিপজ্জনক' বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক বা শরীরের কোনও ক্ষতস্থান স্পর্শ করলে সংক্রমণ ঘটতে পারে। খুব দ্রুত রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ছত্রাক। হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকে দ্রুত সংক্রমণ ঘটতে পারে। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বা ক্যাথিটারের মতো চিকিৎসার সরঞ্জামে এই ছত্রাক দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। ক্যানডিডার সংক্রমণ হলে সারা গায়ে র‌্যাশ বেরোতে পারে, চর্মরোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনেক সময়ে ক্যানডিডার সংক্রমণে কানের ভিতরে ব‌্যথা, পুঁজ, রক্ত জমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

ক্যানডিডা থেকে বাঁচতে পরিচ্ছন্নতায় নজর দিতে হবে। বিছানার চাদর, বালিশের ঢাকনা নিয়মিত পাল্টাতে হবে। বাইরে থেকে ফেরার পরে হাত ও পায়ের পাতা ভাল করে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ভিজে পায়ে দীর্ঘ ক্ষণ থাকবেন না, সব সময়েই শুকনো করে পা মুছে নেবেন।

অ্যাথলেট’স ফুট

ছত্রাকের সংক্রমণ হয় পায়েও। ভিজে মোজা বা জুতো দীর্ঘ সময় পরে থাকলে, অথবা পায়ে ধুলোময়লা পরিষ্কার না করলে সেখানে র‌্যাশ বেরোতে দেখা যায়। খালি পায়ে রাস্তায় হাঁটলে, অথবা অন্যের জুতো, মোজা বা তোয়ালে ব্যবহার করলে, তা থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। পায়ের পাতা ফুলে যায়, তাতে লালচে র‌্যাশ হয়। পায়ের চামড়া শুষ্ক হয়ে গিয়ে মৃত কোষ উঠতে শুরু করে দেয়। একে বলা হয় অ্যাথলেট’স ফুট।

স্ক্যাবিস

সারকপ্টিস স্ক্যাবি নামক পরজীবীর সংক্রমণে এই ধরনের চর্মরোগ হয়। সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে অন্য মানুষেরও রোগটি হয়। সে ক্ষেত্রে এই অণুজীবগুলি ত্বকের একেবারে উপরিস্তরকে আক্রমণ করে এবং চামড়ার মধ্যে গহ্বর তৈরি করে। দু’আঙুলের মাঝখানে, নখের ভাঁজে, বাহুমূলে সংক্রমণ বেশি ঘটে। এই ধরনের সংক্রমণ থেকে বাঁচতেও পরিচ্ছন্নতায় নজর দিতে হবে। বাড়িতে শিশু থাকলে পরিচ্ছন্নতার বিধি মেনে চলতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement