Summer Driving Safety

তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইক বা গাড়ি চালাচ্ছেন, কখন বুঝবেন শরীর বিপদসঙ্কেত দিচ্ছে?

তাপমাত্রা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল দশা। শরীর যেন হাঁসফাঁস করছে। এই সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেলমেট পরে যাঁদের বাইক চালাতে হচ্ছে অথবা গাড়ি চালাতে হচ্ছে, তাঁদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে এই সময়ে কী কী নিয়ম মেনে চলবেন?

Advertisement
শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১২:২৮
Share:

বাইক বা গাড়ি চালকদের সতর্ক হতে হবে বেশি, কী নিয়ম মানবেন? ফাইল চিত্র।

তীব্র গরমে রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইক বা গাড়ি চালানো অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। একটানা যাঁরা বাইক চালান বা গাড়ির ভিতরে বসে থাকেন, তাঁদের শরীর খুব তাড়াতাড়ি জলশূন্য হয়ে পড়ে। সামান্য অসাবধানতায় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। শরীর কখন খারাপ লাগছে, অস্বস্তি হচ্ছে কি না, তা বুঝে সাবধান হওয়া জরুরি। গরমে তাই বাইক ও গাড়ি চালকদের বিশেষ ভাবে সতর্ক হতে হবে।

Advertisement

কখন বুঝবেন, শরীর বিপদসঙ্কেত দিচ্ছে?

বাইক বা গাড়ি চালানোর সময়ে যদি মাথা ঘোরে, তীব্র মাথা ব্যথা হতে থাকে ও চোখে ঝাপসা দেখতে থাকেন, তা হলে সাবধান হতে হবে।

Advertisement

শরীর জলশূন্য হয়ে পড়লে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়, ফলে আচমকা চোখে অন্ধকার দেখলে সাবধান হতে হবে।

গরমে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম হতে থাকলে বা হঠাৎ ঘাম হওয়া বন্ধ হয়ে গিয়ে ত্বক খুব শুষ্ক ও গরম হয়ে গেলে তা হিটস্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়। তাই বাইক বা গাড়ি চালানোর সময়ে যদি বমি বমি ভাব আসে, তা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

হাত ও পায়ে খিঁচুনি, ঝিমুনি ভাব এলেও সাবধান হতে হবে। শরীর অতিরিক্ত জলশূন্য হয়ে পড়লে এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

সুরক্ষার নিয়ম

বাইক ও গাড়ি চালকদের জন্য

সঠিক পোশাক নির্বাচন করতে হবে। ফুলহাতা সুতির হালকা রঙের পোশাক পরা ভাল। সিন্থেটিক বা আঁটসাঁট পোশাক পরবেন না।

চোখে ভাল মানের সানগ্লাস ব্যবহার করা দরকার। হেলমেট ব্যবহারের সময় মাথায় হালকা সুতির রুমাল বা স্কার্ফ বেঁধে নিতে পারেন।

টানা ১ ঘণ্টার বেশি বাইক বা গাড়ি চালাবেন না। পিপাসা না পেলেও জল পান করতে হবে। মাঝেমধ্যে ১০-১৫ মিনিটের বিরতি নিন।

শুধু জল পান না করে মাঝেমধ্যে ইলেকট্রোলাইট পানীয় পান করাও ভাল। দীর্ঘ সময় যদি বাইক বা গাড়ি চালাতে হয় তা হলে সবসময়ে সঙ্গে জল ও ডিটক্স বা ইকেলট্রোলাইট পানীয় রাখুন।

যাত্রার আগে বা যাত্রাপথে তেলমশলা দেওয়া খাবার, জাঙ্ক ফুড বা নরম পানীয় খাবেন না। রোদের মধ্যে তৃষ্ণা মেটাতে চা বা কফি খাবেন না। শরীরে সামান্য অস্বস্তি হলেও সাবধান হতে হবে।

বাইরে তীব্র রোদ থেকে এসেই গাড়ির এসি চালিয়ে দেবেন না। প্রথমে গাড়ির জানলা খুলে ভিতরের গরম হাওয়া বার করে দিন, তার পর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এসি চালান।

গাড়ির উইন্ডশিল্ড এবং জানলায় ভাল মানের সানশেড বা হিট-রিজেক্টিং ফিল্ম ব্যবহার করুন। এতে গাড়ির ভিতরের কেবিন অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

রোদের মধ্যে দীর্ঘ ক্ষণ গাড়ি পার্ক করে রাখলে ভিতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই ফের গাড়ি চালানোর আগে কিছু ক্ষণ জানলা বা দরজা খোলা রাখুন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement