Summer Detox Juice

শুধু স্বাদ নয়, জেল্লাও বাড়বে! ত্বকের ধরন বুঝে বানিয়ে নিন ফলের শরবত, কোনটির সঙ্গে কী মেশাবেন?

গরমে ত্বকের সতেজতা বজায় রাখতে কেবল বাইরে থেকে যত্ন নেওয়াই যথেষ্ট নয়, শরীরের ভিতর থেকেও পুষ্টি প্রয়োজন। সে জন্য খেতে হবে এমন কিছু পানীয় যা ত্বককে ভিতর থেকে সজীব করে তোলে। ফলের রস এ ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে তা বানাতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫৫
Share:

কোন ত্বকে কী ধরনের শরবত খেলে জেল্লা বাড়বে। ছবি: ফ্রিপিক।

গরমের ত্বক প্রাণহীন ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এই সময়ে কেবল বাইরে থেকে ক্রিম বা ফেসপ্যাক মাখলে ত্বকের জেল্লা ফিরবে না। ভিতর থেকে ত্বককে সজীব ও সতেজ করে তুলতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন পুষ্টি উপাদান। ত্বকের জন্যও দরকার প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার ও নানা রকম খনিজ লবণ। তবেই ত্বকের কোষ পুষ্টি পাবে। আর তার জন্য ফলের শরবতের চেয়ে ভাল উপায় আর কিছু নেই। ফলের জলীয় উপাদান ত্বককে আর্দ্র রাখে। এর ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ফাইবার ত্বকে কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে।

Advertisement

ফলের শরবত বুঝেশুনে খেতে হবে। ত্বকের ধরন যেমন, সেই অনুযায়ী বেছে নিতে হবে ফল। যাঁর ত্বক স্পর্শকাতর তিনি এক ধরনের শরবত বানিয়ে খাবেন, আবার যাঁর ত্বক খুব তৈলাক্ত, তাঁর জন্য শরবতের রেসিপি হবে অন্য রকম। ত্বকের ধরন বুঝে কে কোনটি খেলে বেশি উপকার পাবেন, তা জেনে নেওয়া ভাল।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তরমুজ ও লেবুর শরবত

Advertisement

তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের সমস্যা বেশি হয়। তরমুজের জলীয় উপাদান ত্বককে আর্দ্র রাখবে এবং লেবুর ভিটামিন সি অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করবে। ২ কাপ তরমুজের টুকরো, ১ চামচ লেবুর রস এবং সামান্য বিট নুন মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। ছেঁকে নিয়ে বরফ দিয়ে পরিবেশন করুন। এর সঙ্গে সামান্য পুদিনা পাতাও মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে পেটও ঠান্ডা থাকবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য পেঁপে ও কলার স্মুদি

ত্বক যদি খুব শুষ্ক ও রুক্ষ হয় এবং র‌্যাশের সমস্যা থাকে, তা হলে পেঁপের স্মুদি কার্যকরী হতে পারে। পেঁপেতে থাকে ‘প্যাপাইন’ উৎসেচক যা ত্বকের মৃতকোষ দূর করে এবং কলা ত্বককে নরম ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। এক কাপ পাকা পেঁপে, অর্ধেকটা পাকা কলা এবং অল্প মধু মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। জল কম দিয়ে ঘন করে স্মুদি বানান। উপরে খানিকটা আখরোট ও কাঠবাদামের কুচি ছড়িয়ে দিন।

মিশ্র ত্বকের জন্য শসা, আনারস ও পুদিনার কুলার

ত্বকের ধরন মিশ্র প্রকৃতির যাঁদের, অর্থাৎ, কপাল ও নাক তৈলাক্ত, কিন্ত গাল শুষ্ক, তাঁদের ত্বকের জন্য শসাই ভাল। শসা ত্বকের পিএইচের (অম্ল-ক্ষারের)ভারসাম্য বজায় রাখে। একটি মাঝারি শসা, এক কাপ আনারসের টুকরো, এক মুঠো পুদিনা পাতা এবং সামান্য আদা দিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিন। এটি শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ত্বকের কালচে ভাব দূর করবে।

অ্যান্টি-এজিং শরবত

ত্বকে বুড়োটে ছাপ দূর করতে এমন শরবত খেতে হবে যাতে ভিটামিন সি আছে আবার অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টেও ভরপুর। এমন শরবত ত্বকে কোলাজেন তৈরি করবে ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সজীব করে তুলবে। এর জন্য বেদানা ও আঙুরের রস মিশিয়ে শরবত বানালে তা বেশি উপকারী হবে। এক কাপ বেদানার দানা ও আধ কাপ আঙুর মিশিয়ে রস তৈরি করুন। এতে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো মেশাতে পারেন স্বাদের জন্য।

ত্বকে ট্যান পড়লে

রোদে পোড়া দাগছোপ যদি বেশি হয় গালে ও গলার কাছে কালচে ছোপ পড়ে, তা হলে এমন শরবত খেতে হবে যা ত্বকের ট্যান দূর করতে পারে। সে জন্য কমলালেবু, গাজর ও বেদানা মিশিয়ে শরবত বানাতে হবে। ১টি বড় গাজর, ১টি কমলালেবু এবং অর্ধেকটা বেদানার রস বের করে নিন। এতে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে সকালে প্রাতরাশের সঙ্গে পান করুন।

স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য

ত্বক খুব স্পর্শকাতর যাঁদের, অল্পেই ব্রণ-র‌্যাশের সমস্যা হয়, তাঁদের জন্য ডাবের জলের শরবত বেশি কার্যকরী। এক গ্লাস ডাবের জলের সঙ্গে আধ কাপের মতো কমলালেবুর রস বা মুসাম্বির রস মিশিয়ে নিন। এতে খানিকটা পুদিনা পাতা ছড়িয়ে নিন। তার পর বরফ মিশিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement