Leg Care Tips

ঘোরার আনন্দ নিমেষে ফুরোবে পা ফুলে ব্যথা হলে, সফরকালে কী ভাবে এমন সমস্যা এড়ানো যায়?

সফরের সময় সাধারণ সমস্যা পা ফুলে যাওয়া। গাড়ি বা বিমানে একটানা বসে থাকলে অনেকেরই এমনটা হয়। কারও পায়ের পেশিতে টান ধরে, কারও আবার পায়ে অন্য রকম ব্যথা শুরু হয়। বেড়ানোর আনন্দ মাটি করতে না চাইলে কী ভাবে পায়ের যত্ন নেবেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৭
Share:

বেড়ানোর সময় পায়ের যত্ন কেন জরুরি? ছবি: সংগৃহীত।

বেড়ানো যেমন সুখস্মৃতির জন্ম দেয়, তেমন শেখায় অনেক কিছু। তবে বেড়াতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীনও হতে হয় অনেককে। বিশেষত, বয়স একটু বাড়লেই গাড়ি হোক বা বিমানে সফরকালে অনেকেই পায়ের সমস্যায় পড়েন। ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস, পা ফুলে ভারী হয়ে যাওয়া, পেশিতে টান ধরা, ব্যথা-যন্ত্রণার মতো উপসর্গ সফরকালে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

Advertisement

বেড়ানোর আনন্দ, যাতে নিরানন্দে বদলে না যায়, সেই জন্য বেড়ানোর সময়েও পায়ের যত্ন জরুরি। সফরকালে পায়ের ব্যথা, পা ফোলা কমানোরও উপায় আছে। সমস্যার সমাধান খুঁজতে হলে জেনে নেওয়া ভাল, তা কেন হয়?

পায়ের হালকা ব্যায়াম: গাড়ি হোক বা ট্রেন কিংবা বিমান, দীর্ঘ সময় পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে রক্ত চলাচলে সমস্যা হয়। পায়ের পাতার নীচের অংশে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে পা ফোলা শুরু হয়। যদি ওঠা বা হাঁটার উপায় না থাকে, যে জায়গায় বসে আছেন, সেই জায়গাতেই পা টানটান করে ছড়িয়ে দিন, পায়ের পাতা টান করে সোজা করুন আবার আগের অবস্থানে নিয়ে আসুন। এমন বার কয়েক করলে, পায়ের পাতায় রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হবে। গোটা সফরে এমনটা মাঝেমধ্যেই করতে থাকুন। পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে আবার আগের অবস্থানে আসুন। এতে সামগ্রিক শরীরে রক্ত চলাচল ভাল হবে।

Advertisement

জল: বেড়নোয় মশগুল হয়ে গেলে জল খাওয়ার কথা মনে থাকে না। পর্যাপ্ত জলের অভাবে শরীর খারাপ করতে পারে। তা ছাড়া, জলের বদলে বার বার চা-কফি, সোডা খেলে শরীরে জলের অভাব বাড়তে পারে। তা থেকেই পেশিতে টান ধরার মতো সমস্যা হয়। বিশেষত দিনভর হাঁটাহাটির পরিকল্পনা থাকলে নিয়ম করে জল খাওয়া জরুরি।

নুন মিশ্রিত খাবার: সফরের সময় স্থানীয় খাবার চেখে দেখার মানসিকতা থাকেই। তবে সেই খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর, বুঝে নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত নুন মিশ্রিত খাবার খেলে পা-ফোলার সমস্যা বাড়তে পারে। সোডিয়াম বা নুন জল বা শরীরের তরল ধরে রাখে। গাড়িতে বা বিমানে লম্বা সফরের সময় রক্ত চলাচল কমে যায়, তখন মাধ্যাকর্ষণের ফলে শরীরের নুন পায়ের নীচের অংশে জমতে পারে। তার ফলেও পা-ফোলার সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক।

পোশাক: সফর লম্বা হবে জানলে আরামদায়ক বা তুলনামূলক ঢিলে পোশাক পরুন। সাধারণত আঁটোসাঁটো জিন্‌স, বা প্যান্ট রক্তচলাচলের গতি আরও কমিয়ে দেয়। পা ফুলে গেলে তা আরও শক্ত হয়ে চেপে বসে। তাতে কষ্ট বাড়ে। তাই আরামদায়র ট্রাকস্যুট, সুতির প্যান্ট এই সময় পরা ভাল।

বসার জায়গা: পা ফুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে গাড়িতে আরামদায়ক আসনে বসার চেষ্টা করুন। বিমানেও পা ছড়ানো যায়, এমন আসন অগ্রাধিকার তালিকায় রাখতে পারেন। গাড়িতে বেশি চাপাচাপি করে না বসলে মাঝেমধ্যে পা আসনে তুলে মুড়েও বসতে পারেন। এতে পা ফোলা বা পা ঝুলিয়ে রাখার কষ্ট কমে।

বিরতি জরুরি: গাড়িতে করে সফরের সময়ে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন। বিশেষত পায়ের দিকে নজর দিতে হলে, তা জরুরি। ইচ্ছা না হলেও গাড়ি থেকে নেমে কোমর-পিঠ-পায়ের আড় ভেঙে নিন। গাড়ি থেকে নেমে খানিক হাঁটাহাটি করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন আবার ঠিক ভাবে হবে। বিমানে লম্বা সময় বসে থাকতে হলে, যেটুকু জায়গা রয়েছে সেখানেই কিছুটা সময় অন্তর এক বার হেঁটে নিন। খানিক পায়চারি করলেও এমন কষ্ট কমবে।

বিশেষ মোজা: কম্প্রেশন সক্‌স নামে বিশেষ ধরনের মোজা পাওয়া যায়, যেটি পায়ের নীচের অংশে চেপে বসে থাকে। এই ধরনের মোজা গোড়ালিতে বেশি চাপ দেয়, উপরের দিকে চাপের পরিমাণ কমতে থাকে। এই চাপের ফলে রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে, পা ফুলে যায় না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এমন মোজাও সঙ্গে রাখতে পারেন।

টুল: সরাসরি গাড়ি করে বেড়াতে গেলে একটা ছোট টুল রাখতে পারেন। পায়ের নীচে সেটা বসিয়ে রাখলেও আরাম হবে। পা ফোলার সমস্যা কমবে।

গরম জল, সেঁক: গন্তব্যে পৌঁছে গরম জল পেলে বালতি বা পাত্রে জল নিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। দিনভর হাঁটহাাটির ক্লান্তি এতে কমবে, পায়ের পেশিও আরাম পাবে। বৈদ্যুতিক হিটিং প্যাডে সেঁক দিলেও পায়ে ব্যথা কমবে।

অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জরুরি ব্যথার ওষুধ রাখুন। যন্ত্রণা বাড়লে দরকারে ওষুধ খেতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement