শুধু জল নয়, শিশুকে নিয়মিত খাওয়ান ইলেকট্রোলাইট পানীয়। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
পেটের সমস্যায় জর্জরিত অধিকাংশ মানুষই। গ্যাস, অম্বল, পেটে ব্যথা, ডায়েরিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য— রোগের শেষ নেই। তেল-মশলা যুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গ্যাস-অম্বলের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তার উপর গরম পড়তেই ভাইরাল জ্বর ও পেটের সমস্যা আরও বেড়েছে। তীব্র গরম ও রোদে ছোটদেরও স্কুলে যেতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, রোদে বেশি ক্ষণ থাকলে জলশূন্যতার সমস্যা দেখা দেবে। ছোটদের তা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই এই সময়ে শুধু জল নয়, শিশুকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাওয়াতে হবে নানা রকম ইলেকট্রোলাইট পানীয়। স্কুলে যাওয়ার সময় জলের বোতল ছাড়াও শিশুর ব্যাগে ভরে দিন এমনই কিছু পানীয়।
ঘরোয়া উপকরণেই তৈরি করা যাবে এমন পানীয়। তৃষ্ণা তো মেটাবেই, শিশকে সারা দিন চনমনে ও সতেজ রাখবে।
ডাবের জল ও পুদিনার শরবত
পেটের যে কোনও সমস্যাতেই ডাবের জল খুবই উপকারী। তবে শুধু ডাবের জল নয়, পেটের রোগ থেকে বাঁচতে এর সঙ্গে মেশাতে হবে আরও কয়েকটি উপকরণ। পানীয়টি তৈরি করতে নিতে হবে ১ গ্লাস ডাবের জল, আধখানা পাতিলেবুর রস, ৫-৬টি টাটকা পুদিনাপাতা, এক চিমটে সৈন্ধব লবণ। ডাবের জলে লেবুর রস ও সামান্য নুন মিশিয়ে নিন। পুদিনাপাতাগুলি হাত দিয়ে সামান্য ঘষে জলে ফেলে দিন। থেঁতো করেও দিতে পারেন। মিনিট দশেক রেখে ছোটদের বার বার খাওয়ান এই পানীয়।
আদার ডিটক্স
১ লিটার জল একটি পাত্রে ঢেলে তাতে আদার টুকরো বা কুরে নেওয়া আদা দিয়ে দিন। এই ভাবেই রেখে দিন অন্তত ১ ঘণ্টা। চাইলে ২-৩ ঘণ্টাও রাখতে পারেন। ঘরের তাপমাত্রাতেই রাখুন। ইচ্ছে হলে ফ্রিজেও রাখতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ের পরে খাওয়ার আগে ওর মধ্যে মিশিয়ে দিন লেবুর রস এবং কুচোনো পুদিনাপাতা। চাইলে মধু বা গুড় মিশিয়েও খেতে পারেন।
আপেল-তরমুজ-দারচিনির ডিটক্স
একটি গোটা আপেল ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। তরমুজের বীজ ফেলে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। এ বার একটি কাচের জারে জল নিয়ে আপেলের টুকরো, তরমুজের টুকরো ও ২-৩টি দারচিনির স্টিক ফেলে দিন। তাতে কিছু পুদিনাপাতাও মেশাতে পারেন। ঘণ্টা দুয়েক জারটি ফ্রিজে রেখে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে ডিটক্স পানীয়। এই পানীয় শিশুর জলের বোতলে ভরে দিন। সারা দিন অল্প অল্প চুমুকে খেলে শরীর সতেজ থাকবে। পেটের সমস্যাও কমবে।