শরীরে কতটা ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজন? ছবি: সংগৃহীত।
সুস্থ থাকতে ভিটামিন ডি-র কোনও বিকল্প নেই। বেশির ভাগ ভারতীয়ের শরীরে পরীক্ষা করলে দেখা যাবে যে, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে। অনেকেই আছেন, যাঁরা এই ঘাটতি মেটাতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সাপ্লিমেন্ট খেতে শুরু করে দেন। ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে শরীরে ক্যালশিয়ামের শোষণ কমে যায়, ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। পেশির ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও ভিটামিন ডি সাহায্য করে। অনেক সময় ভিটামিন ডি-এর অভাবে অবসাদও হয়। ভিটামিন ডি-এর অভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে যন্ত্রণাও শুরু হয়।
সূর্যের আলোর থেকে শরীর ভিটামিন ডি পায়। খাবারের মাধ্যমেও শরীরে ভিটামিন ডি যায়। এ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট তো রয়েছেই। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কিছুতেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হতে দেওয়া চলবে না। শুধুমাত্র খাবারের উপর নির্ভর করে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়। এ ছাড়া সূর্যের রশ্মি দিয়েও সেই ঘাটতি মেটে না। তাই নিয়মিত ভাবে ভিডামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়া কিন্তু ভীষণ জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ৪০-৬০ ন্যানোগ্রাম/ডেসিলিটার ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সেগুলি মেনে না চললে মুশকিলে পড়তে হতে পারে।
১) ভিটামিন ডি কিন্তু একা সে ভাবে কাজ করতে পারে না। এর সঙ্গে শরীরে যদি পর্যাপ্ত মাত্রায় ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম আর ভিটামিন কে২ থাকে তা হলেই ভিটমিন ডি-র কার্যকারিতা অনেক গুণ বেড়ে যায়। ভিটামিন ডি আর ক্যালশিয়ামের সঙ্গে যদি ভিটামিন কে ২ না খাওয়া হয়, তা হলে কিন্তু হার্টে ক্যালশিয়াম জমতে পারে। তাই সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
২) সাপ্লিমেন্ট শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাচ্ছে মানেই রোজ খেতে হবে, তা নয়। বয়স, শারীরিক সমস্যা এবং আরও বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে সাপ্লিমেন্ট খেতে হয়। কখনও একটানা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট একটানা খেতে নেই। প্রথমে সপ্তাহে একটা করে ১২ সপ্তাহ খেতে পারেন। তার পর কিছু দিনের বিরতি দিতেই হবে।
৩) সন্ধ্যার পর ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। কোনও উপকার পাওয়া যায় না। উল্টে শরীরের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। এই সাপ্লিমেন্ট দিনের বেলা খেলে সবচেয়ে উপকার পাওয়া যায়।