ছবি : সংগৃহীত।
বাঙালি মানেই ‘মাছে-ভাতে’ নন। বরং এ কালে শখ করেই নিরামিষাশী হচ্ছেন অনেকে। যুগের ঢেউয়ে পাল তুলে হোক বা বিরাট কোহলিকে আদর্শ মেনে, প্রাণিজ প্রোটিন থেকে মুখ ফেরাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ। আবার যাঁরা পেট ভরানোর জন্য প্রাণীহত্যার বিরোধী, তাঁরা উদ্ভিদজাত খাবার ছাড়া অন্য কোনও খাবার ছুঁয়েই দেখেন না। এর বাইরে এমনও অনেকে আছেন, যাঁরা মাছ খান না খেতে ভালবাসেন না বলেই। কিন্তু মাছে থাকা যে জরুরি পুষ্টি, বিশেষ করে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, তার জোগান এঁরা পান কী ভাবে?
এ পুষ্টিগুণ কেন জরুরি?
হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য তো বটেই, বুদ্ধির বিকাশ এবং মস্তিষ্কের বয়সজনিত অবনতি কমাতেও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড জরুরি। এ ছাড়া ত্বক, চোখ ভাল রাখা, প্রদাহ কমানো এবং সর্বোপরি মনমেজাজ ভাল রাখতেও এই পুষ্টি জরুরি। এক টুকরো মাছ ওই জরুরি পুষ্টি সরাসরি জোগান দেয় শরীরে। তবে মাছ না খেলে তার বিকল্প হতে পারে আখরোট, চিয়াবীজ, তিসির বীজ ইত্যাদি। এর মধ্যে প্রোটিন এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উপস্থিতির নিরিখে আখরোট কিছুটা হলেও এগিয়ে। কিন্তু মাছের বদলে বা মাছের সঙ্গে শুধু আখরোট খেলেই হবে না, তা নিয়ম মেনেও খেতে হবে। তবেই কাঙ্ক্ষিত পুষ্টিগুণ গ্রহণ করতে পারবে শরীর।
আখরোট কী ভাবে খাবেন?
১। সব সময়ে খাওয়ার আগে ৮ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন আখরোট। সকালে খেলে আগের রাতে ভিজিয়ে রেখে দিতে পারলে সব থেকে ভাল। কারণ এতে আখরোটে থাকা এনজ়াইমগুলি সক্রিয় হয়। শরীরের পুষ্টি নেওয়ার ক্ষমতাও ৩০ শতাংশ অবধি বেড়ে যায়। পুষ্টিবিদ রমিতা কৌর জানাচ্ছেন, আখরোট ভিজিয়ে রাখার পরে তা একরকম সুপারফুডে পরিণত হয়।
২। মাছের বিকল্প হিসাবে খেতে হলে দিনে ৬-৭টি আখরোট (৩০ গ্রাম) খাওয়া জরুরি। তবে তার সঙ্গে কিছুটা চিয়াবীজ এবং তিসির বীজ খেতে পারলে আরও ভাল। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আট সপ্তাহ ধরে যাঁরা প্রতিদিন ৪৩ গ্রাম করে আখরোট খেয়েছেন, তাঁদের মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। কমেছে ক্ষতিকর প্রদাহও।
৩। একবারে একমুঠো আখরোট না খেয়ে সারা দিন ধরে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে আখরোট খেতে বলছেন পুষ্টিবিদ। যেমন, ওটস, স্যালাড, দই ইত্যাদির সঙ্গে খেলে তা ফাইবারের সঙ্গে মিশে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি।
৪। আখরোটের সঙ্গে হয় যে কোনও টক-জাতীয় ফল খান বা ভিটামিন সি বেশি আছে, এমন ফল খান। আমলকি, পেয়ারা, পেঁপে, কমলালেবু, আম, আনারসে ভিটামিন সি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। একসঙ্গে খেলে তা আখরোটে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডকে সক্রিয় হতে সাহায্য করবে। আখরোটে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টকেও সক্রিয় করবে।
৫। আখরোটের সঙ্গে দই খাওয়াও ভাল। দইও আখরোটের পুষ্টিগুণকে শরীরের জন্য গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
৬। যদি মস্তিষ্ককে সক্রিয় করার জন্য আখরোট খান, তবে তা খাওয়া উচিত দুপুরের দিকে, যখন মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। কারণ এতে থাকা ডিএইচএ জাতীয় উপাদান তখনই সবচেয়ে ভাল কাজ করে যখন মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে।
৭। আবার আখরোট সন্ধ্যায় খেলে তা অন্ত্রের মেরামতির কাজ করে। ওই সময়ে শরীরে গেলে তা থেকে ক্যানসারের সঙ্গে মোকাবিলা করার উপাদান ইউরোলিথিন্স তৈরি করে শরীর। গবেষণা বলছে, এই সময়ে আখরোট খেলে ঘুম ভাল হয়। এ ছাড়া তা প্রদাহ নাশেও সাহায্য করে, যা সার্বিক সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।