কোন কোন ব্যায়ামে কমবে কোলেস্টেরল? ছবি: ফ্রিপিক।
কোলেস্টেরল থেকে যত দিন দূরে থাকা যায়, ততই ভাল। কারণ, কোলেস্টেরলের হাত ধরে শরীরে হানা দেয় হৃদ্রোগ। কিন্তু কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়। কেবল খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানলে এই রোগের হাত থেকে নিস্তার নেই, মুঠো মুঠো ওষুধ খেয়ে রোগ শুধু বশে রাখা যায় মাত্র। কোলেস্টেরলের হাত থেকে যদি নিস্তার পেতে হয়, তা হলে প্রতি দিন অন্তত ২০ মিনিট করে ব্যায়াম করতেই হবে।
দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, অ্যারোবিক ব্যায়াম, স্ট্রেচিং ও যোগাসনেই কমবে উচ্চ কোলেস্টেরল। কী কী ধরনের ব্যায়াম করলে উপকার হবে জেনে নিন।
বডিওয়েট স্কোয়াট
এই ব্যায়ামের মূল কথা হল তার ভঙ্গিমা। এটি ভুল হলে কাজ তো হবেই না, উল্টে অন্য সমস্যার সূত্রপাত হবে। বেসিক স্কোয়াটে দু’টি পা অল্প ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এ বার চেয়ারে বসার মতো ভঙ্গি করতে হবে। দু’টি জিনিস মাথায় রাখতে হবে। এক, শরীরের উপরের অংশ সামনে ঝুঁকবে না, কাঁধ সোজা থাকবে। নয়তো কোমরে চাপ পড়বে। দুই, ওঠা-বসার সময়ে গোড়ালিতে জোর দিতে হবে। ওজন হাতে নিয়ে বেসিক স্কোয়াটও বেশ উপকারী।
রাশিয়ান টুইস্ট
রাশিয়ান টুইস্টও খুব উপকারী। ম্যাটের উপর পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। এ বার দুই পা ভাঁজ করে সামান্য উপরে তুলুন। হাঁটু ভাঁজ করতে হবে। শরীর সামান্য পিছন দিকে হেলিয়ে দুই হাত জড়ো করুন। এর পর পা একই ভাবে রেখে কোমর থেকে শরীরের উপরিভাগ এক বার বাঁ দিকে ও এক বার ডান দিকে ঘোরাতে হবে। দুই পা যেন মাটি স্পর্শ না করে। ১০ সেট করে ৩ বার করলে পেট, তলপেটের চর্বি ঝরে যাবে।
পশ্চিমোত্তাসন
প্রথমে চিৎ হয়ে শুয়ে দু’ হাত তুলে মাথার দু’ পাশে উপরের দিকে রাখুন। আস্তে আস্তে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’ হাত দিয়ে জোড়া পায়ের বুড়ো আঙুল ধরুন। দু’টি পায়ের মাঝখানে কপাল ঠেকান, হাঁটু ভাঁজ হবে না। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। পশ্চিমোত্তাসন অভ্যাসে শুধু কোলেস্টেরল নয়, রক্তে শর্করার মাত্রাও কমবে। পেটের মেদ ঝরাতেও কার্যকরী এই আসন।