Womb Transplant

জন্ম থেকে জরায়ু নেই, তার পরেও জন্ম দিলেন সন্তানের, মা হওয়া যে অসম্ভব নয় দেখিয়ে দিলেন গ্রেস

বয়স যখন ১৬ বছর, জানতে পারেন তিনি কোনও দিনও মা হতে পারবেন না। কারণ, সন্তানধারণের জন্য জরায়ুই যে নেই। এর পরেও মনের জোর হারাননি গ্রেস বেল। বর্তমানে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৫
Share:

জরায়ু ছিল না, তবুও মা হলেন গ্রেস। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

১৬ বছর বয়স অবধি আর পাঁচজন মেয়ের মতোই জীবন কাটিয়েছেন ব্রিটেনের বাসিন্দা গ্রেস বেল। কিন্তু তার পরেই সব এলোমেলো হয়ে যায়। এমন এক সত্য প্রকাশ পায়, যা লহমায় সব কিছু তছনছ করে দেয়। গ্রেস জানতে পারেন, তিনি কোনও দিন মা হতে পারবেন না। কারণ সন্তানধারণের আধার জরায়ুই যে নেই তাঁর শরীরে। আর পাঁচজন মেয়ের থেকে তিনি অনেকটাই আলাদা। শারীরিক গঠনে বাইরে থেকে কোনও অস্বভাবিকতা না থাকলেও, শরীরের ভিতরে এমন এক জন্মগত ত্রুটি রয়ে গিয়েছে, যা বাকিদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে তাঁকে। তবুও মনের জোর এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে যে কোনও অসম্ভবকেই যে সম্ভব করা যায়, তা দেখিয়ে দিয়েছেন গ্রেস।

Advertisement

সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন গ্রেস। জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তা সম্ভব হয়েছে। লন্ডনের কুইন শার্লট’স অ্যান্ড চেলসি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা মস্তিষ্কের মৃত্যু হয়েছে, এমন একজন মহিলার জরায়ু গ্রেসের শরীরে প্রতিস্থাপন করেছেন সফল ভাবে। তার পরেই সন্তানের জন্ম দিতে পেরেছেন ব্রিটেনের তরুণী। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জরায়ু প্রতিস্থাপনের আর্জি জানান গ্রেস। এই প্রক্রিয়া জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময়েই তা সফল হয় না। সে কথা জানার পরেও পিছিয়ে যাননি তিনি। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার হয় গ্রেসের। জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাস কয়েক পর থেকে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত নানা চিকিৎসা শুরু হয়। তার পরে সন্তানধারণের উপযুক্ত হয়ে ওঠেন গ্রেস।

জন্ম থেকে জরায়ু তৈরি না হওয়া খুবই বিরল এক শারীরিক অবস্থা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে ‘‘মায়ের রকিতানস্কি কাস্টার হাউজ়ার সিনড্রোম’’ (এমআরকেএইচ)। এ ক্ষেত্রে শরীরে দু’টি ক্রোমোজ়োম, যোনি তৈরি হলেও জরায়ু তৈরি হয় না। মেয়েদের মতো সমস্ত বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও স্বাভাবিক ঋতুস্রাব হয় না এবং সন্তানধারণও সম্ভব হয় না, এমনই জানিয়েছেন স্ত্রীরোগ চিকিৎসক মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়। এটি জন্মগত ত্রুটি। আবার অনেক সময়ে দেখা যায়, যাঁর জরায়ু তৈরি হয়নি, তাঁর যোনির গঠনও অসম্পূর্ণ। সে ক্ষেত্রে ভ্যাজাইনোপ্লাস্টি পদ্ধতিতে যোনি তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু কৃত্রিম ভাবে জরায়ু তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই একমাত্র পথই হল প্রতিস্থাপন।

Advertisement

জরায়ু প্রতিস্থাপন জটিল প্রক্রিয়া

২০১৪-য় সুইডেনের চিকিৎসক মট ব্র্যানস্টর্মের হাত ধরে প্রথম ওই প্রতিস্থাপন সাফল্যের মুখ দেখে। ২০১৬ সালে আমেরিকার ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে এর পরের প্রতিস্থাপন হয়। ভারতে প্রথম সফল জরায়ু প্রতিস্থাপন হয় ২০১৭ সালে পুণের গ্যালাক্সি কেয়ার হাসপাতালে। চিকিৎসক শৈলেশ পুন্টাম্বেকর সেই অস্ত্রোপচার করেন। তবে এখন এ দেশেও জরায়ু প্রতিস্থাপন সফল ভাবেই করা হয়।

জরায়ু প্রতিস্থাপন করতে হলে এমন দাতার প্রয়োজন, যাঁর রজোনিবৃত্তি হয়নি। সুস্থ জরায়ু থাকলে তবেই তা প্রতিস্থাপনের জন্য নেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে এমন ভাবে দাতার শরীর থেকে জরায়ু নেওয়া হয়, যাতে এর মধ্যে থাকা সুস্থ রক্তজালকগুলির কোনও ক্ষতি না হয়। দাতার শরীর থেকে নেওয়া জরায়ু যে সফল ভাবে গ্রহীতার শরীরে গৃহীত হবে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারে সাফল্য আসে না। তাই প্রক্রিয়াটি ঝুঁকিপূর্ণও বটে। এই বিষয়ে স্ত্রীরোগ চিকিৎসক অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায় জানান, জরায়ু প্রতিস্থাপনের পরে যদি ডিম্বাণুর সংখ্যা ঠিক থাকে, তা হলে গর্ভধারণের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ইনভিট্রো ফার্টিলাইজ়েশন (আইভিএফ)-এর সাহায্য নিতে হয়। জরায়ু প্রতিস্থাপনের পরে সেটি যাতে শরীরে সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলে, তার জন্য নানা রকম ওষুধপত্রও খেয়ে যেতে হয়। আজীবন খুব সাবধানে থাকার প্রয়োজন হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement