থোড় দিয়ে রকমারি রান্না। ছবি: সংগৃহীত।
থোড় দেখেই ছুটে পালায় বাড়ির খুদেরা? এ দিকে কলাগাছের কাণ্ডের ভিতরের নরম, আঁশযুক্ত সাদা অংশের পুষ্টিগুণ অঢেল। ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ থোড় খেলে হজমশক্তি বৃদ্ধি হয়, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, কিডনিতে পাথর সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি কমে, ভিটামিন বি ৬ এবং আয়রনে সমৃদ্ধ থোড় হিমোগ্লোবিনের উৎপাদনও বাড়ায়।
কিন্তু দুশ্চিন্তার বিষয়, কী ভাবে রান্না করলে থোড় খেতে রাজি হবে বাড়ির ছোটরা? কলাগাছের বিশেষ অংশ দিয়ে নানা রকম সুস্বাদু খাবার বানানো যেতে পারে। ভাজা থেকে স্যুপ। দেখে নিন তালিকা।
ভাজার মতো আরও নানা পদ বানিয়ে নিন থোড় দিয়ে। ছবি: সংগৃহীত।
থোড় দিয়ে কী কী পদ বানানো যায়?
১. থোড় ভাজি: সুস্বাদু, মুচমুচে ভাজা বানানো যায় থোড় দিয়ে। টুকরো টুকরো করে কেটে ভাপিয়ে নিন অল্প। তার পর শুকনো লঙ্কা ও কালো সর্ষে ফো়ড়ন দিয়ে সুস্বাদু ভাজা রান্না করে নিন। ডালের সঙ্গে টেনে খেতে ভাল লাগবে শিশুদের। কেউ জিরে এবং কারিপাতাও দিতে পারেন।
২. থোড়ের তরকারি: পাঁচমিশালি হোক বা শুক্তো, সন্তান যে তরকারি একটু বেশি ভালবাসে, তার মধ্যে থোড় ছোট ছোট টুকরো করে মিশিয়ে দিতে পারেন। তা ছাড়া আর এক ভাবেও রাঁধা যায় থোড়ের তরকারি। ছোট ছোট টুকরো করে থোড় কেটে জলে ভিজিয়ে রাখুন। এ বার সর্ষে, জিরে এবং কারিপাতা ফোড়ন দিয়ে তাতে পেঁয়াজকুচি, আদা-রসুনবাটা, কাঁচালঙ্কা দিয়ে কষিয়ে নিন। তার পর থো়ড় ঢেলে দিন কড়াইয়ে। হলুদ, নুনও মিশিয়ে দিন। প্রয়োজন মতো জল দিন। থোড় সেদ্ধ হয়ে গেলে নারকেলের দুধ মিশিয়ে দিন। গরম ভাতের সঙ্গে এই তরকারি বেশ মানানসই।
৩. থোড়ের রস: থো়ড়ের বাইরের শক্ত স্তরগুলি খোসা হিসেবে ছাড়িয়ে নিয়ে ভিতরের সাদা অংশটি বার করুন। তার পর টুকরো টুকরো করে কেটে জলে মিশিয়ে নিন। সেই জল সমেত মিক্সিতে পিষে নিন। শেষে রসটুকু ছেঁকে নিয়ে তাতে দই, জিরে, নুন ইত্যাদি মিশিয়ে সন্তানকে খাওয়াতে পারেন। তাতে থোড়ের আঁশগুলি যদিও পুরোপুরি শরীরে প্রবেশ করবে না, কিন্তু অন্যান্য পুষ্টি উপাদানগুলি দেহে পৌঁছোবে।
৪. থোড়ের স্যালাড: মুচমুচে, সুস্বাদু স্যালাড বানাতে হলে থোড়ের জুড়ি মেলা ভার। থোড়কে টুকরো করে কেটে অল্প সেদ্ধ করে নিতে হবে। এর পর শসা, টম্যাটো, পেঁয়াজ, গাজরকুচি, ধনে পাতা, এবং সেদ্ধ আলু মিশিয়ে লেবুর রস, নুন, সামান্য ভাজা বাদাম বা নারকেল কোরা দিয়ে অলিভ অয়েলে অল্প ভেজে নিন। স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু স্যালাড বানিয়ে খাইয়ে দিন শিশুকে।
৫. থোড়ের আচার: থোড়কে টুকরো করে কেটে অল্প সেদ্ধ করে নিতে হবে। তার পর কড়াইয়ে তেল গরম করে সর্ষে, মেথি, হিং, শুকনো লঙ্কাগুঁড়ো, হলুদ ঢেলে দিন। কষিয়ে নিয়ে তাতে থোড় মিশিয়ে দিন। এ বার তাতে গুড় এবং নুন মিশিয়ে দিন। তার পর লেবুর রস বা ভিনিগার মেশাতে হবে। রান্না হয়ে গেলে ঠান্ডা করে শিশিতে ভরে ফেলুন।
৬. থোড়ের স্যুপ: টুকরো করে কেটে অল্প সেদ্ধ করে নিন থোড়। কড়াইয়ে অল্প তেল দিয়ে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন কুচনো মিশিয়ে দিন। এ বার থোড়ের সঙ্গে সব্জি সেদ্ধ করার জল, নুন ও গোলমরিচ মিশিয়ে দিন। চাইলে নারকেলের দুধ অল্প মেশাতেও পারেন। শীতের সময়ে গরম গরম থোড়ের স্যুপ খাওয়াতে পারেন শিশুকে।