তামিল নায়ক বিষ্ণু বিশাল। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘মুখ এত ক্লান্ত কেন সব সময়ে?’’ যত বারই ছবির প্রচারের জন্য ক্যামেরার সামনে এসেছেন, তামিল নায়ক বিষ্ণু বিশালকে বার বার এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। পাশাপাশি, ফুলেও গিয়েছিল তাঁর মুখ। নেপথ্যে কী কারণ? সম্প্রতি তারই উত্তর দিলেন দক্ষিণী তারকা।
অভিনেতা নিজেই জানালেন, গত ৩-৪ বছর ধরে তিনি একটি অটোইমিউন রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন। আর সেই রোগের চিকিৎসায় যে ওষুধ তিনি খাচ্ছেন, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই মুখে ফোলা ভাব ও ক্লান্তির ছাপ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সে কথা তিনি এত দিন প্রকাশ করেননি। অভিনেতার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে অটোইমিউন রোগ সম্পর্কে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা। কারণ, এই ধরনের অসুখ বাইরে থেকে সর্বদা বোঝা যায় না। অনেক সময়ে বছরের পর বছর ক্লান্তি, ব্যথা বা শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে জীবন কাটিয়ে যান রোগীরা, অথচ শনাক্তকরণে সময় লেগে যায়।
গত ৩-৪ বছর ধরে তিনি একটি অটোইমিউন রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন অভিনেতা। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম বার প্রকাশ্যে এই নিয়ে কথা বলেন অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। দীর্ঘদিন অটোইমিউন রোগ ‘মায়োসাইটিস’-এ ভুগেছেন তিনি। যদিও বিষ্ণু তাঁর রোগটির নাম প্রকাশ্যে আনেননি। কেবল উপসর্গগুলি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণের কথা জানিয়েছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আপনাদের ভালবাসা ও আমার জন্য চিন্তা করার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। এ আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। ইদানীং আমার চোখেমুখে ক্লান্তি দেখা যাচ্ছে, জানি। তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন। তাই বিষয়টি ব্যক্তিগত ভাবে জানাতে চাই। গত ৩-৪ বছর ধরে আমি একটি অটোইমিউন রোগে ভুগছি। তার চিকিৎসার জন্য কিছু ওষুধ চলছে। আর তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই আমার শরীরে এই ফোলা ভাব বা ক্লান্তি দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ, এই চিকিৎসা আমার জন্য জরুরি, কারণ স্বাস্থ্যের চেয়ে বড় আর কীই বা আছে!’’ পাশাপাশি তিনি এ-ও জানিয়েছেন, তাঁর সাম্প্রতিক ছবি ‘গাট্টা কুস্তি ২’-এর সঙ্গে জড়িত সকলের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাঁকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। আর সেই কারণেই অসুস্থতা সত্ত্বেও সব প্রচারে হাজির হচ্ছেন বিষ্ণু।
অটোইমিউন ডিজ়িজ়ে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজের সুস্থ কোষকেই আক্রমণ করতে শুরু করে। সাধারণত রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া বা ক্ষতিকর জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে। কিন্তু অটোইমিউন রোগে সেই ব্যবস্থাই শরীরের বিভিন্ন অংশকে শত্রু বলে মনে করতে শুরু করে। এর ফলে প্রদাহ, ব্যথা, দুর্বলতা এবং নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনও কখনও তা মারণরোগেও পরিণত হতে পারে।
কী কী উপসর্গ দেখা যায় এই রোগে?
এক একটি অটোইমিউন রোগের ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। তার মধ্যে সাধারণ যেগুলি, তা হল—
· সব সময় ক্লান্ত লাগা
· পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
· শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলা ভাব
· মনোযোগ কমে যাওয়া বা অবসাদ
· ওজনের হেরফের
· ত্বক বা চুলের বিভিন্ন পরিবর্তন
· একটানা হালকা জ্বর
· তলপেটে ব্যথা
· পেটখারাপ
· হাতে ও পায়ে অসাড়তা
· শুষ্ক মুখের সমস্যা