ওজন কমানোর সময় কোন ভুল এড়াবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা অনেকেই এখন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে উদ্যোগী হচ্ছেন। কখনও জীবনযাত্রার প্রয়োজনে, কখনও আবার দৈহিক গড়ন সুন্দর রাখতে অনেকে কঠোর ডায়েটের পথ বেছে নিচ্ছেন। তবে পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন, দীর্ঘস্থায়ী ফল পেতে আচমকা কোনও ডায়েট বেছে না নিয়ে, ধীরে সুস্থে শরীর বুঝে এগোনো জরুরি, না হলেই হতে পারে বিপদ।
পন্থা যদি ঠিক না থাকে, ডায়েটে খামতি রয়ে যায়, ওজন কমলেও, অনেক সময় তার খেসারত দিতে হয় শরীরকে। তেমনই সমস্যায় পড়েছিলেন পেটের রোগের চিকিৎসক পল মনিকম নিজেই। সমাজমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ওজন কমানোর সময় তাঁর খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের মাত্রা কম ছিল। পাশাপাশি তিনি শরীরচর্চাও করেছিলেন। ফলে শুধু ফ্যাট নয়, পেশিক্ষয়ও শুরু হয়, যা ঠিক করা খুব কঠিন। আর এমন ভুলই এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ, প্রোটিন শরীরকে শক্তি জোগাতে যেমন সাহায্য করে তেমনই বিপাকহারের গতিও বৃদ্ধি করে। তা ছাড়া, প্রোটিনের অভাব হলে পেশিও দুর্বল হয়ে পড়ে। হতে পারে পেশিক্ষয়ও।
ওজন কমাতে গেলে পুষ্টিবিদেরাও কার্বোহাইড্রেট, শর্করার মাত্রা কমিয়ে প্রোটিন জাতীয় খাবার ডায়েটে জুড়তে বলেন। কিন্তু ওজন কমাতে গেলে কি প্রোটিন এতটাই জরুরি? থানের একটি হাসপাতালের পুষ্টিবিদ আমরিন শেখ জানাচ্ছেন, প্রোটিন মূলত পেশি গঠনের জন্য দরকার হয়। যাঁরা সুঠাম শরীর তৈরির জন্য ডায়েট করছেন, নিয়মিত জিমে যান বা ওজন নিয়ে শরীরচর্চা করেন, প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা তাঁদেরই সবচেয়ে বেশি। যাঁদের দৈহিক শ্রম বা কায়িক শ্রম কম হয় তাঁদেরও প্রোটিন দরকার হয় ঠিকই, তবে কম মাত্রায়। না হলে, অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরে ক্যালোরি হিসাবে সঞ্চিত হতে পারে, যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।
পুষ্টিবিদদের কথায়, খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের মাত্রা কতটা থাকবে তা নির্ভর করবে ব্যক্তিবিশেষের উপরে। তাঁর শরীরে প্রোটিন পরিপাকে সমস্যা আছে কি নেই, বয়স বা প্রয়োজন বুঝে সেই মাত্রা ঠিক করা দরকার।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ, একবারে অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার না খেয়ে দিনে কয়েক বার অল্প অল্প করে প্রোটিন খাওয়া যেতে পারে। কার্বোহাইড্রেটের চেয়ে প্রোটিন পরিপাকে শরীরকে বেশি খাটতে হয়, ফলে এতে ক্যালোরি ঝরে বেশি। সেই কারণে ওজন কমাতে গেলে খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ঘাটতি হলে সমস্যা। বিপাকহার ঠিক না থাকলে ওজন কমানো সম্ভব নয়। তা ছাড়া এই ধরনের খাবারে অনেক ক্ষণ পেটও ভরা থাকে। দৈহিক কাজের জন্য শরীর প্রয়োজনীয় শক্তিও পায়।
তবে চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন, প্রোটিনই ডায়েটের শেষ কথা নয়। তা ছাড়া সুঠাম, পেশিবহুল শরীরও শুধু প্রোটিনযুক্ত খাবার খেয়ে হয় না, প্রয়োজন হয় শরীরচর্চারও। প্রোটিনের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ সমৃদ্ধ খাবারেরও প্রয়োজন রয়েছে। ঠিক সেই কারণে, ডায়েট কেমন হবে তা নির্ভর করবে ব্যক্তিবিশেষের উপরে।