Eye Rubbing Risks

যখন তখন চোখ চুলকানোর অভ্যাস? অজান্তেই বড় বিপদ ডেকে আনছেন! জটিল রোগের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে

চিকিৎসকেরা বলছেন, চোখ চুলকানোর এই অভ্যাসই কর্নিয়াকে এমন ভাবে বিকৃত করতে পারে, যা পরে আর ঠিক না-ও হতে পারে। আসলে অনেকেই জানেন না, জোরে জোরে চোখ কচলালে কী ঘটতে পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১৯
Share:

চোখ চুলকালে কী ঘটতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।

শহরের ধুলো, স্ক্রিনের আলো, অনিদ্রা— সব মিলিয়ে চোখের উপর চাপ কম নয়। তায় আবার চোখে চুলকানি হলেই নির্দ্বিধায় হাত দিয়ে ঘষে নেন। বড় ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে এই অভ্যাসে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই এক অভ্যাসই কর্নিয়াকে এমন ভাবে বিকৃত করতে পারে, যা পরে আর ঠিক না-ও হতে পারে। আসলে অনেকেই জানেন না, জোরে জোরে চোখ কচলালে কী ঘটতে পারে।

Advertisement

জোরে চোখ চুলকালে কী ঘটে?

লন্ডনবাসী মেডিসিনের চিকিৎসক সরমদ মজহার নিজের ইনস্টাগ্রামে চোখ কচলানোর খারাপ প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন সম্প্রতি।

Advertisement

কর্নিয়ার আকৃতি পাল্টে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ছবি: সংগৃহীত।

খুব জোরে জোরে চোখ চুলকালে কর্নিয়ার উপর চাপ পড়ে ছোট ছোট আঘাত তৈরি হয়। প্রথমে টের না পেলেও ভিতরে ভিতরে কর্নিয়া পাতলা হতে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে কর্নিয়া ধীরে ধীরে শঙ্কুর মতো আকৃতি নেয়, এই অবস্থাকে বলা হয় কেরাটোকোনাস। এতে চোখের দৃষ্টি বিকৃত হয়, সব কিছু ঢেউ খেলানো বা ঝাপসা দেখাতে পারে, আলোর দিকে তাকালেই অস্বস্তি হয়। কর্নিয়ার আকৃতি বৃত্তাকার, কিন্তু বিকৃতি ঘটতে শুরু করলে তা সূচালো হয়ে যেতে পারে।

সমস্যা এখানেই শেষ নয়। বার বার ঘষার ফলে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, সংক্রমণ হতে পারে, জ্বালা–চুলকানি হতে পারে। কেউ কেউ দীর্ঘ দিন পরে স্থায়ী ভাবে দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারেন।

ঘষার সময়ে চোখের মধ্যে যে আওয়াজটি হয়, সেটি হাওয়ার অবস্থান বদলের শব্দ। সেই আওয়াজটি অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু কর্নিয়ার আকার বদলাতে শুরু করলে সেটি বিপদের ইঙ্গিত। কর্নিয়া প্রতিস্থাপন ছাড়া এই রোগ নিরাময়ের আর কোনও উপায় নেই।

তা হলে কী করবেন?

চোখ চুলকালেই হাত তুলবেন না, এটিই প্রথম নিয়ম। তার বদলে চোখ বন্ধ রেখে হালকা চাপ দিন, ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন, অথবা চোখের ড্রপ দেওয়ার অভ্যাস করুন। অ্যালার্জি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর কেউ যদি নিয়মিত চোখ ঘষে ফেলেন, অজান্তে হোক বা অভ্যাসবশে, সে ক্ষেত্রে দ্রুত চক্ষুরোগ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। কর্নিয়ার সমস্যা যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে, চিকিৎসা তত সহজ হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement