— ফাইল চিত্র।
শরীরের মাপজোক, ওজন মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য প্রায়ই নিতে হয়। কিন্তু কখনও ফিতে দিয়ে নিজের ঘাড় মেপেছেন কি?
হয়তো রাতে পাশের মানুষটির নাক ডাকার শব্দে ঘুমোতে পারেন না। কিংবা নিজের ঘুমও হয় খুব সচেতন ভাবে। একটু খুটখাট শব্দেই জেগে ওঠেন। এক ঘুমে রাত কাবার হওয়ার অভিজ্ঞতা প্রায় নেই। এই সব কিছুর নেপথ্যে থাকতে পারে ঘাড়ের মাপ। যাকে বলা হয় নেক সারকামফেরেন্স।
এই মাপ অবশ্য পিঠ থেকে মাথা অবধি দৈর্ঘ্য নয়। বরং ঘাড়ের পরিধির মাপ। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পুরুষের ক্ষেত্রে ওই ঘাড়ের পরিধি ১৭ ইঞ্চি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ১৬ ইঞ্চির বেশি হলে, তা ভাল ঘুমের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঘাড়ের মাপের সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক কী?
ঘাড়ের পরিধির মাপ বেশি হওয়ার অর্থ ঘাড়ে অতিরিক্ত মেদ বা পেশিতন্তু জমা হয়েছে। ঘুমোলে শরীরের পেশি শিথিল হয়ে যায়। ঘাড়ের যদি বেশি মেদ বা অতিরিক্ত পেশি তন্তু থাকে, তবে তা শিথিল হলে তার চাপে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হবে, যা সরাসরি কমিয়ে দেবে ঘুমের মান।
অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা ওএসএ-র একটি অন্যতম প্রধান কারণ হল ঘাড়ের মেদবৃদ্ধি বা পেশতন্তু বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিধি বৃদ্ধি। এতে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং হঠাৎ করে শ্বাস চালু হয়। ফলে সারা রাত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে থাকে। গভীর ঘুম হয় না।
ঘাড়ের মাপ কি ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে?
গবেষণা বলছে, পুরুষের ঘাড়ের পরিধি ১৭ ইঞ্চি (৪৩ সেমি) বা তার বেশি হলে এবং মহিলাদের ঘাড়ের পরিধি ১৬ ইঞ্চি (৪০.৫ সেমি) বা তার বেশি হলে সমস্যা হতে পারে। যদি আপনার ১. তীব্র নাক ডাকা ২. ঘুমের মধ্যে হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে আসা ৩. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা ৪. দিনের বেলা প্রচণ্ড ঘুম ঘুম ভাব বা ক্লান্তি ৫. মনোযোগে অসুবিধা-র মতো সমস্যা হয়, তবে ঘাড়ের পরিধি মেপে দেখতে পারেন।
কেন উদ্বেগের?
ঘুমের মান খারাপ হলে তা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের সমস্যা তৈরি করতে পারে। যেমন— উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ঝুঁকি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ইত্যাদি।
প্রতিকারের উপায়
১. ওজন নিয়ন্ত্রণ: ঘাড়ের অতিরিক্ত মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শরীরের সামগ্রিক ওজন কমানো। নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস ঘাড়ের পরিধি কমাতে সাহায্য করে।
২. শোয়ার ধরন পরিবর্তন: চিৎ হয়ে শোয়ার বদলে পাশ ফিরে শুলে শ্বাসনালী অনেকটা উন্মুক্ত থাকে, যা নাক ডাকা বা শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৩. চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি দীর্ঘ দিন ধরে ঘুমের সমস্যায় ভোগেন, তবে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে তিনি 'স্লিপ স্টাডি' বা সিপ্যাপ থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন।
৪. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: ধূমপান এবং অ্যালকোহল বর্জন করুন, কারণ এগুলি শ্বাসনালীর পেশিকে আরও শিথিল করে দেয়, তাতে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।