শিশুকে সাঁতারে ভর্তি করানোর আগে কী কী মাথায় রাখতে হবে? ছবি: সংগৃহীত।
সাঁতারের মতো ভাল ব্যায়াম খুব কমই আছে। দিনের জন্য বরাদ্দ নানা রকম ব্যায়ামের পরিবর্তে সাঁতার কাটলেই অনেকটা কাজ সারা হয়ে যায়। পাশাপাশি, সাঁতার নানা রোগ থেকে শরীরকে ভালও রাখে। হাঁপানির মতো রোগ হোক বা দ্রুত মেদ ঝরানো— সব ক্ষেত্রেই সাঁতার ভীষণ জরুরি। তাই ছোট থেকেই অনেক অভিভাবক সন্তানকে সাঁতার ক্লাসে ভর্তি করান। তবে কোন বয়স থেকে সাঁতার শুরু করা যেতে পারে, জানেন?
শরীর চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি মনমেজাজ ভাল রাখতেও কিন্তু শিশুদের সাঁতার কাঁটা উচিত। চিকিৎসক অর্পণ সাহার মতে, চার বছরের পর থেকেই শিশুদের সাঁতারে ভর্তি করানো নিরাপদ। তবে ছোট শিশুদের সাঁতারে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে কিন্তু বাবা-মায়েদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
শিশুকে সাঁতারে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের কী কী মাথায় রাখতে হবে?
১) সাঁতারের ক্লাসে প্রশিক্ষক থাকলেও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে কিন্তু বাবা-মায়েদের তাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। ওই সময় ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করলে কিংবা অন্য অভিভাবকের সঙ্গে গল্পে মশগুল থাকলে কিন্তু যখন তখন যে কোনও বিপদ ঘটতে পারে।
২) যে সুইমিং পুলে খুদে সাঁতার কাটবে, তা আদৌ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আছে কি না, তা যাচাই করে নিতে ভুলবেন না। জল অপরিচ্ছন্ন থাকলে কিন্তু শিশুর শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই সুইমিং পুলটি নিয়মিত পরিষ্কার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে অভিভাবকদের।
৩) সাঁতারে ভর্তি করানোর আগে কিছু জিনিস অবশ্যই কিনে রাখুন। সাঁতার শেখার সময় কিছু জিনিস আবশ্যিক। যেমন সুইমিং ক্যাপ, সুইমিং কস্টিউম, গগল্স, ইয়ার ক্যাপ কিনতে ভুলবেন না। শিশুর সঙ্গে অতিরিক্ত তোয়ালে এবং জলের বোতল দিতে ভুলবেন না। শিশুকে জলে নামানোর আগে অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ সানস্ক্রিন মাখাতে হবে।
৪) সাঁতার কাটার পর খুদে যেন খুব ভাল করে সাবান দিয়ে স্নান করে, সে দিকটাও অভিভাবককে নজর রাখতে হবে। সুইমিংপুলের জলে ক্লোরিন থাকে। সেই ক্লোরিন গায়ে লেগে থাকলে কিন্তু ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই সতর্ক থাকুন।
৫) শিশুর সর্দি-কাশি, জ্বর হলে তাকে সুইমিং ক্লাসে পাঠাবেন না। এতে সমস্যা বাড়বে। শিশু পুরোপুরি সুস্থ হলে তবেই আবার প্রশিক্ষণের জন্য পাঠান।