Fake Brigadier

নিট-এ ব্যর্থ হয়ে সেনার ভুয়ো পোশাক কেনেন, ভাড়া করেন ‘কমান্ডো’ও! বক্তৃতা করতে দিয়ে ফাঁস ‘ব্রিগেডিয়ার’-এর কীর্তি

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরিয়ান তাঁর পরিবার এবং প্রতিবেশীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন যে তিনি ভারতীয় সামরিক ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্রিগেডিয়ার। তিনি কেবল মিথ্যে বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং সেই মিথ্যেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সিনেমার মতো সাজানো পরিবেশ তৈরি করেছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ১৬:০৭
Share:

ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।

ফেক ইট টিল ইউ মেক ইট। অর্থাৎ, সফল না হওয়া পর্যন্ত সফল হওয়ার ভান করা। এই কথাটি আমরা সবাই শুনেছি, কিন্তু উত্তরপ্রদেশের ২১ বছর বয়সি আরিয়ান বর্মা বিষয়টিকে এক বেআইনি পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এ দু’বার ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, তৃতীয় বার পড়াশোনা করার বদলে তিনি সোজা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা ‘ব্রিগেডিয়ার’-এর ছদ্মবেশ ধারণ করবেন। তবে বেশি দিন চলল না তাঁর কারসাজি। প্রকাশ্যে এল নকল ‘ব্রিগেডিয়ার’-এর কীর্তির কথা।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরিয়ান তাঁর পরিবার এবং প্রতিবেশীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন যে তিনি ভারতীয় সামরিক ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্রিগেডিয়ার। তিনি কেবল মিথ্যে বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং সেই মিথ্যেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সিনেমার মতো সাজানো পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। সেনার একটি পেশাদার ইউনিফর্ম কিনেছিলেন আরিয়ান। ভাড়া করেছিলেন একটি বিলাসবহুল এসইউভি। এমনকি দৈনিক ২,০০০ টাকার বিনিময়ে দুজন স্থানীয় বাউন্সারকে ‘এনএসজি কমান্ডো’ হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন।

তবে সেনাবাহিনীর কোনও প্রবীণ সদস্যের কাছে এই প্রতারণাটি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট এবং ধরা পড়ার মতো। বাস্তবে, ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদায় পৌঁছোতে সাধারণত ২৫ থেকে ২৮ বছরের চাকরির প্রয়োজন হয়। অথচ আরিয়ান কোনও রকম খোঁজখবর না নিয়েই সরাসরি সেই উচ্চ পদে আসীন হওয়ার ভান করেছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরিয়ানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পতন ঘটে তখন, যখন তাঁকে শাহজাহানপুর ক্যান্টনমেন্টে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে একটি ‘অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা’ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রচারের আলোয় আসার আগ্রহ নিয়ে তিনি পতাকা লাগানো এসইউভি-তে চড়ে সেখানে পৌঁছোন। কিন্তু সেখানে তিনি মুখোমুখি হন সেনাবাহিনীর আসল কর্মকর্তাদের। ধরা পড়ে যান আরিয়ান।

Advertisement

তল্লাশির সময় ‘ব্রিগেডিয়ার’-এর কাছে একটি ভুয়ো পরিচয়পত্র, এএফএমসি-র একটি জাল সিলমোহর এবং একটি খেলনা পিস্তল পাওয়া যায়। ঘটনার চূড়ান্ত পরিহাসের বিষয় হল, কর্মকর্তারা লক্ষ করেন যে আরিয়ানের ‘নক-নি’ বা দু’টি হাঁটু পরস্পরের সঙ্গ ঠেকে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, যা এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যার কারণে তিনি শুরুতেই সেনাবাহিনীতে যোগদানের অযোগ্য বলে বিবেচিত হতেন। আরিয়ান বর্তমানে গুরুতর আইনি অভিযোগের মুখোমুখি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে তাঁর।

আরিয়ানের ঘটনাটি সমাজমাধ্যমেও হইচই ফেলেছে। আলোচনা, সমালোচনা, বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘তরুণের বোকামি এখান থেকেই বোঝা যায়। তিনি সরাসরি একজন ব্রিগেডিয়ারের ছদ্মবেশ ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২১ বছর বয়সি ব্রিগেডিয়ার!’’ আরও এক জন যোগ করেছেন, ‘‘এই প্রতারণার পেছনে তিনি যে পরিমাণ শ্রম দিয়েছিলেন, তার মাত্র ১০ শতাংশও যদি নিটের জন্য ব্যয় করতেন, তবে তিনি এত দিনে ডাক্তারি পড়তেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement