ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
এক জন ‘সাধারণ’ বিক্রেতার কাছে আখের রস কিনতে গিয়েছিলেন তরুণী। কিন্তু আখের রস বিক্রেতার আসল পরিচয় জানতে পেরে চোখ কপালে উঠল তাঁর। বিষম খাওয়ার জোগাড়ও হল। বিক্রেতার কাছে টাটকা আখের রস কেনার পর তরুণী জানতে পারেন, ওই বিক্রেতা আদতে এক জন নেটপ্রভাবী। রাস্তার ধারের বিভিন্ন খাবার, দৈনন্দিন জীবন এবং সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে ইনস্টাগ্রামে ‘কন্টেন্ট’ পোস্ট করেন তিনি। প্রায় দেড় লক্ষ ফলোয়ার রয়েছে তাঁর। এর পরেই হতবাক হয়ে যান তরুণী।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা ইতিমধ্যেই এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন পূজা নামের ওই তরুণী। লিখেছেন, ‘‘গতকাল আমি বাজারের একটি আখের রসের দোকানে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ আমার চোখ দোকানের গায়ে লেখা ইনস্টা আইডির উপর আটকে যায়। আমি ভেবেছিলাম এটা শুধু মজা করার জন্য লেখা। তার পর সেই আইডি খুঁজে দেখি অ্যাকাউন্টটিতে ফলোয়ারের সংখ্যা ১,২৫,০০০। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, ভাই, আপনি তো এক জন বড় নেটপ্রভাবী।’’ তরুণী জানিয়েছেন, তাঁর কথা শুনে ওই আখের রস বিক্রেতা হেসে ফেলেন। বলেন, ‘‘তেমন কিছু না ম্যাডাম। আমি শুধু নিয়মিত ভিডিয়ো পোস্ট করি। মানুষের সেগুলি পছন্দ হয় বলে মনে হয়।’’ বিক্রেতার কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে যান তরুণী। তাঁর দাবি, ঘটনাটি তাঁকে উপলব্ধি করিয়েছে যে কোনও পরিশ্রমী মানুষই ছোট নয়।
ভাইরাল সেই পোস্টটি করা হয়েছে ‘পূজা’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সেই পোস্ট। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। অনেকে পোস্টটি দেখে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার আখের রস বিক্রেতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন অনেকে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘সত্যিই আজকের যুগে প্রতিভার অভাব নেই। অনেকেই তাঁদের প্রতি দিনের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে বিষয়স্রষ্টা হিসাবে অসাধারণ কাজ করছেন।’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘বড় বড় ব্যক্তিরাও লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে এমন অনুগত ফলোয়ার তৈরি করতে ব্যর্থ হন। শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম এবং সাধারণ হাসির মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছেন আখের রস বিক্রেতা।’’