ছবি: সংগৃহীত।
আমের নাম শুনলে জিভে জল আসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার! কিন্তু ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই গরমের ওই সুস্বাদু ফলটি থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। তাতে মরসুমি ফলের পুষ্টিগুণ থেকে যেমন বঞ্চিত হন মানুষ তেমনই অধরা থেকে যায় প্রিয় ফলের স্বাদও। উপায় কী?
পুষ্টিবিদেরা বলেন, আম কখন খাচ্ছেন আর কী ভাবে খাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আম খাওয়ার সঠিক সময়
১। প্রাতরাশে বা সকাল ১১টার দিকে প্রাতরাশ এবং দুপুরের খাবার খাওয়ার মাঝে আম খাওয়া সবচেয়ে ভাল। এই সময়ে শরীরের মেটাবলিজম বা হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত থাকে, ফলে আমের ক্যালরি সহজে শক্তি হিসেবে খরচ হয়ে যায়।
২। যদি শরীরচর্চা করেন, তবে তার ৩০-৪৫ মিনিট আগে বা পরে আম খেতে পারেন। এটি আপনাকে তৎক্ষণাত শক্তি জোগাবে দেবে এবং পেশির ক্ষয় পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে।
৩। রাতে খাবার খাওয়ার পরে ভুলেও আম খাবেন না। নৈশভোজের পর বা ঘুমানোর আগে আম খেলে আমে থাকা চিনি শরীরে চর্বি হিসাবে জমা হতে পারে। কারণ, রাতের বেলা শরীরের সক্রিয়তা কমে যায়, কমে যায় হজম করার ক্ষমতাও।
যেভাবে খেলে ওজন বাড়বে না
১। আম টুকরো করে কেটে চিবিয়ে খান। ব্লেন্ড করে বা ম্যাঙ্গো শেক বানিয়ে খেলে এর ভেতরের উপকারী ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। ফাইবার না থাকলে রক্তে সুগারের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং বেশি খিদে পায়। এতে বেশি খেয়ে ফেলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। যা ওজনবৃদ্ধি ঘটাতে পারে।
২। দুপুরের ভারী খাবার বা রাতের খাবারের ঠিক পরপরই আম খাবেন না। এতে একসঙ্গে অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে যায়। আম সব সময় একটি আলাদা পূর্ণাঙ্গ খাবার হিসেবে খান।
৩। প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট-এর সঙ্গে খান। আম খাওয়ার সময় কয়েকটি কাঠবাদাম, আখরোট বা সামান্য টকদই খেতে পারেন। প্রোটিন ও ফ্যাট থাকলে আমে থাকা চিনি শরীরে যায় ধীরগতিতে। ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে।
৪। মেপে খান। এটাই আসল চাবিকাঠি! ওজন ঠিক রাখতে দিনে একটি মাঝারি মাপের অর্থাৎ দেড়শো গ্রামের ওজনের আম খাওয়াই ভাল।