Mouth Ulcer Caution

মুখের ঘা ফিরে ফিরে আসছে? তা কিসের সঙ্কেত? কখন নেবেন চিকিৎসকের পরামর্শ, জেনে নিন

অনেকেই মুখে ঘা হওয়ার বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না বা অবহেলা করেন। কিন্তু সব সময়ই যে বিষয়টি অবহেলা করার মতো, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে ওই ঘা অবহেলা করলে বিপদ বাড়তেও পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ১৮:১৩
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

মাঝেমধ্যেই ঠোঁটের ভিতরে বা গালের পাশে কি ঘা হচ্ছে? ব্যথায় টাটিয়ে থাকছে সেই অংশটি। খাবার মুখে দিতে গেলেই হচ্ছে সমস্যা? এমন হওয়া কি স্বাভাবিক? এমনই কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এক চিকিৎসক।

Advertisement

মুখের ঘা বা আলসার খুব বিরল সমস্যা নয়। অনেকেই এমন সমস্যায় ভোগেন। সাধারণত এই ধরনের ঘা এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই ভালও হয়ে যায়। সে জন্য অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না বা অবহেলা করেন। কিন্তু সব সময়ই যে বিষয়টি অবহেলা করার মতো, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে ওই ঘা অবহেলা করলে বিপদ বাড়তেও পারে। ইন্টারনাল মেডিসিনের এক চিকিৎসক অনিকেত মুলে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, ‘‘মুখের ঘা অনেক সময়ে বড় কোনও শারীরিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।’’

সাধারণ মুখের ঘায়ের কারণ

Advertisement

১। মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।

২। খাবার খাওয়ার সময়ে অসাবধানতাবশত গালে বা জিভে কামড় লাগা।

৩। অতিরিক্ত ঝাল বা মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া।

৪। শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন।

৫। শরীরে ভিটামিন বা পুষ্টির সামান্য অভাব।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

চিকিৎসক অনিকেত জানিয়েছেন, মুখের ঘা যদি দু’-এক সপ্তাহের মধ্যে মিলিয়ে যায়, তবে আলাদা কথা। যদি অস্বাভাবিক কিছু দেখেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিছু লক্ষণ দেখলে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া উচিত।

১। যদি মুখের ঘা দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে এবং না কমে।

২। ঘা যদি বারবার ফিরে আসে অথবা আকারে ক্রমশ বড় হতে থাকে।

৩। ঘা থেকে রক্তপাত হলে।

৪। ঘা হওয়ার পরে যদি ক্রমাগত মুখে ব্যথা, খাবার গিলতে অসুবিধা, কোনও কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস, জ্বর বা অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়।

কী কী রোগের কারণে এমন হতে পারে?

মুখের ভিতরের স্বাস্থ্য অনেক সময়ে শরীরের ভিতরের নানা গুরুতর সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। যেমন, বারবার মুখে ঘা হওয়া শরীরে ভিটামিন বি১২, আয়রন বা ফোলেটের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা (ইমিউন ডিজ়অর্ডার)থাকলে, মেটাবলিক কন্ডিশন বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি ক্রনিক রোগের প্রথম সংকেতও মুখে দেখা যেতে পারে।

সঠিক চিকিৎসা

অনেকেই মুখের ঘা হলে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে দোকান থেকে কেনা সাধারণ জেল বা ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর করেন। এগুলি সাময়িক আরাম দিলেও মূল সমস্যার সমাধান করতে পারে না। অনিকেতের মতে, মুখের ঘা দীর্ঘদিন ধরে থেকে যাওয়া মানেই তা গুরুতর নয়। তবে ঘা কত দিন ধরে থাকছে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মুখে কোনও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় করলে ভবিষ্যতের নানা জটিলতা থেকে বাঁচা যেতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement