Postmenopausal syndrome

রজোনিবৃত্তির পরই ফুলে যাচ্ছে শরীর, পেটফাঁপার সমস্যা হচ্ছে? এমন লক্ষণের কারণ কী

শরীর ফুলে যাওয়া, পেট ফাঁপার সমস্যা রজোনিবৃত্তির সময় বা পরে কেন হয়? কী ভাবে এমন সমস্যার সমাধান সম্ভব?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪৭
Share:

রজোনিবৃত্তির পর শরীর ফুলে যাওয়া কি বিপদের ইঙ্গিত দেয়? ছবি: সংগৃহীত।

হঠাৎ করেই শরীর ফুলে যাচ্ছে, পেট ফাঁপছে? রজোনিবৃত্তির সময় বা পরে এমন অনেক লক্ষণের সঙ্গেই পরিচিত হন মহিলারা। অনেক সময়েই দেখা যায়, আচমকা শরীর ভারী লাগছে, মুখ-চোখ, হাত-পা ফুলে যাচ্ছে।

Advertisement

পুষ্টিবিদ শ্বেতা জে পঞ্চাল জানাচ্ছেন, রজোনিবৃত্তির পরে এই ধরনের উপসর্গ হরমোন-খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার জন্যই হয়। সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে এবং পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে শরীর ফুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পাশাপাশি পটাশিয়াম (আলু, পালংশাক, ডাবের জল, কলা) এবং ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধি খাবার যেমন কাঠবাদাম, কুমড়োর বীজ, সয়াবিন, পালংশাক ইত্যাদি পাতে রাখলে এমন সমস্যার সমাধান হতে পারে। পটাশিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বার করে দিতে সাহায্য করে, ম্যাগনেশিয়াম রক্তবাহী নালিকাগুলিকে শিথিল করে এবং পেটফাঁপা, পেট ফোলার মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে জরুরি নুনের মাত্রা কমানো। কারণ, সোডিয়ামই শরীরে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শরীর ফোলা দেখায়।

Advertisement

রজোনিবৃত্তির পরে শরীরে এমন অনেক বদলই শুরু হয়। তার নেপথ্যে থাকে মূলত ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের ভারসাম্যের অভাব, বলছেন বেঙ্গালুরুর স্ত্রীরোগ চিকিৎসক গণ শ্রীনিবাসন। তিনি জানাচ্ছেন, এই পর্যায়ে এসে দুই হরমোনের মাত্রা কমে যায়। তার ফলে শরীর থেকে জল বার করে দেওয়ার জন্য যে পন্থাটি এত দিন কার্যকর ছিল, তার উপর প্রভাব পড়তে শুরু করে। ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে গেলে রেনিন অ্যাঞ্জিয়োটেনসিন সিস্টেম (রক্তচাপ এবং ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষিত হয়) এবং কিডনির কার্যকারিতার উপরেও প্রভাব পড়ে, যার ফলে শরীরে তরলের আধিক্য বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে পেটফাঁপা বা পেটে অস্বস্তির মতো সমস্যা হয়।

সমাধান কী

Advertisement

সঠিক খাদ্যতালিকা, শরীরচর্চা, মানসিক চাপ কমানো— এই সব কিছুই শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং শরীরে জল জমা বন্ধ করতে খনিজেরও ভূমিকা থাকে। সোডিয়াম, জল ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে নুন খাওয়া কমানো জরুরি। আবার পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা ঠিক না থাকলেও শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, নুন খাওয়া একেবারে বন্ধ করলে যেমন চলবে না, তেমনই স্বাস্থ্যকর হলেও তা খেতে হবে পরিমাণ বুঝে। তা ছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা নুনও স্বাস্থ্যবান্ধব নয়। চেষ্টা করা দরকার টাটকা ফল, সব্জি, শাক, বাদাম খাওয়ার।

কখন তা বিপদের ইঙ্গিত

তবে শরীর ফুলতে শুরু করলে শুরুতেই সতর্ক হওয়া দরকার। প্রাথমিক ভাবে খাদ্যতালিকা বদলে দেখা যেতে পারে। এতে যদিও সুরাহা না হয়, শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গ বার বার ফুলতে শুরু করে, পেটের সমস্যাও বাড়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। চোখের নীচে ফোলা ভাব, পো ফোলার মতো উপসর্গ একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। হার্ট-কিডনির সমস্যা হলে এমনটা হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement