Fatty Liver

দেশে ফ্যাটি লিভারের রোগী ক্রমেই বাড়ছে! শুরুর কোন কোন উপসর্গ এড়িয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি বেড়েই চলেছে?

লিভারের কাজ হয় প্রায় অজান্তে। তাই যখন লিভারের সমস্যার কথা জানা যায়, তখন হয়তো চিকিৎসার জন্য অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ১৮:৩১
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

উদ্বেগজনক হারে দেশে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তেমনই বলছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর দেওয়া তথ্য। তারা জানিয়েছে, ভারতে স্থূলত্ব, ডায়াবিটিস রোগ এবং বিপাক প্রক্রিয়ার সমস্যাজনিত রোগ উত্তরোত্তর বাড়ছে। আর এই প্রতিটি সমস্যারই নেপথ্যে থাকতে পারে ফ্যাটি লিভার। আর তাই এ বার খাওয়াদাওয়া এবং জীবনযাপনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত লিভারের কথা মাথায় রেখে নেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের কথায়, লিভারের কাজ হয় প্রায় অজান্তে। তাই যখন লিভারের সমস্যার কথা জানা যায়, তখন হয়তো চিকিৎসার জন্য অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। হয়তো দেখা যাবে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়তে বাড়তে লিভার সিরোসিস বা লিভারের ক্যানসার বেধে গিয়েছে। যেখান থেকে ফেরার পথ না-ও থাকতে পারে।

Advertisement

ফ্যাটি লিভার কি নিঃশব্দ ঘাতক ?

ফ্যাটি লিভারকে নিঃশব্দ ঘাতক বা ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়, কারণ শুরুর দিকে লিভারের রোগের উপস্থিতি বুঝতেই পারা যায় না। তেমন কোনও উপসর্গও দেখা যায় না। মূলত লিভারে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট জমে গেলেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হয়। তার পরেও যদি চিকিৎসা করা না হয় বা জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে সমস্যা বেড়ে স্টিয়াটোহেপাটাইটিস হতে পারে। যা আদতে লিভারে প্রদাহ বেড়ে যাওয়া এবং ক্ষত সৃষ্টি করার মতো সমস্যা তৈরি করে। তা থেকে লিভার সিরোসিস এবং শেষ ধাপে লিভার ক্যান্সার হয়।

Advertisement

ফ্যাটি লিভার যদি সিরোসিসের দিকে এগোতে শুরু করে তবে রোগীর জন্ডিস, পায়ে জল জমা, পেটে জল জমা এবং রক্তবমির মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তখন লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। তবে এই পর্যায়ে পৌঁছোনোর খানিক আগে যদি সতর্ক হন, তবে লিভার বাঁচানো যেতে পারে।

শুরুর দিকেই সতর্ক হওয়ার উপায়

কিছু নিঃশব্দ উপসর্গ শুরুর দিকেই জানান দেয় লিভার। একটু খেয়াল করলে তখনই সামলে নেওয়া সম্ভব।

ক্রমাগত ক্লান্তি ও দুর্বলতা: পর্যাপ্ত ঘুমোনো বা বিশ্রামের পরেও যদি সারা ক্ষণ শরীরে চরম ক্লান্তি বোধ থাকে, তবে তা ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। লিভারে চর্বি জমলে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যায়। ফলে শরীর শক্তি উৎপাদন করতে পারে না এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

পেটের ডানদিকের উপরিভাগে অস্বস্তি: লিভার থাকে পেটের ডানদিকের পাঁজরের ঠিক নিচে। সেখানে যদি প্রায়ই ভারী ভাব, মৃদু ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করেন, তবে বুঝতে হবে লিভারের আকার বাড়ছে চর্বি জমার কারণে।

হজমে গোলমাল ও পেট ফাঁপা: ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হলে পিত্তরস নিঃসরণ স্বাভাবিক ভাবে হয় না। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হতে চায় না। অল্প খেলেই পেট ভার হয়। গ্যাস হওয়া বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি: কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই যদি শরীরের ওজন, বিশেষ করে পেটের মেদ বাড়তে থাকে, তবে তা ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ।

ক্ষুধামান্দ্য ও বমি ভাব: খাবারে অনীহা তৈরি হওয়া এবং মাঝে মাঝেই সকালের দিকে বমি ভাব হলে তা লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement