Samik Bhattacharya on Abhishek Banerjee

‘হে বীর, তোমায় মিস্ করছি, এসো’! অভিষেককে ফলতায় ভোটপ্রচারে আহ্বান শমীকের, সংখ্যালঘুদের বার্তা বিজেপির

আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট। শনিবার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার প্রচারে গিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ১৯:২০
Share:

(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শমীক ভট্টাচার্য (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

২৪ ঘণ্টা আগে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গড়’ ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২৪ ঘণ্টা পর সেই ফলতাতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ‘আবেদন’ করলেন অভিষেকের কাছে। শমীকের প্রশ্ন, কেন পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রচার করছে না তৃণমূল? একই সঙ্গে কটাক্ষ শানালেন তৃণমূলনেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।

Advertisement

আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট। শনিবার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি আবেদন করেছেন, ন্যূনতম ১ লক্ষ ভোটে জেতাতে হবে বিজেপি প্রার্থীকে। আর শমীক সেটা বাড়িয়ে করলেন সোয়া এক লক্ষ। একই সঙ্গে তিনি জাহাঙ্গিরের সমর্থনে প্রচারে বার হতে বললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেককে। কটাক্ষের সুরে শমীক বলেন, ‘‘পুলিশ নেই, তাই নেতা নেই। কনভয় নেই, তাই হুঙ্কার নেই! আমরা তো বলছি, আপনি আসুন ফলতায়। প্রচার করুন। আমাদের কর্মীরা, জেলা সভাপতি ফুল নিয়ে শাঁখ বাজিয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবেন।’’ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আপনি আসুন, হে বীর তোমার আসন পূর্ণ করো। তোমাকে আমরা মিস্‌ করছি। ভীষণ... তুমি এসো।’’

গত লোকসভা ভোটে এই ফলতা বিধানসভা থেকেই ১ লক্ষের বেশি ভোটের লিড পেয়েছেন অভিষেক। সেই ফলাফলের যিনি ‘কারিগর’ বলে মনে করে তৃণমূল, অভিষেক-ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির এ বারও ফলতা কেন্দ্রের প্রার্থী। শমীকের খোঁচা, রাজ্যে ভরাডুবির পরে জাহাঙ্গিরের প্রচারে তৃণমূলের কেউ আর বারই হচ্ছেন না। তাঁর কথায়, ‘‘সোনার টুকরো ভাইদের সোনার সংসার ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে।’’

Advertisement

ফলতা থেকে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বিজেপির রাজ্য সভাপতির বার্তা, ‘‘এখন যাঁরা আক্রমণ করার ঔদ্ধত্য দেখাছেন, আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। এই দেশটাকে নিজের দেশ বলে মনে করুন। বিজেপি আপনাদের পাশে আছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এখানে যে শাহজাহান না বাবরের ছেলে ঘোরাফেরা করেন, ওঁদের পরিচয়ে পরিচিত হবেন না। খলি মানে রাখবেন, এখন মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী। পদ্মফুলের উপর বসিয়ে মানুষ যাঁকে পৌঁছে দিয়েছেন। আর যাঁরা বাড়াবাড়ি করছেন, আমাদের বাধ্য করবেন না আপনাদের ভাষায় কথা বলতে।’’

শমীকের অভিযোগ, গত লোকসভা ভোট কিংবা পঞ্চায়েত ভোট, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর অত্যাচার করেছে তৃণমূল। তার পরেও পদ্মশিবিরের কর্মীরা লড়ে গিয়েছেন। আজ ঘাসফুলের নেতা-কর্মী নেই! নাম-না করে অভিষেককে খোঁচা দিয়ে শমীক বলেন, ‘‘যিনি বলেছিলেন ডিজে বাজাবেন, আমি বলেছিলাম হারমোনিয়াম, জলতরঙ্গও বাজাতে পারেন। সবই বাড়ির মধ্যে। কিন্তু যাঁরা লড়াই করবেন বলেছিলেন, এখন তাঁরা বাড়িতে শ্যাডো প্র্যাকটিস করছেন। মনে মনে লড়াই করছেন।’’

ফলতার তৃণমূল নেতৃত্বকে প্রচারে বার হতে ‘আহ্বান’ জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেছেন, তাঁরা নির্দ্বিধায় বাড়ি থেকে বেরোতে পারেন। মিছিল করতে পারেন। মঞ্চ বেঁধে সভা করতে পারেন। বিজেপির তরফে তাঁদের উপর কোনও আক্রমণ হবে না। তবে সদ্য ক্ষমতা হারানো তৃণমূল আর রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরবে না বলেও মন্তব্য করেন শমীক। তিনি বলেন, ‘‘গঙ্গার জল রাইটার্সের দোতলায় পৌঁছোতে পারে, আকাশ নবান্নে নেমে আসতে পারে। একেনবাবুর মাথায় চুল গজাতে পারে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’’

শমীকের ঘোষণা, দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে আর ‘পরিযায়ী শ্রমিকের জেলা’ হয়ে থাকতে হবে না। কিছু দিনের মধ্যে বিজেপি সরকার কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত করবে। রুজির টানে ভিন্‌রাজ্যে যেতে হবে না। তিনি বলেন, ‘‘আমি সরকারের প্রতিনিধি নই। সরকার সরকারের মতো চলছে। আমি দল চালাচ্ছি। কিন্তু আমি কখনও পুলিশকে নির্দেশ দেব না। ফোন করে পুলিশকে বদলি করব না। কোনও কর্মী ফোন করে প্রধানকে পদত্যাগ করতে বলে সমান্তরাল সরকার চালাবে না। মুখ্যমন্ত্রী কাজ করছেন। প্রতি দিন নিজের প্রতিশ্রুতি পালন করবেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement