নিজের মনে ঘরের কাজ, মন-শরীর ভাল রাখতে তা কেন জরুরি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ঘরের কাজ কী এমন কাজ! কী এমন আছে এতে? এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় কম-বেশি অনেক গৃহিনীকেই। চাকরি, ব্যবসা বা পেশাজগতের নানা কাজকে যতখানি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার বিন্দুমাত্র গুরুত্ব পায় না ঘরের কাজ। এই নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য যতই থাক— এমন কাজই কিন্তু মন ভাল রাখার অন্যতম পন্থা হতে পারে। মনোবিদেরা বলছেন, "নিজের মনে হালকা কাজ করার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ভাল থাকার শর্ত। খুব বেশ ভাবনাচিন্তা না করে যে কাজ করা যায়, তা কিন্তু মন এবং শরীর, দুই-ই ভাল রাখতে পারে।’’
ঘর গুছিয়ে রাখা, গাছে জল দেওয়া, বইপত্র গুছিয়ে তোলা, বাড়ি পরিষ্কার রাখার মতো কাজে ভাবনাচিন্তার বিশেষ দরকার পড়ে না। বলা চলে অভ্যাসবশেই এই কাজগুলি করে ফেলতে পারেন যে কেউ। মস্তিষ্কের উপর চাপ প্রয়োগ না করে এমনই ঘরোয়া সাধারণ কাজই কিন্তু মানসিক চাপ কমাতে পারে। উদ্বেগেরও ‘টোটকা’ হয়ে উঠতে পারে।
দিল্লির এক হাসপাতালের মনোবিদ জেসমিন অরোরা সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, ঘরের এমন সাধারণ কাজই ব্যক্তিবিশেষের কাছে ‘থেরাপি’-র মতো হয়ে ওঠে। মন ভার হয়ে থাকা লাঘব করে, কোনও কারণে খুব চিন্তিত থাকলেও, ধীরে ধীরে মনকে শান্ত করে। তার কারণ হল, এই কাজগুলি মস্তিষ্কের প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর উপর প্রভাব ফেলে চাপ কমাতে সাহায্য করে।
অফিসের কাজ নিয়ে কিংবা পারিবারিক ভাবে কারও স্বাস্থ্য নিয়ে দু্শ্চিন্তায় রয়েছেন। এমন সময়, নিজের খেয়ালেই এলোমেলো জামাকাপড় গুছিয়ে নিতে পারেন, আলমারির অগোছালো তাকটা গুছিয়ে ফেলতে পারেন, কিংবা বাগান থাকলে গাছের পরিচর্যা করতে পারেন। কাজের মাধ্যমেই দু্শ্চিন্তার প্রাবল্য ধীরে ধীরে কমবে। মন অন্য দিকে ঘুরবে। আসলে এর নেপথ্যে কাজ করে ‘ডোপামিন’-এর মতো হরমোন, যা আনন্দ বা সুখানুভূতি তৈরি করে। ছোটখাটো কাজগুলি মস্তিষ্কে ডোপামিনের ক্ষরণ বাড়িয়ে তোলে। আবার ‘কর্টিসল’ নামক হরমনোন দুশ্চিন্তা, মনখারাপের কারণ হয়। সাধারণ সাংসারিক কাজ এক দিকে যেমন ডোপামিন নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি করে, তেমনই অন্য দিকে কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
নতুন কোনও বিষয় শেখা, অভিজ্ঞতা তৈরি, কাজ করার নেপথ্যে থাকে মস্তিষ্কের বিশেষ ক্ষমতা, যাকে বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’। এটি মস্তিষ্কের নিউরনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনেও সাহায্য করে। বয়স হলে মস্তিষ্কের এমন ক্ষমতা কমতে থাকে, অ্যালঝাইমারের মতো অসুখ দেখা যায় কারও। কিন্তু ঘরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলে বা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ঘরের কাজ করার অভ্যাস বজায় রাখলে শরীর যেমন সচল থাকে, তেমনই মস্তিষ্কের ব্যায়ামও হয়।
যেমন নিজে হাতে বাগান পরিচর্যা, বিছানা পরিষ্কার রাখা, রান্নাঘর গুছিয়ে রাখার মতো কাজ করতে ভাল লাগে, তার কারণ, এতে এন্ডরফিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়। তা ছাড়া, ঘরোয়া কাজে অঙ্গ সঞ্চালন হয়। হালকা কাজ, ফলে করতে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু হাত, পা, পেশির ব্যায়ামে রক্ত সঞ্চালন হয়। এন্ডরফিনের মতো হরমোন মনে ভাললাগা, খুশি-তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে।