এক বছরের নীচে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ালে কী কী সমস্যা হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।
শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানোর চল এ দেশে বহু কালের। অনেকের ধারণা, গরুর দুধ সুষম আহার। সেই ধারণা থেকেই ভারতের ঘরে ঘরে গরুর দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য যেমন ছানা, দই, ক্ষীর, পনির ইত্যাদি প্রায়শই খাওয়ানো হয়ে থাকে শিশুদের।
দুধ ক্যালশিয়ামের অন্যতম সেরা উৎস। তার পাশাপাশি দুধে ফসফরাসও থাকে। অনেক শাক-সব্জিতে ক্যালশিয়াম থাকলেও, সেখানে অক্সালেট বা ফাইটেট জাতীয় পদার্থ থাকে যা ক্যালশিয়াম শোষণে বাধা দেয়। দুধে এই ধরনের উপাদান থাকে না। তাই এর বায়োঅ্যাভেলেবিলিটি বেশি। অর্থাৎ এর পুষ্টিরস গ্রহণ করা অনেক সহজ। দুধের ক্যালশিয়াম ও ফসফরাসের নিখুঁত ভারসাম্যই একে হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। দুধের প্রোটিনের ভেঙে কেসিন ফসফোপেপটাইডস তৈরি হয়। যা ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং জিঙ্কের মতো খনিজগুলির শোষণে সাহায্য করে। অধিকাংশ খাবারে এই পুষ্টিগুণ থাকলেও শরীর তা সম্পূর্ণ ভাবে গ্রহণ করতে পারে না। ল্যাক্টোফেরিন হল দুধে থাকা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রোটিন, যা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া দুধে দু’রকম প্রোটিন—কেসিন এবং হোয়ে প্রোটিনের সঠিক ভারসাম্যে রয়েছে।
গরুর দুধের অনেক গুণ থাকলেও এক বছরের নীচে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানো চলবে না। বারে বারে এই সতর্কবার্তাই দিয়ে থাকেন শিশুরোগ চিকিৎসকেরা। উপকার অনেক হলেও কেন এমন নিষেধাজ্ঞা?
গরুর দুধে প্রোটিন অনেক বেশি মাত্রায় থাকে। তাই এক বছরের নীচে শিশুদের পাকস্থলী সেই প্রোটিন হজম করতে পারে না। এ ছাড়া গরুর দুধ থেকে অনেক শিশুর অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকে। একে বলা হয়, ‘কাউ মিল্ক প্রোটিন অ্যালার্জি’। এর ফলে বমি, পেটের সমস্যায় ভুগতে পারে শিশু। এ ছাড়া গরুর দুধে যে আয়রন থাকে তা শিশুদের শরীরে সহজে শোষিত হয় না। এক বছরের নীচে যে শিশু গরুর দুধ খায় তার অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। গরুর দুধের সোডিয়াম আর পটাশিয়ামের মাত্রা স্তনদুগ্ধের তুলনায় তিন-চার গুণ বেশি থাকে, ফলে শিশুদের কিডনির অসুখ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে এ ক্ষেত্রে সাত থেকে আট মাস বয়সের পরে শিশুদের দুগ্ধজাত খাবার যেমন ছানা, দই খাওয়া যেতে পারে।
১ বছরের পরে শিশুদের গরুর দুধ দেওয়া যেতে পারে। প্রথম দিকে দুধের সঙ্গে জল মিশিয়ে দেওয়া শুরু করতে পারেন। কোনও রকম সমস্যা দেখা না দিলে সপ্তাহ দুয়েক পর জল ছাড়াই দুধ খাওয়ানো যেতে পারে শিশুদের। এ ক্ষেত্রে বাজারে প্যাকেটজাত গরুর দুধও দেওয়া যেতে পারে, আবার বাজার থেকে খোলা দুধ কিনে এনে ভাল করে ফুটিয়েও খাওয়ানো যেতে পারে। তবে ১ বছরের উপরেও শিশুকে দুধ দেওয়া হলে পরিমাণের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। সারা দিনে ৪০০-৫০০ মিলিলিটারের বেশি দুধ দেওয়া চলবে না। বেশি দুধ খেলে শিশুর পেট ভরে যাবে। ফলে, খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হবে। এ ছাড়া দুধের কারণে শরীরে আয়রনের ঘাটতি আর কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও হতে পারে।