Diet vs Lifestyle

ডায়েট শুরু করতে না করতেই হোঁচট! আসল দোষ পদ্ধতির, যাপন বদলালেই বদলাবে জীবন

শুরু হল কড়া ডায়েট। কিন্তু চলল টেনেটুনে এক সপ্তাহ। তার পরেই কোনও এক দিন রাতে ২-৩টি মিষ্টি খেয়ে ফেললেন। কিংবা কোনও এক সন্ধ্যায় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে জমিয়ে খেয়ে ফেললেন কাটলেট-পোলাও-কষা মাংস।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪২
Share:

যাপন বদলে জীবন বদলান! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অসুখ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলেন। তিনি চেহারা দেখে পাল্টা বললেন— ‘‘এত ওজন বাড়লে রোগ তো হবেই! ওজন কমান আগে।’’ বাড়ি ফিরলেন হিসাব কষতে কষতে— কী কী খাওয়া বন্ধ করতে হবে। চায়ে চিনি, রাতে খাওয়ার পরের মিষ্টি, বিকেলের চপ-তেলেভাজা, কমাতে হবে দুপুরের ভাত-আলুসেদ্ধের পরিমাণও। শুরু হল কড়া ডায়েট। কিন্তু চলল টেনেটুনে এক সপ্তাহ। তার পরেই কোনও এক দিন রাতে ২-৩টি মিষ্টি খেয়ে ফেললেন। কিংবা কোনও এক সন্ধ্যায় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে জমিয়ে খেয়ে ফেললেন কাটলেট-পোলাও-কষা মাংস।

Advertisement

এই যে চেয়েও পারলেন না ডায়েট বজায় রাখতে, তার কারণ মানসিক দৃঢ়তার অভাব নয়। কারণটা পদ্ধতিগত। আর এটি যে কোনও মানুষের ক্ষেত্রেই হতে পারে। তবে খাবারে বজ্রআঁটুনির বদলে যদি সার্বিক যাপনে কিছু কিছু বদল আনা যায়, তা হলে বিষয়টি আর ততটা কঠিন থাকে না। সুস্থ অভ্যাস বজায় রাখা সহজ হয়ে যায়। জীবনে সুস্থ পরিবর্তনও আসে স্থায়ী ভাবে। যার সার্বিক ভাল প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্যে।

ডায়েট কেন কাজ করে না?

Advertisement

বেশির ভাগ ডায়েট প্ল্যান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তৈরি করা হয়। সেগুলি ব্যর্থ হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে—

১) অত্যধিক বিধিনিষেধ: খাবারে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করলে শরীর ও মনের ওপর চাপ পড়ে। ফলে মানুষ দ্রুত ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন।

২) ক্রাশ ডায়েট: অর্থাৎ খুব দ্রুত ওজন কমানোর নেশায় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিলে শরীরের বিপাক হার কমে যায় এবং পুষ্টির অভাব দেখা দেয়।

৩) মানসিক চাপ: ডায়েটকে অনেকে একটি ‘শাস্তি’ হিসেবে দেখেন। যা দীর্ঘ অনিয়মের জন্য নিজেকে ভোগ করতে হবে। কিন্তু ‘শাস্তি’ তো দিনের পর দিন সহ্য করা সম্ভব নয়। তাই ডায়েটও দীর্ঘ দিন ধরে চলে না।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন করতে হলে কী করতে হবে?

জীবনযাত্রার পরিবর্তন হল একটি সামগ্রিক ভাল থাকার প্রক্রিয়া। যা করতে হলে দৈনন্দিন যাবতীয় অভ্যাসে বদল আনা দরকার।

১) খাদ্যাভ্যাসে বদল: কোনও নির্দিষ্ট খাবার পুরোপুরি বন্ধ না করে অল্প পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করা। সেই সঙ্গে কোনও বিশেষ সময়ে বিশেষ কিছু খাওয়ার ইচ্ছে কেন হচ্ছে? কোনও পুষ্টির অভাব তার নেপথ্য কারণ কি না, তা-ও খুঁজে বার করে সঠিক পুষ্টির জোগানের ব্যবস্থা করা এবং সেইমতো খাওয়াদাওয়ার রুটিন বদলানো।

২) সক্রিয় থাকা: শুধু জিমে গেলেই হল না, প্রতি দিন হাঁটাহাঁটি, কায়িক শ্রমের মাধ্যমে সক্রিয় থাকা জরুরি। দিনের অধিকাংশ সময় শুয়ে-বসে কাটালে আধ ঘণ্টার শরীরচর্চা খুব বেশি উপকার করতে পারবে না।

৩) পর্যাপ্ত ঘুম: শরীর পুনর্গঠন এবং হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে ঘুমের কোনও বিকল্প নেই। তাই প্রতি দিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া। অন্তত ৭ ঘণ্টার ঘুম এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার রুটিন বজায় রাখা জরুরি।

৪) মানসিক প্রশান্তি: স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা কমানোও দরকারি। যা পরোক্ষ ভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই সারা দিনে যে যে কারণে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, সেই কারণগুলি সমাধানের চেষ্টা করুন।

দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল পেতে কী কী করতে পারেন?

৮০/২০ নিয়ম : খাদ্যাভ্যাসের ৮০ শতাংশ হোক স্বাস্থ্যকর খাবার এবং বাকি ২০ শতাংশ আপনার পছন্দের খাবার হতে পারে। এতে কোনও কিছু থেকে বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি হবে না।

অল্প করে শুরু : রাতারাতি সব কিছু বদলে না ফেলে ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করুন। যেমন— চিনি খাওয়া কমানো বা প্রতি দিন ১৫ মিনিট হাঁটা।

প্রোটিন-ফাইবারের গুরুত্ব : পাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার (শাকসব্জি) রাখুন, যা পেট দীর্ঘ ক্ষণ ভরিয়ে রাখবে।

জল পান : শরীরকে সতেজ রাখতে এবং শরীরে জমা দূষিত পদার্থ টেনে বার করে দিতে দিনে অন্তত তিন লিটার জল পান করা জরুরি। তবে কিডনির সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জলের মাত্রা নির্ধারণ করবেন।

কেন জীবনযাত্রার পরিবর্তনেই কাজ হবে?

নিয়মে বাঁধা ডায়েট বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষ্যপূরণের পরে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়। অন্য দিকে, জীবনযাত্রায় সার্বিক বদল আনলে কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পরে তা থেমে যায় না। রুটিন অভ্যাস করার জন্য সময় ভাগ করে নিতে হয়। আর এক বার সেই সময় ভাগ হয়ে গেলে আর রুটিনে অভ্যস্ত হলে জীবন সেই রুটিন মেনেই চলতে থাকে। তাতে লাভ হয় বেশি। এতে যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে সুস্থ হয় জীবন, তেমনই মানসিক শক্তি আর আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement