চল্লিশোর্ধ্ব মহিলারা ফলের তালিকায় বেদানা কেন রাখবেন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
৫০ পার করেও তন্বী মুম্বইয়ের টেলি অভিনেত্রী মিনি মাথুর। সুস্থ থাকার ব্যপারেও সচেতন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ৫০ বছর বয়স পেরোনোর পর থেকে নিজের শরীরের যত্নে তিনি কয়েকটি সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত গ্রহণ করেন। মিনি শুধু সাপ্লিমেন্ট নয়, তাজা পুষ্টিকর খাবারেও ভরসা রাখেন। তিনি জানিয়েছেন, “মধ্যবয়স্ক মহিলাদের জন্য বেদানা হল সবচেয়ে ভাল ফল।” বাজারে ফলের কমতি নেই। যে কোনও ফলেরই উপকারিতা যথেষ্ট। তা হলে বেদানা কেন মধ্যবয়সে স্বাস্থ্যরক্ষায় জরুরি।
মিনির কথায়, মধ্যবয়সে এসে মহিলাদের শরীরে যে হরমোনের ওঠাপড়া চলে, তা ঠিক রাখতে সাহায্য করে বেদানা। এই ফল প্রদাহ কমায় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষাও করে। এক কথায়, শরীর ভাল রাখার সব উপাদানই মজুত থাকে এতে।
বেদানার গুণের কথা মানছেন পুষ্টিবিদ থেকে চিকিৎসকেরাও। পু্ষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক জানাচ্ছেন, বেদানায় রয়েছে উদ্ভিজ্জ পলিফেনল (এলাজিটানিন এবং এলাজিক অ্যাসিড)। অন্ত্রে থাকা ব্যাক্টেরিয়া, এই পলিফেনলগুলিকে ইউরোলিথিনে পরিণত করে। ইউরোলিথিন কোষ মেরামতিতে সাহায্য করে, বার্ধক্যের গতি শ্লথ করে। পাশাপাশি, উপাদানটির ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে। ৪০-এর পরে মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমতে থাকে। তার ফলে মহিলাদের শরীর-মনে নানা রকম বদল হয়। মেজাজেও তার প্রভাব পড়ে। ঘাড়ের কাছে গরম বোধ হয়। বেদানায় থাকা এই উপাদান হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
হায়দরাবাদ নিবাসী ডায়াবিটিসের চিকিৎসক রঙ্গা সন্তোষ কুমার এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, বেদানায় থাকা অ্যান্থোসায়ানিন এবং পিউনিকালাজিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা কোষগুলিকে অক্সডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে, শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
বেদানার আর কোন গুণ মহিলাদের জন্য উপযোগী
অনন্যা জানাচ্ছেন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকার জন্যই বেদানা ডিম্বাশয়ের কোষের ক্ষতি রুখতে সাহায্য করে। প্রদাহ কমিয়ে হরমোনের ভারসাম্যও বজায় রাখে। নিয়ম করে একটি ছোট কাপের এক কাপ বেদানা খাওয়াই যায়। তবে শুধু মহিলা নয়, বেদানা যে কোনও বয়সের জন্যই তা উপকারী।