ছবি: সংগৃহীত।
স্বাস্থ্য অনেকটা ব্যাঙ্কের বিনিয়োগের মতোই। এক মাস বা দু’মাসে লাভের অঙ্ক তেমন বোঝা যাবে না। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে, একটু ধৈর্য ধরে থাকতে পারলে বছর পাঁচেক পরে বোঝা যাবে লাভের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে কতখানি। কিন্তু পাঁচ বছর সময়ও তো নেহাত কম নয়। তাই হাতে সময় থাকতে সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ! তেমনই পরামর্শ দিচ্ছেন এক খ্যাতনামী চিকিৎসক পালানিপ্পন মানিক্যম।
পালানিপ্পন একজন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট। সিদ্ধার্থ মলহোত্র, রবিনা ট্যান্ডনের মতো বলিউডের তারকারা তাঁর রোগী। তিনি নিজেও কম তারকা নন, চিকিৎসার পাশাপাশি শখের হাস্যরস শিল্পী হিসাবে বিদেশের মঞ্চ মাতান। তাঁকে ব্যাটম্যানের মতো ‘গাটম্যান’ বলে ডাকেন অনুরাগীরা। সেই তিনিই সুস্বাস্থ্যের জন্য ওই পাঁচ বছরের ‘ফিক্সড ডিপোজ়িট’-এর টোটকা দিয়েছেন। চিকিৎসক পালানিপ্পন বলেছেন, ‘‘এখন একটা ছোট্ট প্রাত্যহিক অভ্যাস বদলালে, তার আসল ফলাফল আপনি দেখতে পাবেন ৫ বছর পরে। সময়টা হয়তো একটু দীর্ঘ মনে হচ্ছে। কিন্তু সময় তো যাবেই। আপনি তার সঙ্গে নিজেকে উন্নত করবেন, না কি পিছিয়ে থাকবেন, সেটা আপনার সিদ্ধান্ত।’’
সুস্বাস্থ্যের জন্য কোনও অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদে বদলাতে চাইলে বা নতুন কোনও অভ্যাস শুরু করতে চাইলে তার নানা রকম উপায় আছে। কেউ খাওয়াদাওয়ার সময় বদলাতে পারেন, কেউ বদলাতে পারেন বাইরে খাওয়ার অভ্যাস। আবার রাতে প্রতি দিন ৭ ঘণ্টা ঘুমোনোর অভ্যাসও তৈরি করতে পারেন কেউ কেউ। কেউ বা প্রতি দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়ার অভ্যাস শুরু করতে পারেন। তবে এ সবের বাইরে আরও একটি অভ্যাসের কথা বলেছেন চিকিৎসক পাল। তিনি বলছেন, ‘‘৪০ বছর বয়সে নানা রকম বদল আসে শরীরে, তা যাতে আপনাকে কোনও ভাবে দুর্বল না করে ফেলে তাই ৫ বছর আগেই সতর্ক হোন। প্রতি দিন অন্তত আধ ঘণ্টা করে হাঁটুন। তাতে ৫ বছর পরে নানা রকম সুপরিবর্তন লক্ষ করবেন শরীরে।’’
প্রতি দিন আধ ঘণ্টা করে হাঁটলে পাঁচ বছরে কী কী বদল আসবে শরীরে?
১. প্রথমেই যেটা হওয়ার, তা হল ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ। রক্তে শর্করার মাত্রা হিসাবের বাইরে ওঠানামা করার প্রভাব নানা ভাবে পড়ে শরীরে। তৈরি হয় নানা জটিল রোগের সম্ভাবনা। এমনকি, ক্যানসারের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস থাকলে শরীরে ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা ভাল থাকবে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা থাকবে নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ করে প্রতি দিন ৩০ মিনিট জোরকদমে হাঁটার অভ্যাস থাকলে, শরীরে ডায়াবিটিস কামড় বসাতে পারবে না। দূর থাকবে আরও বহু জটিল রোগের ঝুঁকি।
২. হার্টের স্বাস্থ্য ভাল থাকে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসে হৃৎস্পন্দন নিয়মিত হয়। যা হার্টের রোগ, স্ট্রোকের মতো রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
৩. বিপাকের হার উন্নত হয়। নিয়মিত আধ ঘণ্টা জোরে হাঁটলে অন্তত ১৫০-২০০ ক্যালোরি ঝরাতে পারেন। যা মেদ কমানোর জন্য কাজের। এছাড়া পেশি এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখে।
৪. মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে পারে। ৩৫-৪০ বছর বয়সে নানা ধরনের মানসিক চাপ ঘিরে থাকে। হাঁটলে মেজাজ ভাল থাকে। ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা অনেক বাড়ে। এমনকি ভাল থাকে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যও। বয়স বাড়লে অনেক সময় স্মৃতিশক্তি, মনঃসংযোগ করার শক্তি দুর্বল হয়। নিয়মিত হাঁটলে সেই সমস্যাও মিটবে।
৫. আর বাড়বে সুস্থ আয়ু। শুধু বেঁচে থাকা নয়, দুর্বল হয়ে বেঁচে থাকাও নয়, সক্ষম এবং সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে হলেও নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শুরু করা জরুরি।