নায়কের মতো চেহারা পেতে চান? শরীরচর্চার কোন ভুল নিয়ে সতর্ক করছেন প্রশিক্ষক? ছবি: সংগৃহীত।
শরীর নিয়ে সচেতন তরুণ প্রজন্মের অনেকেই। শুধু সুস্থ থাকাই নয়, আকর্ষণীয় চেহারা পেতে পুরুষ-মহিলাদের অনেকেই এখন জিমমুখী। কেউ চাইছেন বলিউডের নায়কদের মতো পেশিবহুল চেহারা, কারও লক্ষ্য কোমর-পেটের বাড়তি মেদ ঝরিয়ে তন্বী হয়ে ওঠা। লক্ষ্য যা-ই হোক না কেন, শরীরচর্চার ভুলই কিন্তু বিপদ ডেকে আনতে পারে।
দক্ষ প্রশিক্ষকের নজরদারির বাইরে ঠিকমতো না জেনে যন্ত্র নিয়ে ব্যায়াম করতে গেলে শুধু যে পেশিতে চোট লাগতে পারে তা নয়, বরং জিম করতে গিয়ে আচমকা হার্ট অ্যাটাক বা অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো প্রবণতাও ইদানীং চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। ইনটেন্স এক্সারসাইজ়ের সময় বিশেষ ধরনের ওয়ার্ম আপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই সতর্ক করলেন বলিউড অভিনেত্রী তমন্না ভাটিয়ার ফিটনেস প্রশিক্ষক সিদ্ধার্থ সিংহ। সমাজমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, দুই ধরনের ওয়ার্ম আপ হয়— সাধারণ এবং বিশেষ লক্ষ্য নির্ভর। ওয়ার্মআপ শরীরের জড়তা কাটাতে গা-গরম করতে সাহায্য করে। এতে ব্যায়ামে সুবিধা হয়। ৪ মিনিট কার্ডিয়ো করলে বা ট্রেড মিলে হাঁটলেই সাধারণত ওয়ার্মআপ হয়ে যায়। তবে বিশেষ বা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ভর ওয়ার্ম আপের দরকার হয় ইনটেন্স এক্সারসাইজ়ের সময়।
কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কারা করবেন?
কেউ চান চওড়া ছাতি, কেউ চান ‘পাঠান’-এর শাহরুখ খানের মতো নিখুঁত অ্যাবস। যেখানে শরীরের প্রতিটি ভাঁজ, খাঁজ স্পষ্ট হবে।
কলকাতার ফিটেনস প্রশিক্ষক অনিকেত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘শুরুতে জগিং, হালকা ব্যায়াম জরুরি। এটি হল সাধারণ ওয়ার্মআপ। যাতে শরীর, মাংসেপশির তাপমাত্রা বাড়ে। কারণ ওয়ার্ম আপ না করে ব্যায়াম করতে গেলে কেউ পেশিতে চোট পেতে পারেন। তবে স্পেসিফিক ওয়ার্ম আপ দরকার যাঁরা ইনটেন্স এক্সারসাইজ় করছেন, তাঁদের। ক্রীড়াবিদ বা যাঁরা নিখুঁত পেশিবহুল শরীর বানাতে চান, তাঁদের এটি করা প্রয়োজন।’’
কেমন হয় বিশেষ ওয়ার্ম আপ?
ইনটেন্স বা বেশি কায়িক শ্রমের শরীরচর্চা, যেমন ওজন তোলা বা নির্দিষ্ট কোনও অংশের ব্যায়াম গুরুত্ব দিয়ে করতে হলে বিশেষ ওয়ার্মআপের দরকার হয়। ধরা যাক, কেউ বুকের পেশি সবল এবং সুন্দর করতে নির্দিষ্ট ব্যায়াম করবেন। তিনি ওজন তুলতে পারেন বা বিশেষ যন্ত্রের সাহায্য নিতে পারেন। সেই ব্যায়াম করার সময় অস্থিসন্ধিতে যাতে টান না লাগে, পেশিতে না আঘাত লাগে, সে জন্য শরীরের ওই অংশের পেশিগুলিতে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পাওয়া জরুরি। এককথায় বলা চলে, নির্দিষ্ট ব্যায়াম করার আগে শরীরের বিশেষ প্রস্তুতি জরুরি।
ফিটনেস প্রশিক্ষক জানাচ্ছেন, যিনি বুকের পেশিকে নির্দিষ্ট আকার দিতে ব্যায়াম করবেন, সে ক্ষেত্রে টি-স্পাইন এক্সটেনশন ইউজ়িং ফোম রোলার বা টি-স্পাইন রোটেশনের মতো ব্যায়ামগুলি শরীরের নির্দিষ্ট অংশে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করবে। পেশি সঞ্চালনে সাহায্য করবে। এতে কাঁধ, ঘাড় ঘোরানোর সময় চট করে ব্যথা লেগে যাবে না।
আবার যিনি হয়তো ৮০ কেজি ওজন নিয়ে শরীরচর্চা করেন, শুরুতে তাঁকে ১০ কেজি নিয়ে ৫ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। পরের ৫ মিনিট তিনি আরও একটু বেশি ওজন নিয়ে করবেন। সব শেষে ৮০ কেজি। ধাপে ধাপে শরীরচর্চা করলে আচমকা পেশি বা স্নায়ুতে হ্যাঁচকা টান লেগে যাওয়ার ভয় থাকবে না বা চোট লাগবে না।
কেউ ভারী ওজন নিয়ে স্কোয়াট করবেন, কিন্তু ওয়ার্ম-আপ হিসেবে শুধু হাঁটলে বা কার্ডিয়ো করলে হার্টরেট বাড়বে ঠিকই, কিন্তু স্কোয়াটের জন্য পায়ের যে বিশেষ পেশিগুলি সক্রিয় হওয়া দরকার, সেগুলি পুরোপুরি প্রস্তুত হবে না। আবার প্রতিটি ব্যায়ামের নিজস্ব ধরন আছে, যেখানে নির্দিষ্ট অঙ্গ সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। সেই অঙ্গ সঞ্চালনের জন্য স্নায়ু এবং পেশির সমন্বয়ের প্রয়োজন। বিশেষ ধরনের ওয়ার্ম আপ সেই কাজটি সহজ করে।