দেবাদিদেবের যেমন
রুদ্ররূপ আছে, পাশাপাশি
রয়েছে শান্ত যোগেন্দ্ররূপও। তাঁর ভক্তদের মনে অনেক সময়ই প্রশ্ন জাগে, কোন রং বিশেষ ভাবে প্রিয় ভোলানাথের। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শিব অল্পেই তুষ্ট। যাঁরা তাঁর পুজো করেন তাঁদের তিনি দেন ত্যাগ এবং সংযমের
শিক্ষা। জাগতিক ভোগবিলাসে আসক্ত না থাকলে সন্তুষ্ট হন পিনাকপাণি। তাঁর পছন্দের রঙে
তাই উজ্জ্বলতার ছোঁয়া দেখা যায় না। কোনও একটি নির্দিষ্ট রং তাঁর প্রিয় নয়। তিনি সে
সব রংই পছন্দ করেন যেগুলির রয়েছে বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। মহাদেবের প্রিয় রং
তিনটি—
-
১। সাদা: মহাদেবের
পুজোয় সাদা ফুল দেওয়া হয়। এই রং তাঁর বিশেষ পছন্দের বলে বিশ্বাস করেন ভক্তেরা।
সাদা রঙের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শান্তি ও সরলতার বার্তা। এটি শুদ্ধতা এবং পবিত্রতারও
প্রতীক। শিব সংসারের চাকচিক্য ও লৌকিক বিষয় থেকে দূরে থাকেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
সাদা রং তাঁর এই স্বভাবকেই তুলে ধরে।
-
২। নীল:
অমৃতমন্থনের সময় যে তীব্র বিষ উঠে আসে,
তা কণ্ঠে ধারণ করে জগৎকে রক্ষা করেছিলেন পশুপতি। নীলকণ্ঠ হয়েছিলেন
তিনি। এই কারণেই মহাদেবের ক্ষেত্রে নীল রঙের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই রং শক্তি,
ত্যাগ এবং সুরক্ষার প্রতীক। তাই শিবের প্রিয় এই রঙের নীলকণ্ঠ ফুল
দিয়ে তাঁর পুজো করা হয়।
-
৩। ভস্ম বা ছাইয়ের
রং: শ্মশানবাসী এই দেবতা ছাই বা ভস্ম মেখে থাকেন। এই রং তাঁর প্রিয় হওয়ার কারণ, এটি নশ্বরতার প্রতীক। ভস্ম আমাদের
মনে করিয়ে দেয় যে জীবন ক্ষণস্থায়ী, তাই অহঙ্কার ত্যাগ করতে
হবে। শিবের এই রূপ আমাদের বিনয়ের শিক্ষা দেয়। জাগতিক বিষয়ে নিস্পৃহ হতে শেখায়।