১৪৩৩ বঙ্গাব্দে পা
দিলাম আমরা। নতুন বছরে সব কিছু ভাল হোক এমন আশা সকলের মনেই থাকে। ব্যক্তিজীবনে
সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক, সে বিষয়ে আমরা যেমন যত্নশীল হই, একই ভাবে চাই কর্মজীবনেও উন্নতি।
চাকরি বা ব্যবসা, যিনি যা-ই করুন না কেন, সফল পেশাগত জীবনের আকাঙ্ক্ষা থাকে
প্রত্যেকের। এ বিষয়ে আমাদের সাহায্য করতে পারে জ্যোতিষশাস্ত্র। এমন কিছু কার্যকরী
কৌশল রয়েছে, যেগুলি পালন করলে আপনার কর্মজীবনের যাত্রাপথ মসৃণ হয়ে উঠবে। সাফল্যের শিখরে
পৌঁছোতে পারবেন।
সেই পন্থাগুলি কী
কী জেনে নিন—
- ১। সকালে ঘুম থেকে
ওঠার পরই বিশেষ একটি উপায় পালন করলে সৌভাগ্য আসবে আপনার কর্মজীবনে। ঘুম ভাঙার পর
দুই তালু ঘষে সেটির দিকে কিছু ক্ষণ তাকিয়ে থাকুন। জ্যোতিষমতে, ধন ও সমৃদ্ধির দেবী
লক্ষ্মীর বাস এই স্থানে। এ ছাড়াও এই সময় গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ বা ভক্তিগীতি শোনা
যেতে পারে। এর ফলে ইতিবাচক চিন্তায় মন ভরে উঠবে।
- ২। বজরংবলী
সঙ্কটমোচন করেন, এমনটাই বিশ্বাস করে থাকেন তাঁর ভক্তেরা। কর্মক্ষেত্রে যদি কোনও
সমস্যার সম্মুখীন হন বা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারেন, তবে হনুমানজির আরাধনা করায় উপকার
মিলতে পারে। দিনে অন্তত দু’বার করে হনুমান
চালিশা পাঠ করলে বজরংবলী রক্ষা করে থাকেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
- ৩। ডান হাতে চারটি
লবঙ্গ নিন এবং ‘ওঁ শ্রী হনুমতে নমঃ’ মন্ত্রটি ২১ বার জপ করতে করতে সেগুলো একটি
লেবুর মধ্যে বিদ্ধ করুন। তার পর, সারা দিন লেবুটি আপনার পকেটে বা ব্যাগে রাখুন। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই
টোটকাটি পালন করলে ইতিবাচক শক্তি আকর্ষিত হয় এবং ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করা যায়।
- ৪। শাস্ত্রমতে, শনিদেবের
সঙ্গে কাকের সম্পর্ক রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, শনিবারে কাককে ভাত খাওয়ালে তুষ্ট
হয়ে আশীর্বাদ করেন শনিগ্রহ। এর
ফলে কর্মজীবন সাফল্যের পথের বাধা দূর হওয়ার সম্ভাবনা। তবে, কাককে কিন্তু কোনও ভাবেই এঁটো ভাত খাওয়াবেন না,
এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
- ৫। সূর্যদেব জ্ঞান
এবং প্রাণশক্তির প্রতীক। প্রতি দিন সূর্যোদয়ের এক ঘণ্টার মধ্যে, একটি তামার পাত্রে গুড় মেশানো জল
সূর্যদেবকে নিবেদন করার নির্দেশ দিয়ে থাকে জ্যোতিষশাস্ত্র। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, তামা সূর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই,
এই প্রথাটি পালন করলে সূর্যদেবের কৃপা লাভ করা যায়, যার দ্বারা পেশাগত জীবনে উন্নতি
হয় বলে বিশ্বাস।
- ৬। সিদ্ধিদাতা গণেশ
বিঘ্ননাশী দেবতা। তাই তাঁর অপর এক নাম বিঘ্নেশ। সব বাধাবিঘ্ন নাশ করেন তিনি, এমনটাই বিশ্বাস। জ্যোতিষমতে,
প্রতিদিন গণপতির বীজমন্ত্র জপ করলে পেশাগত জীবনের বিঘ্ন দূর হবে। আর্থিক সমৃদ্ধিও
হবে তাঁর আশীর্বাদে।
- ৭। বহু পরিশ্রমের
পরেও আশানুরূপ সাফল্য পাচ্ছেন না? এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে হলুদ। স্নানের জলে
রোজ সামান্য পরিমাণ হলুদ মিশিয়ে স্নান করুন, শুভ পরিবর্তন দেখতে পাবেন। তবে,
বাজারচলতি হলুদ গুঁড়ো ব্যবহার না করে বাড়িতে কাঁচা হলুদ এনে গুঁড়ো করে নেওয়াই
বেশি উপকারী হবে। বিশ্বাস করা হয় যে হলুদ বৃহস্পতি গ্রহের সঙ্গে সংযুক্ত এবং সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই এই সহজ কার্যকরী
প্রতিকারটি পালনের ফলে কর্মজীবনে সফলতা আসবে। কপালে হলুদের তিলক আঁকাও মঙ্গলজনক হয়
বলে বিশ্বাস।