দীর্ঘ দিন একজন মানুষের সঙ্গে মিশেও অনেক সময় সেই মানুষটিকে
আমরা ঠিক করে চিনে উঠতে পারি না। তাকে অচেনা মনে হয়। একজন মানুষকে দেখে তাঁর
সম্বন্ধে সঠিক সিদ্ধান্তে না আসতে পারলেও মানুষের তালু দেখে তাঁর সম্বন্ধে অনেক
কিছু বলে দেওয়া যায়। উক্ত মানুষটির মানসিকতা, ব্যবহার, চালচলন প্রভৃতি সম্বন্ধে নানা তথ্যের হদিস পাওয়া যায়। কেবল তালুতে থাকা
বিভিন্ন দাগ বা চিহ্ন নয়, তালুর আকৃতি বিচার করেও নির্দিষ্ট ব্যক্তির
ব্যাপারে বিভিন্ন বিষয় জানা সম্ভব। কী ভাবে, তা জেনে নিন।
- যে সকল ব্যক্তির হাতের পাতা চওড়া এবং আঙুলগুলি মোটা হয় এবং
তালুতে বিশেষ দাগ থাকে না যাঁদের, তাঁদের জীবন প্রতিবন্ধকতায় পরিপূর্ণ হয়। যে কোনও
ক্ষেত্রে এঁদের নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। আবেগের উপর বিশেষ নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
ছোটখাটো বিষয়ে রেগে যান।
- বর্গাকার তালুর ব্যক্তিরা সরল প্রকৃতির হন। এঁরা নিয়মের
বাইরে গিয়ে কোনও কাজ করতে পছন্দ করেন না। সময়ের কাজ সময়ে করে ফেলতে পছন্দ করেন।
কাজ জমিয়ে রেখে আলসেমিতে সময় কাটানো এঁদের আসে না। বয়োজ্যষ্ঠদের প্রতি এঁরা
অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল হন। বাড়ি হোক বা কর্মক্ষেত্র, সব ক্ষেত্রে এঁরা নম্রতার
সঙ্গে কথা বলেন। ঝামেলায় জড়াতে ভালবাসেন না। চেষ্টা করেন বাগ্বিতণ্ডা এড়িয়ে
চলতে।
- যে সকল জাতক-জাতিকার তালু কব্জির কাছের অংশে চওড়া এবং
সামনের দিকটি সরু মতো হয়, তাঁরা অত্যন্ত বাস্তববাদী হন। এঁরা মন নয়, মাথার কথামতো
কাজ করতে ভালবাসেন। তবে ধৈর্য ধরে কাজ করতে পারেন না এঁরা। অল্পতেই ধৈর্য হারিয়ে
ফেলেন। পেশাজীবনে এঁরা দারুণ উন্নতি করতে পারেন।
- ত্রিভুজাকার তালুর ব্যক্তিদের সৃজনশীল কাজ, শিল্পের প্রতি
ঝোঁক থাকে। এঁদের হাতের কাজ খুব ভাল হয়। এই সকল ব্যক্তি যে কোনও জিনিস নিয়ে গভীরে গিয়ে চিন্তা করতে ভালবাসেন। অপরের
প্রতি এঁরা অত্যন্ত সহমর্মী হন।
- সরু বা আয়তাকার তালু যাঁদের, তাঁরা পরিশ্রম করার ব্যাপারে
কখনও পিছপা হন না। এঁরা যে কোনও কাজ দায়িত্ব নিয়ে করতে ভালবাসেন। কঠোর পরিশ্রমের
দ্বারা এই সকল জাতক-জাতিকা নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম হন। এঁরা সকলের
সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পছন্দ করেন।