এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত।
এক শিশুকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় উত্তাল বিহারের দ্বারভাঙা। রবিবার সকালে শিশুটির দেহ একটি পুকুরে ভাসতে দেখেন স্থানীয়েরা। তার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। শনিবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিল শিশুটি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করতেই ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রামবাসীরা তাদের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। পাল্টা লাঠি চালায় পুলিশও। ফলে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দ্বারভাঙা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যাবেলায় বাড়ির সামনে শিশুটি এবং তার দুই সঙ্গী খেলছিল। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। রাতভর খোঁজাখুঁজি চলে। রবিবার সকালে গ্রামেরই একটি পুকুরে শিশুটির দেহ ভাসতে দেখা যায়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে অপহরণ করে। তার সঙ্গে থাকা বাকি দুই শিশুকেও অপহরণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা কোনও রকমে পালিয়ে এসে বাড়িতে বিষয়টি জানায়। পুলিশকে ওই দুই শিশু জানিয়েছে, তারা অভিযুক্তকে চেনে। এর পরই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করে। সেটি সংগ্রহ করে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়। তার পরই তাঁর বাড়িতে গিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তের জামায় রক্তের দাগ মিলেছে। সেটি শিশুটির কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির দেহে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তবে ধর্ষণ কি না, রিপোর্ট হাতে আসার পরই স্পষ্ট হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দ্বারভাঙা। রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয়েরা। তার পরই পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়।