—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় চাষের সময়ে গুলিতে মারা যাওয়া কৃষক হাওগিন লহুভুমের মৃত্যুর পরে চলছিল বন্ধ, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। চার দিন পরে শনিবার তাঁর শেষকৃত্যে জড়ো হয়েছিলেন কুকিরা। কিন্তু সেই দিনই ফের গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক কুকি গ্রাম-স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দু’জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
পুলিশ এ দিন জানায়, তামেংলং জেলার লাসান কুকি গ্রাম এবং কাংপোকপি জেলার লংকা লিয়াংমেই নাগা গ্রামের সীমানা অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে সরকারি তরফে কারও হতাহত হওয়া সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সশস্ত্র নাগা হামলাকারীরা কুকি স্বেচ্ছাসেবকদের লক্ষ্য করে বিনা প্ররোচনায় গুলি চালায়। বিকেলের পর থেকে ফের লংকায় নাগা ও কুকিদের মধ্যে নতুন করে তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়েছে।
এ দিন প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও শতাধিক মানুষ ফাইজাং এলাকার শহিদ সমাধিস্থলে হাওগিন লহুভুমের শেষকৃত্যে অংশ নেন। হাজির থাকেন যৌথ মঞ্চ কোটু, কুকি ইনপি মণিপুরের সদস্যরাও। সৎকারের পরে জেলায় বন্ধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লাসান ও লংকায় গ্রাম-স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যুর পরে বন্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে কুকি সংগঠনগুলি অনির্দিষ্ট কালের অর্থনৈতিক অবরোধও ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি, কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে, অপহৃত ৬ নাগার হত্যায় তাদের হাত নেই। নাগাদের অপহরণ ও হত্যার ঘটনার দায় এখনও কেউ নেয়নি।
এ দিকে, মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক অভিযানে ৩ জঙ্গি-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। মণিপুরের নবনিযুক্ত ডিজিপি মুকেশ সিংহ ইম্ফল পূর্ব জেলা পুলিশ সদর দফতর পরিদর্শন করে আইন-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। মণিপুরের পাহাড়ি ও উপত্যকা এলাকায় মোট ১১৬টি নাকা ও চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে। ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক-সহ যানবাহনের নিরাপদ চলাচলের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী এসকর্ট পরিষেবা দিচ্ছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে