Delhi Rape and Murder Case

আমলা-কন্যাকে ধর্ষণ করে খুন: ৪০ মিনিট ঘরে ছিলেন পরিচারক, আলমারি থেকে টাকা নেন, পোশাক বদলান, তার পর পালান

পুলিশ জানিয়ছে, প্রতি দিনের মতো আমলা এবং তাঁর স্ত্রী প্রাতর্ভ্রমণ এবং জিমে গিয়েছিলেন। ভোরবেলা তাঁরা বেরিয়ে যেতেই পরিচারক আমলার বাড়িতে ঢোকেন। তখন বাড়িতে তাঁর কন্যা একাই ছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৯
Share:

প্রতীকী ছবি।

২২ এপ্রিল, সকাল ৮টা। দিল্লির ভিভিআইপি এলাকায় এক আমলা-কন্যার দেহ উদ্ধার হল বাড়ি থেকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে আমলার প্রাক্তন পরিচারকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে দিল্লিতে। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, কী ভাবে কড়া নিরাপত্তায় মোড়া বাসভবনে ঢুকে এমন কাণ্ড ঘটাতে পারলেন ওই পরিচারক।

Advertisement

পুলিশ জানিয়ছে, প্রতি দিনের মতো আমলা এবং তাঁর স্ত্রী প্রাতর্ভ্রমণ এবং জিমে গিয়েছিলেন। ভোরবেলা তাঁরা বেরিয়ে যেতেই পরিচারক আমলার বাড়িতে ঢোকেন। তখন বাড়িতে তাঁর কন্যা একাই ছিলেন। বুধবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে কৈলাস হিল এলাকায় অভিযুক্ত ওই পরিচারককে দেখা যায়। ৬টা ৪৯ মিনিটে আমলার বাড়িতে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ৪০ মিনিট ঘরের ভিতরে ছিলেন। প্রথমে আমলা-কন্যাকে ধর্ষণ করেন। তাঁর মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে খুন করেন। আলমারি থেকে আড়াই লক্ষ টাকা লুট করেন। পোশাক বদলান। তার পর আমলার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, আমলার বাড়িতে আট মাস কাজ করেছিলেন অভিযুক্ত। মাস দেড়েক আগে তাঁকে কাজ থেকে বার করে দেওয়া হয়। এক জুনিয়র অফিসারের সুপারিশে অভিযুক্তকে কাজে রেখেছিলেন আমলা। কিন্তু পরে জানা যায়, অভিযুক্তের জুয়ায় আসক্তি ছিল। ধারদেনা করে জুয়া খেলতেন। তার পরই তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আট মাস কাজের সুবাদে আমলার বাড়ির খুঁটিনাটি জানতেন অভিযুক্ত। ফলে খুব সহজ হয়েছিল আমলার বাড়িতে প্রবেশের পথ। শুধু তা-ই নয়, পরিচারক জানতেন কোন সময় আমলা এবং তাঁর স্ত্রী জিমে যান। সেই সময়টাকেই বেছে নিয়েছিলেন এই কর্মকাণ্ডের জন্য। আগের দিন রাতেই দিল্লি চলে আসেন অভিযুক্ত। ১৩ হাজার টাকায় তিনটি ফোন বিক্রি করে সেই টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করেন। তার পর রাজস্থান থেকে দিল্লি আসেন। অভিযোগ, গাড়ির টাকা না মিটিয়েই পালিয়ে যান। দক্ষিণ দিল্লির শ্রীনিবাস পুরীর কাছে নামেন। তার পর হেঁটে সেখান থেকে আমলার বাড়িতে যান। অভিযুক্ত জানতেন ওই সময় আমলার বাড়িতে তাঁর কন্যা একা থাকেন। মূল প্রবেশদ্বারে ওই সময় কোনও নিরাপত্তারক্ষীও থাকেন না। এই তথ্য আগে থেকেই জানতেন।

Advertisement

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আমলার পরিবারের সদস্যেরা বাইরে কোথাও গেলে পরিচারকদের জন্য একটি চারি রেখে যেতেন যাতে তাঁরা এসে কাজ করতে পারেন। সেই চাবি রাখা থাকত দরজার সামনে জুতোর র‌্যাকে। এটা ভাল ভাবে জানতেন অভিযুক্ত। সেখান থেকে চাবি নেন, তার পর ঘরে ঢোকেন। প্রথমে আমলা-কন্যার উপর হামলা চালান। তার পর তাঁর দেহ টেনে নিয়ে আসেন আলমারির কাছে। ওই আলমারির পাসকোড ছিল তিন জনের কাছে। আমলা, তাঁর স্ত্রী এবং আমলা-কন্যার কাছে। স্ক্যানারে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে আলমারি খুলত। আমলা-কন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের পর তাঁর দেহ টেনে নিয়ে এসে আঙুলের ছাপে আলমারি খোলেন। তার পর সেখান থেকে টাকা নেন। তার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি অটোতে চেপে পালম রেলস্টেশনে যান। সেখান থেকে ট্রেনে চেপে পালানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ট্রেন না পাওয়ায় একটি হোটেলে ওঠেন। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement