সের্জিয়ো গোর। — ফাইল চিত্র।
সের্জিয়ো গোর দিল্লির মাটিতে পা রাখার এক মাসের মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে সমঝোতা হয়ে যাওয়া নেহাত কাকতালীয় নয়। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত গোরের ব্যক্তিগত সমীকরণ এ ব্যাপারে অনেকটাই সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
ট্রাম্পের ঘরোয়া বৃত্তে যে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, গোর তাঁদের মধ্যে অন্যতম। স্নায়ু টানটান, কখনও সংঘাতপূর্ণ দর কষাকষির মধ্যে গোর ভারতের আবেগ, অভিপ্রায় এবং আশঙ্কাগুলি হোয়াইট হাউসে সদর্থক ভাবেই পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন বলে মনে করছে সাউথ ব্লক। তাঁর সেই চেষ্টার ফলে জট ছাড়ানো সহজ হয়েছে কিছুটা।
ভারতে রাষ্ট্রদূত হয়ে আসার আগে গোর ছিলেন ট্রাম্পের সহকারী সচিব এবং হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট অফিসের ডিরেক্টর। যখন তিনি নয়াদিল্লিতে দৌত্যের দায়িত্ব নিলেন, ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্ক তখন তলানিতে। দ্রুত মুম্বই গিয়ে দেশের বাণিজ্য কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন গোর। তাদের চাহিদা এবং আশঙ্কা বুঝতে চেষ্টা করলেন। ৫০ শতাংশ শুল্কের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা কী ভাবছেন, তার খতিয়ান নিলেন। তাঁদের উদ্বেগ তিনি ট্রাম্প পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন, তাঁর প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের আস্থা থাকার কারণে। সেটা অন্য কোনও নিছক কূটনীতিকের পক্ষে সম্ভব ছিল না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বক্তব্য, “গোর তাঁর নিজের অফিস এবং ট্রাম্পের অফিসের মধ্যে সেতু তৈরি করেছিলেন। আর তাই তিনি আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বোঝাপড়া চূড়ান্ত হল।” এই তিন মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন গোর। শুধু মুম্বইয়ের বৈঠকই নয়, আমেরিকান কংগ্রেসের সদস্য এবং সামরিক কর্তাদেরও একের পর এক ভারত সফর করিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গেও গোরের ব্যক্তিগত সখ্য রয়েছে।
এর আগে লবি সংস্থা ভাড়া করলেও তেমন লাভ হয়নি দিল্লির।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে