—প্রতীকী চিত্র।
প্রায় তিন বছর সরকারি হোমে থাকার পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে গেল তিন শিশুকন্যা। বুধবার এজলাস থেকেই তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। সন্তানদের ভালবাসা ও যত্নে রাখার এবং বড় করে তোলার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দেওয়া ছাড়াও ভবিষ্যতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না করতে ওই দম্পতিকে পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
আদালতের খবর, বেলঘরিয়া থানা এলাকার ওই দম্পতির বিরুদ্ধে সন্তানদের মারধর ও অযত্নের অভিযোগ করেছিলেন এক প্রতিবেশী। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা রুজু করে দম্পতির কাছ থেকে সন্তানদের নিয়ে শিশুকল্যাণ সমিতির কাছে পেশ করেছিল পুলিশ। সমিতি ওই শিশুদের সল্টলেকের এক সরকারি হোমে পাঠায়। সন্তানদের ফিরে পেতে হাই কোর্টে মামলা করেন দম্পতি। তাঁদের আইনজীবী অংশুমান চক্রবর্তীর অভিযোগ, পুলিশ ও শিশুকল্যাণ সমিতির কাছে আবেদন করা সত্ত্বেও সন্তানদের ফেরত পাওয়া যায়নি। এর পরেই ওই শিশুদের বক্তব্য জানতে তাদের কোর্টে নিয়ে আসতে বলে ডিভিশন বেঞ্চ।
এ দিন সরকারি অফিসারেরা তিন শিশুকে আদালতে আনেন। বড় জনের বয়স ১১ বছর, মেজো জনের আট বছর ও ছোট জনের বয়স ছ’বছর। বিচারপতি বসাক ও বিচারপতি রশিদি তিন জনের সঙ্গে কথা বলেন। তিন জনই জানায়, তারা বাবা-মায়ের কাছেই থাকতে চায়। তার পরেই সন্তানদের ফিরিয়ে দেয় আদালত।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই দম্পতির মধ্যে অশান্তির জেরে সন্তানদের মারধর করা হত ও পরিচর্যায় অবহেলা করা হত। সে সব দেখেই প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেছিলেন। সে সবও শুনেছে আদালত। এ দিন সন্তানদের ফেরত দিয়ে ওই দম্পতির প্রতি আদালতের নির্দেশ, তাদের লেখাপড়ার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। তিন মাস অন্তর তিনটি শিশুর কল্যাণ, পরিচর্যা ও বিকাশের বিষয়ে জুভেনাইল জাস্টিস কমিটিকে রিপোর্ট দেবেন প্রবেশনারি অফিসার। ভবিষ্যতে ওই শিশুদের পরিচর্যায় ফের গাফিলতির অভিযোগ পেলে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে পারবে শিশুকল্যাণ সমিতি ও জুভেনাইল জাস্টিস কমিটি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে